বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সহিংসতা ও অস্থিরতার মধ্যে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তে সহায়তার ক্ষেত্র ও পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করতে ঢাকা সফর করবে জাতিসংঘ ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন। আগামী সপ্তাহে দলটির ঢাকায় আসার কথা রয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিবের উপমুখপাত্র ফারহান হক বৃহস্পতিবার নিয়মিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান।

বাংলাদেশে নতুন করে বিক্ষোভ ও সহিংসতার বিষয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের মন্তব্য চাওয়া হলে তার উপমুখপাত্র ফারহান হক বলেন, ‘আগের পরিস্থিতি নিয়ে যা বলেছি, আমাদের এখনকার বক্তব্যও মূলত একই রকম। সবাই শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকুন, আমরা সবসময় এ ব্যাপারটিকে উৎসাহিত করি। নিরাপত্তারক্ষী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানাই, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কেউ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন।’

ব্রিফিংয়ে অন্য এক সাংবাদিক বলেন, ‘বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. ইউনূসকে জাতিসংঘ তাদের অংশীদার মনে করে। এ কারণে দেশটির স্থিতিশীলতার বিষয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের তৎপরতা বৃদ্ধি পাবে কিনা? অন্যদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভারতে অবস্থান করে মিথ্যাচার করছেন এবং সহিংসতায় উসকানি দিচ্ছেন।’ জবাবে জাতিসংঘ মহাসচিবের উপমুখপাত্র বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রতি সমর্থনের বিষয়ে আপনি যা বলেছেন—আমি নিশ্চিত করতে পারি, আমরা প্রয়োজনে বাংলাদেশের সরকার ও জনগণকে সমর্থন করতে ইচ্ছুক।’

‘নৃশংসতা ও হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করতে জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন বাংলাদেশে যাবে। এ বিষয়ে মহাসচিবের দৃষ্টিভঙ্গি কী?’ ব্রিফিংয়ে এ প্রশ্নের জবাবে উপমুখপাত্র জানান, এ দলের কাজ কী, তা তাদের দেখতে হবে। এ পর্যায়ে দলটি সম্পর্কে তার কোনো মন্তব্য নেই।

পরে অবশ্য ফারহান হক সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ও ক্ষমতার পালাবদলের পর জাতিসংঘ থেকে কী ধরনের সহযোগিতা দেয়া যেতে পারে, তা নিয়ে সংস্থাটির মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ও ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মধ্যে বিস্তৃত পরিসরে আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে জবাবদিহির প্রসঙ্গও আছে। সাম্প্রতিক সহিংসতা ও অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা তদন্তে সহায়তার ক্ষেত্র ও পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করতে আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের একটি দল ঢাকা সফরে যাবে। মানবাধিকার সুরক্ষাকে শক্তিশালী করে এমন একটি সফল উত্তরণে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ও জনগণকে সমর্থনের জন্য জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’