মধুপুরের শালবন বাঁচাতে সরকার বদ্ধপরিকর। সে লক্ষ্যে এ বছর ৭৫০ একর আর আগামী তিন বছরে ৬ হাজার ৬১০ একর জায়গায় শালবন রোপণ করার ঘোষণা দিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

টাঙ্গাইল বন বিভাগের মধুপুর জাতীয় উদ্যানের দোখলায় আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

এ সময় পরিবশে উপদেষ্টা বলেন, শালবনের সীমা চিহ্নিতকরণের কাজ চলছে। এরই মধ্যে ‘রাজাবাড়ী’ এলাকায় সীমানা পিলার স্থাপন করা হয়েছে। শালবনে শুধু শালগাছই থাকবে। ১০০টি গাছের মধ্যে ৭০টি শাল ও ৩০টি সহযোগী গাছ থাকবে কিন্তু কোনো বিদেশী গাছ থাকবে না।

এছাড়া ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বনবাসী মানুষদের ১২৯টি মামলা প্রত্যাহার করার ঘোষণাও দিয়েছেন পরিবশে উপদেষ্টা। এ বিষয়ে তিনি বলেন, কোনোভাবে এখানকার জনগোষ্ঠীদের হয়রানি করা যাবে না। এটি কোনো প্রতিশ্রুতি নয়, একটি ঘোষণা।

বনবিনাশ রোধে বনবান্ধব কর্মসূচি গ্রহণ ও প্রথাগত বনবাসীদের অধিকার নিশ্চিত করার কথাও জানান তিনি। সেই সঙ্গে গারো জনগোষ্ঠীর উদ্দেশে তিনি বলেন, শত শত একর জমিতে আনারস, কলা চাষ করা যাবে না। হরমোন ও কীটনাশক ব্যবহার করে শালবন নষ্ট করার সুযোগ নেই। বন বিভাগের প্লট কেউ পাবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, নদীভাঙা বা দরিদ্রদের জন্য বন্দোবস্ত হবে খাসজমিতে, বনভূমিতে নয়।

আলোচনার আগে উপদেষ্টা স্থানীয় শিক্ষার্থীদের নিয়ে এক হাজার শালগাছের চারা রোপণের মাধ্যমে শালবন পুনঃপ্রতিষ্ঠার কার্যক্রম শুরু করেন। পরে তিনি রাজাবাড়ী এলাকায় ‘স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণের মাধ্যমে মধুপুর শালবন পুনঃপ্রতিষ্ঠা’ প্রকল্পের উদ্বোধন, শালবনে ময়ূর ও পুকুরে কাইট্টা মাছ অবমুক্ত করেন।

আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য দিবসের এ আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী। মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী রেজা খান। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. নাভিদ শফিউল্লাহ, অধ্যাপক ড. ফিরোজ জামান। আরো উপস্থিত ছিলেন মধুপুরের জয়েনশাহী আদিবাসী পরিষদের সাবেক সভাপতি অজয় মৃ ও সভাপতি ইউজেন নকরেক।