এশিয়া কাপ ক্রিকেটে আফগানিস্তানের বিপক্ষে নকআউটে রূপ নেয়া ম্যাচে মেহেদী হাসান মিরাজ ও নাজমুল হোসেন শান্তর সেঞ্চুরিতে ভর করে ৮৯ রানের জয় তুলে নিয়ে সুপার ফোরে উঠে গেল বাংলাদেশ। ৩৩৫ রানের বিশাল টার্গেট তাড়া করতে নেমে আফগানরা ৪৪.৩ ওভারে ২৪৫ রানে অলআউট হয়ে যায়। এ জয়ের পর বাংলাদেশের নিট রানরেট দাঁড়িয়েছে (+) ০.৩৭৩। শ্রীলংকার (+) ০.৯৫১ আর আফগানিস্তানের মাইনাস (-) ১.৭৮০। অর্থাৎ বাংলাদেশ আর কোনোভাবেই গ্রুপের তলানিতে নামবে না। এভাবেই টাইগারদের সুপার ফোরে খেলাও নিশ্চিত হয়ে যায়।
গতকাল লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে বাঁচা-মরার ম্যাচে ৬৩ রানে দুই উইকেট পতনের পর শান্ত ও মিরাজ তৃতীয় উইকেটে ১৯০ বলে ১৯৪ রানের বিশাল জুটি গড়ে দলকে শক্তিশালী অবস্থান গড়ে দেন। মিরাজ ১১৯ বলে ১১২ রান করে রিটায়ার্ড হার্ট হন, আর শান্ত সেঞ্চুরির (১০৫ বলে ১০৪ রান) পরপর রানআউটের শিকার হন। দুজনের স্মরণীয় ব্যাটিং পারফরম্যান্সের দিনে ৫০ ওভারশেষে টাইগারদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩৩৪/৫। এটা ওয়ানডেতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের রেকর্ড সংগ্রহ।
আফগানদের বিপক্ষে বাংলাদেশের আগের সর্বোচ্চ সংগ্রহ ৩৩১ রান এসেছিল গত জুলাইয়ে, চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে। সব মিলিয়ে ওয়ানডেতে আফগানদের বিপক্ষে তৃতীয়বারের মতো তিনশোর্ধ্ব সংগ্রহ পেল বাংলাদেশ। ২০২২ সালে চট্টগ্রামে ৪ উইকেটে ৩০৬ রান তুলেছিল টাইগাররা।
শান্ত ও মিরাজের বীরত্বের পর বাকি কাজটুকু সেরেছেন বাংলাদেশের পেস বোলাররা। তাসকিন আহমেদ (৪/৪৪), শরিফুল ইসলাম (৩/৩৬) ও হাসান মাহমুদ (১/৬১) মিলে আটটি উইকেট ভাগাভাগি করেন। মিরাজ নেন একটি উইকেট। রানআউট হয়েছেন একজন। ইব্রাহিম জাদরান সর্বোচ্চ ৭৫ রান করেন। এছাড়া হাশমতউল্লাহ শহিদি ৫১ রান করেন।
এর আগে গতকাল বাংলাদেশের বড় সংগ্রহের ভিতটা গড়ে দেন নাঈম শেখ (৩২ বলে ২৮ রান)। মেহেদী হাসান মিরাজকে নিয়ে ইনিংসের শুরু থেকেই দারুণ খেলছিলেন তিনি। দশম ওভারের শেষ বলে আউট হয়ে যান নাঈম। ৫ বাউন্ডারিতে ঝলমলে ইনিংসটা সাজিয়েছেন বামহাতি এ ব্যাটার। যদিও মুজিব উর রহমানের অফস্ট্যাম্পের বাইরে পড়া বলটি তাকে পরাস্ত করে স্ট্যাম্প ভেঙে দেয়। এর তিন বল পর আরেক উইকেটের পতন ঘটে। গুলবাদিন নায়েবের বলে স্লিপে হাশমতউল্লাহ শহিদিকে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরে যান তৌহিদ হৃদয়। দুই বল খেলে কোনো রান করতে পারেননি তিনি।
এরপর ওপেনার মিরাজের সঙ্গে শান্তর স্বপ্নের জুটির সূচনা। দারুণ ফর্মে থাকা শান্ত গত ম্যাচে দলের দুঃসময়ে করেছেন ৮৯ রান। কালও হাসল তার ব্যাট। করলেন দুরন্ত এক সেঞ্চুরি। লোয়ার অর্ডার থেকে উঠিয়ে ওপেনিংয়ে নামানো মিরাজ সুযোগটা দারুণভাবে কাজে লাগালেন। ৬৫ বলে ফিফটি তুলে নেন। এরপর সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ১১৫ বলে। শান্ত ফিফটি করেন ৫৭ বলে। সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ১০১ বলে। দুজন ১১৭ বলে ১০০ রান যোগ করেন। পরের ৯৪ রান করেন ৭৩ বলে। মিরাজ রিটায়ার্ড হার্ট না হলে জুটিটা আরো অনেক বড় হতে পারত।
শান্ত ও মিরাজের ১৯৪ রান আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সেরা পার্টনারশিপ। সর্বোচ্চ ২০২ রান গত বছর চট্টগ্রামে করেছিলেন মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাস। এদিকে, আফগানদের গত বছর আরেকটি বড় পার্টনারশিপের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন মিরাজ। চট্টগ্রামে আফিফ হোসেনকে নিয়ে সপ্তম উইকেটে তিনি করেছিলেন ১৭৪ রান।
কাল ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ওয়ানডে সেঞ্চুরি পান মিরাজ। গত বছর মিরপুরে ভারতের বিপক্ষে করেছিলেন প্রথম সেঞ্চুরি। শান্তও করেছেন দ্বিতীয় ওয়ানডে সেঞ্চুরি।
গতকাল বাঁচা-মরার ম্যাচে বাংলাদেশ দলে তিনটি পরিবর্তন ছিল। ব্যাটার তানজিদ হাসান তামিম, অলরাউন্ডার শেখ মেহেদী হাসান ও পেসার মুস্তাফিজুর রহমানের জায়গায় দলে এসেছেন ব্যাটার শামীম হোসেন, ব্যাটার আফিফ হোসেন ও পেসার হাসান মাহমুদ। ওয়ানডে অভিষেকে ৬ বলে ১১ রান করে রানআউটের শিকার হন শামীম।
শেষ দিকে অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম ও সাকিবের ব্যাটে ভর করে বাংলাদেশের বড় সংগ্রহ নিশ্চিত হয়। মুশফিক ১৫ বলে ২৫ ও সাকিব ১৮ বলে ৩২ রান করে অপরাজিত থাকেন। মুশফিক রানআউটের শিকার হন।
পাল্লেকেলেতে প্রথম ম্যাচে শ্রীলংকার কাছে ৫ উইকেটে হেরে বিপাকে পড়ে যায় বাংলাদেশ। কাল তাই জয়ের বিকল্প ছিল না টাইগারদের সামনে।
ম্যাচসেরা মিরাজ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি সত্যিই অনেক খুশি। টিম ম্যানেজমেন্ট আমার ওপর আস্থা রেখেছিল। উইকেট বেশ ভালো ছিল এবং বল সহজেই ব্যাটে আসছিল, তাই আমি লাইন বরাবর খেলতে চেয়েছি। শান্তর সঙ্গে আমার পার্টনারশিপটা দারুণ ছিল।’
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ৩৩৪/৫ (মিরাজ ১১২, শান্ত ১০৪, সাকিব ৩২*; গুলবাদিন ১/৫৮)। আফগানিস্তান: ৪৪.৩ ওভারে ২৪৫/১০ (ইব্রাহিম ৭৫, শহিদি ৫১; তাসকিন ৪/৪৪, শরিফুল ৩/৩৬)। ফল: বাংলাদেশ ৮৯ রানে জয়ী। ম্যাচসেরা: মেহেদী হাসান মিরাজ (বাংলাদেশ)।










