ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ২০২৫ এর বিষয়ে জাতীয় সংসদে পূর্ণাঙ্গ পুনর্মূল্যায়নে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছে বাংলাদেশ ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন (বেন্ডস্টা)। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি এ দাবি জানিয়েছে।

এ সময় সংগঠনটির নেতারা ভেপ পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞাকে নীতিগত বৈষম্য বলে উল্লেখ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে বেন্ডস্টার সভাপতি সুমন জামান বলেন, ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি পদ্ধতির পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা নীতিগত বৈষম্যের সৃষ্টি করছে। সংগঠনের দাবি, বিষয়টি বর্তমানে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন। আদালত এরই মধ্যে অধ্যাদেশের ৬(গ) ধারাকে সংবিধানের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মত দিয়েছেন এবং বৈধভাবে আমদানিকৃত ভেপ পণ্য বাজেয়াপ্ত না করার নির্দেশ দিয়েছেন।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশে বর্তমানে প্রায় ১০ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ ভেপ ব্যবহার করেন। তাদের অনেকেই ধূমপানের ক্ষতি কমাতে বা ধূমপান ছাড়ার উদ্দেশ্যে এটি ব্যবহার করছেন। ভেপ নিষিদ্ধ করা হলে পুরো বাজার কালোবাজারিদের হাতে চলে যাবে। এর ফলে মানহীন পণ্যের বিস্তার ও কিশোরদের কাছে এর সহজলভ্যতা বেড়ে যাওয়ার কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি আরো বাড়তে পারে।

এ খাতের অর্থনৈতিক দিক তুলে ধরে বলা হয়, বেন্ডস্টার অধীনে শতাধিক প্রতিষ্ঠান ও ৬০০ এর বেশি স্টোর রয়েছে। সহস্রাধিক শিক্ষিত মধ্যবিত্ত পরিবারের কর্মসংস্থান এ খাতের ওপর নির্ভরশীল। বর্তমানে উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ, ব্যাংকঋণ ও কর্মচারীদের জীবিকা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বেন্ডস্টার সহসভাপতি আনিস খান, সাধারণ সম্পাদক রেজওয়ান আহমেদ ও এজিএস তৌফিক আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

তারা আরো উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কার পরিকল্পনায় যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যনীতি অনুসরণের অঙ্গীকার রয়েছে। যুক্তরাজ্য ধূমপান ত্যাগে সহায়তা হিসেবে ভেপ ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেয়। সেই আলোকে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার পরিবর্তে একটি নিয়ন্ত্রিত কাঠামো গঠন করা অধিকতর বাস্তবসম্মত হবে বলে সংগঠনটি দাবি জানায়।