রাজশাহীতে নির্মিত হতে যাচ্ছে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ভূ-উপরস্থ পানি শোধনাগার। ২০১৫ সালে এ-সংক্রান্ত প্রকল্পের খসড়া হলেও নানা কারণে পাঁচ বছর ধরে তা চূড়ান্ত হয়নি। তবে বর্তমানে প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখতে শুরু করেছে। গতকাল চীনের হুনান কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপের সঙ্গে এ-সংক্রান্ত একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে রাজশাহী পানি ও পয়োনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ (ওয়াসা)। রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ের সুরমা কনফারেন্স রুমে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

ভূ-উপরস্থ পানি শোধনাগারটি নির্মিত হলে রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকাসহ আশপাশের এলাকায় সুপেয় পানির সংকট থাকবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রকল্প পরিচালক ও রাজশাহী ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী পারভেজ মামুদ বলেন, প্রকল্পটিতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৬২ কোটি ২২ লাখ। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকার ১ হাজার ৭৪৮ কোটি এবং হুনান কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ার গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেড ২ হাজার ৩১৩ কোটির বেশি টাকা ব্যয় করবে। চার বছরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে।

তিনি বলেন, এ শোধনাগারে দৈনিক ২০ কোটি লিটার পানি শোধন হবে। ২৬ দশমিক ৫ কিলোমিটার প্রধান সঞ্চালন থাকবে। এছাড়া ৪৮ কিলোমিটার প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি পাইপ লাইনে রাজশাহী নগরীসহ আশপাশের এলাকার পৌঁছে যাবে বিশুদ্ধ খাবার পানি।

ওয়াসা সূত্র জানিয়েছে, ২০১৫ সালে এ প্রকল্পের খসড়া সম্পন্ন করা হয়। পরের বছর চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে এ নিয়ে একটি খসড়া চুক্তি স্বাক্ষর হয়। তবে সে চুক্তি দীর্ঘদিনেও গতি পায়নি। ২০১৮ সালের ১১ অক্টোবর প্রকল্পটির অনুমোদন দেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।

চীনের একটি ব্যাংকের অর্থায়নে পানি শোধনাগারটি স্থাপন করা হবে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায়। সেখানে পদ্মা নদী থেকে পানি তুলে শোধনাগারে শোধন করে পাইপের মাধ্যমে বিশুদ্ধ পানি রাজশাহী মহানগরী ও এর আশপাশের এলাকায় সরবরাহ করা হবে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী তাজুল ইসলাম এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহী সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুলতান আব্দুল হামিদ, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (অর্থ ও প্রশাসন) এসএম  তুহিনুর আলম, প্রধান প্রকৌশলী পারভেজ মামুদ প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে এলজিআরডি মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমিয়ে ভূ-উপরস্থ পানির উেসর ওপর গুরুত্ব দিয়ে এসডিজি ২০৩০-এর লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কাজ করছে সরকার।

মন্ত্রী আরো বলেন, রাজশাহী ওয়াসা এবং চায়নার হুনান কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেডের মধ্যে যে চুক্তি হয়েছে, তা সমন্বয়ের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে।