যশোরের সাতটি নদ-নদীতে কম উচ্চতার ১২টি সেতু নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। অপরিকল্পিত এসব সেতু নির্মাণ বন্ধে নদী বাঁচানোর দাবি জানিয়েছে জেলার পাঁচটি সংগঠন। জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে গতকাল তারা প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপিও দিয়েছেন। সংগঠনগুলো হলো ভৈরব নদ সংস্কার আন্দোলন, কপোতাক্ষ বাঁচাও আন্দোলন, চিত্রা নদী বাঁচাও আন্দোলন, মুক্তেশ্বরী বাঁচাও আন্দোলন ও ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটি।
স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, যশোরের মণিরামপুর উপজেলার টেকারঘাট এলাকায় টেকা নদীর ওপর পুরনো সেতু ভেঙে সে জায়গায় নতুন সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। পানি থেকে এ সেতুর উচ্চতা খুবই কম। একই উপজেলার হরিদাসকাটি ইউনিয়নে মুক্তেশ্বরী নদীর দেড় কিলোমিটারের মধ্যে কম উচ্চতার দুটি নতুন সেতু নির্মাণের কাজ চলছে। এর মধ্যে সুবলকাঠি সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। এখন চলছে সংযোগ সেতু নির্মাণকাজ। হাজরাইল সেতুর নির্মাণ চলমান। দুটি সেতু নির্মাণ করতে মুক্তেশ্বরী নদীতে আড়াআড়িভাবে মাটির বাঁধ দেয়া হয়েছে। একই উপজেলার নেহালপুর এলাকায় শ্রী নদীর ওপর সেতু নির্মাণকাজ সম্প্রতি শেষ হয়েছে। মণিরামপুর ও চিনাটোলা এলাকায় হরিহর নদের ওপর পুরনো সেতু ভেঙে কম উচ্চতায় দুটি সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। যশোর সদর উপজেলার দাইতলা ও বাঘারপাড়া উপজেলার ছাতিয়ানতলায় ভৈরর নদের ওপর নির্মিত পুরনো দুটি সেতু ভেঙে সে জায়গায় কম উচ্চতার দুটি সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। বাঘারপাড়া উপজেলার খাজুরা ও সীমাখালীতে চিত্রা নদীর ওপর কম উচ্চতার একটি সেতুর নির্মাণকাজ চলছে। শার্শা উপজেলায় বেতনা নদীর এক কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে কাজীরবেড়-ইসলামপুর মোড়ে ও শেয়ালঘোনা, গাতিপাড়া ও নিশ্চিন্তপুর গ্রামের সংযোগস্থলে কম উচ্চতার দুটি সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে।
আরো বলা হয়েছে, যশোরের সাতটি নদীতে কম উচ্চতার ১২টি সেতু এতটাই নিচু করে নির্মাণ করা হচ্ছে, বর্ষাকালে কোনো নৌযান সেগুলোর নিচ দিয়ে চলাচল করতে পারে না। কোথাও কোথাও শুষ্ক মৌসুমেও নৌযান চলতে পারবে কিনা সংশয় রয়েছে। কম উচ্চতার সেতু নির্মাণ নৌ-পথগুলো কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়বে। নদীগুলোর কোনোটির ক্ষেত্রে সেতুর উচ্চতা হওয়ার কথা পানির স্তর থেকে গার্ডারের নিচ পর্যন্ত ১৬ ফুট, কোনোটির ২৫ ফুট। কিন্তু নির্মাণাধীন সব সেতুর উচ্চতা হচ্ছে ৪ দশমিক ৫৯ থেকে ১১ দশমিক ৫০ ফুট পর্যন্ত। ১০টি সেতু নির্মাণ করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এবং দুটি সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের প্রকল্পের আওতায়। সেতু নির্মাণ করতে হলে নৌযান চলাচলের নিশ্চয়তার জন্য বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) থেকে ছাড়পত্র নিতে হয়। সেই ছাড়পত্রও নেয়নি এলজিইডি ও সওজ। বাংলাদেশ নদী কমিশন ও বিআইডব্লিউটিএর পক্ষ থেকে এসব সেতুর উচ্চতা নিয়ে আপত্তি জানানোর পরও তা আমলে নেয়া হয়নি। কম উচ্চতার এসব সেতু নির্মাণ বন্ধ করে নদী বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে স্মারকলিপিতে।
জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খানের কাছে স্মারকলিপি দেয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন নদী রক্ষা আন্দোলন কমিটির নেতা ইকবাল কবির জাহিদ, অধ্যাপক ইসরারুল হক, আবদুর রহিম, শুকুর আলী, মীর ফারুক আহমেদ, শাহিন আহমেদ প্রমুখ।










