বৈরী আবহাওয়া ও নদীবন্দরগুলোয় দুই নম্বর সতর্কতা সংকেত জারি করায় বরিশালের অভ্যন্তরীণ সব রুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ রুটে যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকবে।
গতকাল সকালে লঞ্চ চলাচল বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিআইডব্লিউটিএ বরিশালের নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপপরিচালক মোহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান।
এদিকে ট্রাফিক বিভাগের পরিদর্শক কবির হোসেন জানান, সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সকাল থেকে বরিশাল নদীবন্দর থেকে কোনো লঞ্চ অভ্যন্তরীণ রুটের উদ্দেশে ছেড়ে যায়নি। আবার কোনো লঞ্চ বরিশাল নদীবন্দরে যাত্রী নিয়েও আসেনি।
এদিকে কীর্তনখোলা নদীর পানি বিপত্সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত ও বৃষ্টিপাতের কারণে নগরের বিভিন্ন সড়কে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে নগরজীবন। এছাড়া বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষ সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে।
বরিশাল আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি এখন গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। তবে একটানা মুষলধারায় বৃষ্টি হওয়ায় এটি ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গতকাল সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ১৯০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশল বিভাগ জানিয়েছে, সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী বরিশালের কীর্তনখোলা নদীর পানি বিপত্সীমার ২০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া আবুপুরের নয়াভাঙ্গলী নদীর পানি বিপত্সীমার ৫৮ সেন্টিমিটার, ভোলার দৌলতখানের মেঘনা নদীর পানি বিপত্সীমার ৩৯ সেন্টিমিটার ও ভোলার খেয়াঘাটসংলগ্ন তেঁতুলিয়া নদীর পানি বিপত্সীমার ১০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
আর সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী বরিশালের পার্শ্ববর্তী ঝালকাঠি জেলায় ১৭৭ মিলিমিটার, ভোলায় ১৭৫ মিলিমিটার, বরগুনায় ২৩৫ মিলিমিটার, পিরোজপুরে ১২০ মিলিমিটার, পটুয়াখালীতে ১৫৪ মিলিমিটার এবং সাগর তীরবর্তী খেপুপাড়ায় ২২৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
এদিকে রাতভর ভারি বৃষ্টিপাতে গতকাল ডুবে যায় বরিশাল নগরীর প্রধান সড়কসহ নিম্নাঞ্চল। বরিশালের কীর্তনখোলা, মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর পানি বিপত্সীমা অতিক্রম করেছে। অব্যাহত বৃষ্টি এবং নদীর পানির অস্বাভাবিক চাপে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতার।
বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী (এসও) মো. মাসুম জানিয়েছেন, নিম্নচাপের কারণে সমুদ্রে স্বাভাবিকের চেয়ে জোয়ারের পানি বেড়েছে। তার ওপর আবার অবিরাম বৃষ্টি হচ্ছে। এসব কারণে সমুদ্রে এবং অভ্যন্তরীণ নদ-নদীতে জোয়ারের সময় পানি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাচ্ছে। সর্বশেষ গতকাল বরিশালের কীর্তনখোলা নদীর পানি বিপত্সীমার ২০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এছাড়া আবুপুরের নয়াভাঙ্গলী নদীর পানি বিপত্সীমার ৫৮ সেন্টিমিটার, ভোলার দৌলতখানের মেঘনা নদীর পানি বিপত্সীমার ৩৯ সেন্টিমিটার ও ভোলার তেঁতুলিয়া নদীর পানি বিপত্সীমার ১০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।










