বগুড়ার ধুনট থানার এসআই আহসানুল হককে প্রত্যাহার করা হয়েছে। গত বুধবার রাতে বগুড়া জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে তাকে ধুনট থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে যুক্ত করা হয়।

অভিযোগ উঠেছে, একটি ধর্ষণ মামলায় আসামিদের পক্ষে সহযোগিতা করেন এসআই আহসানুল হক। এ কারণেই তাকে প্রত্যাহার করা হয়।

জানা গেছে, ধুনট উপজেলার দেউড়িয়া গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে মাসুদ রানা (৩৬) একই গ্রামের স্কুলছাত্রীকে গত ১৬ জুলাই রাস্তা থেকে অপহরণ করেন। এ ঘটনায় ওই স্কুলছাত্রীর মা গত ১২ আগস্ট বাদী হয়ে ধুনট থানায় একটি মামলা করেন। ওই মামলায় অপহরণকারী মাসুদ রানা ও ইউপি সদস্য ফজলুল হক ছাড়া আরো পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। গত ২৫ সেপ্টেম্বর ওই স্কুলছাত্রীকে সিরাজগঞ্জের চান্দাইকোনা এলাকা থেকে উদ্ধার করেছেন তার স্বজনরা। উদ্ধারের পর ওই স্কুলছাত্রীর ডাক্তারি পরীক্ষায় ধর্ষণের প্রমাণ মিলেছে।

এ বিষয়ে মামলার বাদী অভিযোগ করে বলেন, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আহসানুল হক আদালতে ইউপি সদস্য ফজলুল হকের নাম বলতে আমাকে নিষেধ করেন। তার এ প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তদন্তকারী কর্মকর্তা আমাদের অসহযোগিতা ও আসামিদের সহযোগিতা করছেন এবং আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছেন।

তবে এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ধুনট থানার এসআই আহসানুল হক বলেন, আমার বিরুদ্ধে বাদী মিথ্যা ও বনোয়াট অভিযোগ করেছেন। প্রকৃতপক্ষে বাদী টাকা নিয়ে মামলা মীমাংসা করে এখন পুলিশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন।

ধুনট থানার ওসি কৃপা সিন্ধু বালা বলেন, স্কুলছাত্রী অপহরণের অভিযোগ দায়েরের পর পরই থানায় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মামলার বাদীর সঙ্গে কোনো অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়েছে কিনা তা জানা নেই। পুলিশ সুপারের নির্দেশে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে ক্লোজ করে পুলিশ লাইনে পাঠানো হয়েছে।