এছাড়া বাগেরহাটে ট্রাকের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে প্রাণ গেছে একজনের। বণিক বার্তার সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যে বিস্তারিত—
সিলেট: গতকাল সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগর উপজেলার দয়ামীর এলাকায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নয়জন নিহত হয়েছেন। নিহত সবাই ইউনিক পরিবহনের যাত্রী।
ওসমানীনগর থানার ওসি মোরশেদুল আলম ভুইয়া জানান, ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে বেঙ্গল পরিবহনের একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর ইউনিক পরিবহনের বাসটি মহাসড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই সাত যাত্রীর মৃত্যু হয়। পরে আহতদের হাসপাতালে নেয়ার পর আরো দুজন মারা যান।
নিহতদের মধ্যে চারজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলেন কিশোরগঞ্জের হাজী সাইফুল ইসলাম (৫০), সিলেটের ফাইজা (৩) ও সপ্তম রায় প্রীতম (২২) এবং কিশোরগঞ্জের বাউল শিল্পী পেহেলী ভৈরবী (১৭)। বাকি পাঁচজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার পর তাদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
বগুড়া: সদর উপজেলার এরুলিয়ার সিল্কিবান্দা এলাকায় গতকাল ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কে বাসচাপায় সাতজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তারা হলেন গাইবান্ধার আমিরুল ইসলাম (৫০), নূর আলম (৫০), আবদুস ছামাদ ও বেলাল এবং জয়পুরহাটের তাজমুল ও ফয়জার।
পুলিশ জানায়, ঢাকা থেকে নওগাঁগামী শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের বাসটি এরুলিয়ার সিল্কিবান্দা এলাকায় পৌঁছে প্রথমে সড়কের পাশের একটি খুঁটিতে ধাক্কা খায়। এরপর চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে বাসটি সড়কের পাশে কাজের সন্ধানে অপেক্ষমাণ শ্রমিকদের ওপর উঠে যায়।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহিম আলী জানান, দুর্ঘটনার পর বাসটি জব্দ করা হলেও চালক ও হেলপারকে পাওয়া যায়নি। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে পুলিশ।
এদিকে একই দিন বিকালে বগুড়া সদর উপজেলার এরুলিয়া এলাকায় আরেক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন এক দম্পতি। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক সড়কের এরুলিয়া বিমানবন্দরের সামনে প্রাইভেট কারের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে বাবুল হাসান (৫৫) ও তার স্ত্রী জেসমিন বিবি (৪৭) নিহত হন। এ ঘটনায় তাদের আট বছর বয়সী নাতি জুলকার নাঈন গুরুতর আহত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বাবুল হাসান স্ত্রী ও নাতিকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে কাহালু উপজেলায় বড় ছেলের বাসায় দাওয়াত খেতে যাচ্ছিলেন। পথে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি প্রাইভেট কারের সঙ্গে তাদের মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই বাবুল হাসানের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত জেসমিন বিবি ও জুলকার নাঈনকে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান জেসমিন বিবি।
বাগেরহাট: অন্যদিকে গতকাল বেলা ৩টার দিকে বাগেরহাট-খুলনা মহাসড়কের সদর উপজেলার ষাটগম্বুজ ইউনিয়নের শ্রীঘাট ফুলবাড়িয়া সেতু এলাকায় ট্রাকের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে শেখ শাহারিয়ার সৈকত (৩৮) নামের এক মোটরসাইকেলচালক নিহত হয়েছেন। তিনি সদর উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বাগেরহাট থেকে খুলনাগামী মোটরসাইকেলটির সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেলচালক সৈকত সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে বাগেরহাট ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
দেশে একের পর এক প্রাণঘাতী দুর্ঘটনায় উদ্বেগ বাড়তে থাকায় সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সারা দেশে ঝটিকা অভিযান পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছেন সড়ক, মহাসড়ক ও রেলপথ বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব।
সাম্প্রতিক সড়ক দুর্ঘটনায় একাধিক প্রাণহানির ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক উল্লেখ করে রাজধানীর মদিনাবাগের এক আয়োজনে তিনি বলেন, অসতর্কতা বা বেপরোয়া গাড়ি চালানোর কারণে আর যেন কোনো পরিবারকে তাদের প্রিয়জনকে হারাতে না হয়, সে লক্ষ্যে সরকার কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
সড়ক নিরাপত্তা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সারা দেশের মহাসড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কে নিয়মিত ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করা হবে। ট্রাফিক আইন অমান্য, অতিরিক্ত গতি, ফিটনেসবিহীন যানবাহন এবং বেপরোয়া চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। কোনো চালকের অবহেলা বা বেপরোয়া গাড়ি চালানোর কারণে যেন আর একটি প্রাণও ঝরে না যায়, সে বিষয়ে সরকার আপসহীন।’
তিনি বলেন, ‘নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিআরটিএ এবং সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু সরকারের নয়, চালক, মালিক ও সাধারণ মানুষেরও যৌথ দায়িত্ব।’










