বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের (১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ড) নারী ইউপি সদস্য আরিফুন্নাহার বিউটির বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। উপকারভোগীদের কার্ড জব্দ ও স্বাক্ষর জাল করে প্রধানমন্ত্রীর খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এসব অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নাছিমা বেগম নামে এক নারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগে তিনি বলেন, সাউথখালী ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের নজরুল ইসলামের স্ত্রী আরিফুন্নাহার বিউটি ইউপি সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে আর পরিষদে যান না। নজরুল ইসলাম হাওলাদারই স্ত্রীর পক্ষে সব দায়িত্ব পালন করেন। প্রধানমন্ত্রীর খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির (১০ টাকা কেজিতে মাসে ৩০ কেজি চাল) সুবিধাপ্রাপ্ত সাতজনের কার্ড জব্দ ও স্বাক্ষর জাল করে নিজে চাল উত্তোলন করছেন দীর্ঘদিন ধরে। এলাকায় অনেক হতদরিদ্র থাকা সত্ত্বেও অনেক সচ্ছল এবং বিদেশ থাকা ব্যক্তিদেরও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির কার্ড দিয়েছেন তিনি।
এসব অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সদস্য আরিফুন্নাহার বিউটির স্বামী নজরুল ইসলাম হাওলাদার বলেন, চেয়ারম্যানের অনুমতি নিয়েই আমি আমার স্ত্রীর সব দায়িত্ব পালন করি। রেশন কার্ডের তালিকা পরিবর্তন করা হয়েছে। ফলে আমরা কার্ড সংগ্রহ করেছিলাম। চেয়ারম্যান ও নারী ইউপি সদস্যদের মাধ্যমে শনাক্ত করে ওইসব কার্ডে চাল অন্যদের দেয়া হয়। চাল আত্মসাৎ ও অনিয়মের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।
সাউথখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোজাম্মেল হোসেন বলেন, নারী ইউপি সদস্য সব কাজ করতে পারেন না, সব জায়গায় যেতে পারেন না। তাই তার স্বামীকে স্ত্রীর কাজ করার অনুমতি দিয়েছি। আর যেসব অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, তার সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নিশ্চয়তা দেন তিনি।
শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরদার মোস্তফা শাহিন জানান, একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি ওই ইউনিয়নের ট্যাগ অফিসারকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।










