বাগেরহাটের মোংলার পশুর নদে ৩৫০ টন কয়লাসহ ডুবে গেছে এমভি ফারদিন-১ নামের একটি কার্গো। সোমবার দিবাগত রাতে বন্দরের হারবাড়িয়ার-৯ নম্বর বয়া এলাকায় পানামা পতাকাবহী জাহাজ হ্যান্ডিপার্কের ধাক্কায় কার্গোটি ডুবে যায়। এ ঘটনায় কার্গোয় থাকা সাত নাবিকের পাঁচজন নিখোঁজ হন।

নিখোঁজ নাবিকরা হলেন, পিরোজপুর জেলার স্বরূপকাঠি উপজেলার বোটমাস্টার মহিউদ্দিন, একই এলাকার রবিউল, নূর আলম, ভান্ডারিয়া উপজেলার জিহাদ ও মোংলা এলাকার সামসু। তবে এদের মধ্যে কোন দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, তা তাত্ক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। গতকাল সন্ধ্যায় এ দুই নাবিকের মরদেহ উদ্ধার করে কোস্টগার্ড। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাকি তিন নাবিকের খোঁজ মেলেনি। নিহতদের মোংলা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সোমবার রাতেই বাকি দুই নাবিককে উদ্ধার করা হয়। তারা হলেন, পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া উপজেলার পাইটখালী গ্রামের রায়হান চৌধুরী, বাগেরহাট জেলার মোংলা উপজেলার মাকরডোন নারিকেল তলা এলাকার মো. রুবল।

উদ্ধার হওয়া নাবিক রায়হান চৌধুরী বলেন, আমরা কয়লা নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ মাদার ভ্যাসেল আমাদের কার্গোটিকে ধাক্কা দেয়। মুহূর্তের মধ্যে কার্গোটি ডুবে যায়।

মোংলাস্থ শ্রমিক ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স টি হকের সুপার ভাইজার মো. লোকমান হোসেন বলেন, বন্দরে অবস্থানরত বিদেশী জাহাজ ‘এলিনা বি’ থেকে ৩৫০ টন কয়লা নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছিল কার্গো জাহাজ ফারদিন-১। পানামা পতাকাবহী হ্যান্ডিপার্ক জাহাজ (মাদার ভ্যাসেল) পণ্য খালাস শেষে বন্দর ত্যাগ করার সময় বিপরীত থেকে আসা কয়লাবোঝাই কার্গোটিকে ধাক্কা দেয়। এতে কার্গোটি ডুবে যায়। এ সময় অন্য একটি লঞ্চ এসে কার্গোয় থাকা সাতজনের মধ্যে দুজনকে উদ্ধার করে।

কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের মোংলার গোয়েন্দা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. হাসানুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে রাতেই কোস্টগার্ডের সদস্যরা ওই এলাকায় পৌঁছে। নিখোঁজ পাঁচ নাবিকের মধ্যে আমরা দুই নাবিকের মরদেহ উদ্ধার করেছি। এখনো তিন নাবিক নিখোঁজ। তাদের উদ্ধারে কোস্টগার্ডের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

হারবার মাস্টার কমান্ডার শেখ ফখরউদ্দিন বলেন, বাংলাদেশ শিপিং আইন অনুযায়ী ডুবে যাওয়া কার্গোটির বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহনের অনুমতি ছিল না। তারা বেআইনিভাবে কয়লা পরিবহন করেছে। এসব বিষয়ে মালিকদের আরো বেশি সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেন বন্দরের এ কর্মকর্তা।