শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাষ্টমীর দিনে গতকাল রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজধানীর রামকৃষ্ণ মিশনে কুমারী পূজা দেখতে ভক্তদের ঢল নামে।

আজ শারদীয় দুর্গোৎসবের মহানবমী। এদিন মণ্ডপে মণ্ডপে বাজবে বিদায়ের সুর। মহাষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুক্রবার শুরু হয় সর্বজনীন দুর্গোৎসব। আগামীকাল বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে শারদীয় উৎসব।

সনাতন ধর্মাবলম্বীরা গতকাল কুমারী পূজায় আশীর্বাদ ও প্রার্থনা করতে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন পূজামণ্ডপসহ দেশের জেলা-উপজেলা শহরের মণ্ডপে মণ্ডপে ভিড় করেন। রাজধানীর রামকৃষ্ণ মিশনে সকালে কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়।

কুমারী পূজা দেখতে সকাল থেকেই রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠে ভিড় জমান হাজার হাজার পুণ্যার্থী। কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে দীর্ঘ লাইন ধরে প্রবেশ করতে হয়েছে এখানে। দুর্গাভক্তরা কুমারী মায়ের আরাধনায় মণ্ডপের সামনে উলুধ্বনি দিয়েছেন। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনিতে পুরো মঠ, মিশন এলাকায় ছড়িয়ে যায় শারদীয় দুর্গোৎসবের আমেজ।

দেশের বিভিন্ন স্থানে অঞ্জলি আর কুমারী পূজার আয়োজনে সুগন্ধি চন্দন, পুষ্পমালা, ধূপদীপ সমারোহে উদযাপিত হয়েছে মহাষ্টমীর অর্চনা। গঙ্গাজল, শুদ্ধ বস্ত্র আর পুষ্পাঞ্জলি মন্ত্র নিয়ে সবার মঙ্গল কামনার মন্ত্র পাঠের মধ্য দিয়ে চলে অঞ্জলি দেয়ার আচার-আচরণ।

কুমারী পূজার বৈশিষ্ট্য হলো কুমারীকে পূজা করার সময় দেখা হয় না তার ধর্ম, জাত-পাত। এখনো ঋতুবর্তি হয়নি, এমন ১ থেকে ১৬ বছর বয়সী যেকোনো মেয়েই কুমারীরূপে পূজিত হতে পারে।

দেবী দুর্গা সব নারীর মধ্যে মাতৃরূপে আছেন, এ উপলব্ধি সবার মধ্যে জাগ্রত করার জন্যই কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। ১৬ বছর পর্যন্ত কুমারীর মধ্যে মাতৃভাব প্রতিষ্ঠাই এ পূজার মূল লক্ষ্য। পরে অনুষ্ঠিত সন্ধি পূজায় ১০৮টি মাটির প্রদীপ ও ১০৮টি পদ্মফুল উৎসর্গ করে দেবীর পূজা করা হয়।