অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবালের দেয়া আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে অনশন ভাঙলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। আজ বুধবার সকালে অনশনরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসুস্থরা হাসপাতাল থেকে অবশনস্থলে আসেন। পরে সকাল সোয়া ১০টার দিকে তারা পানি খেয়ে অনশন ভাঙেন।
এর আগে ভোর চারটায় শাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করতে আসেন বিশ্ববিদ্যালয়ে সাবেক শিক্ষক মুহম্মদ জাফর ইকবাল। এ সময় সঙ্গে ছিলেন তার স্ত্রী সাবেক অধ্যাপক ইয়াসমিন হক।
আন্দোলনত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার সময় জাফর ইকবাল জানান, উচ্চ পর্যায়ে তার আলোচনা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে দাবি পূরণের প্রতিশ্রুতি পেয়েছেন। এ কারণেই তিনি ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করতে এসেছেন। এ সময় অনশন না ভাঙিয়ে তিনি ফিরে যাবেন না বলেও জানান। তার অনুরোধে অবশেষে অনড় অবস্থান থেকে সরে আসেন শিক্ষার্থীরা।
শাবিপ্রবির সাবেক অধ্যাপক আরো জানান, উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে তার বাসায় আলোচনা হয়েছে। প্রতিনিধিদল প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা যা চাইছে, সেটি পূরণ হবে।
গত ১৩ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রাধ্যক্ষ জাফরিন আহমেদের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ তুলে তার পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন কয়েকশ ছাত্রী। ১৫ জানুয়ারি তাদের ওপর হামলা চালায় একটি ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মীরা। পরদিন বিকালে শিক্ষার্থীরা আইসিটি ভবনে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। এ সময় পুলিশ তাদের লাঠিপেটা করে ও রাবার বুলেট ছোড়ে। সেদিন রাতেই অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা ও হল ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়। তবে এ নির্দেশ উপেক্ষা করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ও বিশ্ববিদ্যালয় না ছাড়ার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।
১৯ জানুয়ারি উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অনশনে বসেন ২৪ শিক্ষার্থী। সেই থেকে তারা অনশনে রয়েছেন। এদের মধ্যে কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের চিকিৎসা দেয়া হয়, বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু কিছুটা সুস্থ হলেই তারা আবার এসে অনশনে যোগ দিচ্ছেন। এখন পর্যন্ত অনশন ভাঙতে এদের কাউকেই রাজি করানো যায়নি।










