অলিম্পিক ইতিহাসের অন্যতম ঘটনাবহুল আসর ‘টোকিও অলিম্পিক ২০২০’-এর পর্দা নামল। নিভে গেল গেমসের মশাল। এবার অপেক্ষা প্যারিসের। ২০২৪ সালে ফ্রান্সের রাজধানীতে বসবে অলিম্পিকের ৩৩তম আসর। গতকাল সন্ধ্যায় জমকালো সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হলো টোকিও অলিম্পিয়াডের।
টোকিও ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে সমাপনী অনুষ্ঠানে শুরুতেই অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর অ্যাথলিটদের স্বাগত জানানো হয়। এ অনুষ্ঠানের প্রাণই ছিল বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা অ্যাথলিটদের আনন্দমুখর উপস্থিতি। তারা নেচে-গেয়ে খেলাধুলার এ বৈশ্বিক মঞ্চ থেকে বিদায় নেন।
সমাপনী অনুষ্ঠান শেষে নিভিয়ে দেয়া হয় অলিম্পিক মশাল। এরপর টোকিওর গভর্নর ইউরিকো কোইকে অলিম্পিক পতাকা তুলে দেন আইওসি প্রেসিডেন্ট টমাস বাখের হাতে, যিনি তা হস্তান্তর করেন প্যারিসের মেয়র আন্নে হিদালগোর কাছে। এভাবেই টোকিওর ব্যাটন চলে গেল প্যারিসের হাতে। এ সময় প্যারিসের আকাশে বিমান থেকে তিন রঙের ধোঁয়া উড়িয়ে আঁকা হয় ফ্রান্সের পতাকা। ভিডিও বার্তা দেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ।
সমাপনী অনুষ্ঠান শেষে টমাস বাখ বলেন, খেলার ঐক্যবদ্ধ শক্তি দিয়ে আপনারা আমাদের অনুপ্রাণিত করেছেন। মহামারীর কারণে টোকিওর আয়োজকদের যে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছিল, এ কারণে এটি আরো অসাধারণ। আপনাদের ধন্যবাদ।
টোকিও অলিম্পিক বাধাগ্রস্ত হয় নভেল করোনাভাইরাসের কারণে, গেমসটা পিছিয়েও যায় এক বছর। ভাইরাসের ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণের মধ্যেই এ বছর শুরু হয় গেমস। গেমসের মাঝে আঘাত হানে টাইফুন এবং শেষেও থাকছে ভাইরাস। এমনকি গেমস শুরুর দু-তিনদিন আগেও ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে অনেকে এর বাতিলও চাইছিলেন। পরিশ্রমী জাতি হিসেবে পরিচিত জাপানিরা দমে না গিয়ে ঐক্যবদ্ধ থেকে শেষ পর্যন্ত সফল এক গেমস আয়োজনের কৃতিত্ব দেখিয়েছে।
গতকাল আনন্দ-উদ্দীপনায় আগত অ্যাথলিট, কর্মকর্তা আর অতিথিদের বিদায় জানায় জাপানিরা। ‘ওয়ার্ল্ডস উই শেয়ার’ থিমের সমাপনী অনুষ্ঠানে জাপানের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি আরেকবার তুলে ধরা হয় বিশ্ববাসীর সামনে।
নভেল করোনাভাইরাসের জন্য এক বছর পিছিয়ে গেলেও টোকিও অলিম্পিকের নাম থাকে আগের মতোই ‘২০২০’।
জাপানিসহ বিশ্ববাসীর উত্কণ্ঠা, মেডিকেল ইমার্জেন্সিসহ নানা কারণে বিচলিত ছিলেন কর্মকর্তারা। আইওসি প্রেসিডেন্ট টমাস বাখ বলছিলেন, ‘এটি প্রাণহীন অলিম্পিক আসর’ হয়নি কিনা তা নিয়ে উত্কণ্ঠায় ছিলেন তিনি। সেই বাখ শুক্রবার বললেন, আমরা এখানে যা দেখলাম তা সম্পূর্ণ ভিন্ন। আপনারা অনুভব করেছেন, দেখেছেন আবারো ঐক্যবদ্ধ হয়ে তারা কতটা উপভোগের সঙ্গে কাজটি করেছে।
১৮৯৬ সালে অলিম্পিকের প্রথম আসর আয়োজন করে গ্রিস। ১৯০০ সালে পরের আসর বসে প্যারিসে। এরপর ১৯২৪ সালে দ্বিতীয়বারের মতো অলিম্পিক আসর আয়োজন করে ফরাসি রাজধানী শহরটি। শিল্প-সাহিত্যের নগরীতে ২০২৪ সালে বসছে বিশ্ব ক্রীড়াযজ্ঞের তৃতীয় আসর। অন্যদিকে, জাপান দ্বিতীয়বারের মতো অলিম্পিক আয়োজন করল। এর আগে ১৯৬৪ সালে প্রথমবারের মতো অলিম্পিক গেমস আয়োজন করেছিল সূর্যোদয়ের দেশটি।
গত ২৩ জুলাই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় ‘টোকিও অলিম্পিক ২০২০’। গত ১৭ দিনের রোমাঞ্চকর লড়াই শেষে ৩৯টি স্বর্ণপদকসহ শীর্ষস্থান পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এবারের আসরের ৩৩৯টি ইভেন্টে ১১ হাজারেরও বেশি অ্যাথলিট প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।










