বুড়িগঙ্গাকে দূষণমুক্ত করার পাশাপাশি জনগণকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সচেতন করতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ও বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে শুরু হয়েছে ব্যতিক্ৰমী কার্যক্রম ‘বর্জ্যের বিনিময়ে ভাসমান বাজার’। গতকাল সকালে সোয়ারীঘাট লঞ্চঘাটে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

​অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, ‘বুড়িগঙ্গা নদীর ওপরই প্রাচীন ঢাকা গড়ে উঠেছিল। ব্যবসা-বাণিজ্য ও যোগাযোগের মূল ভিত্তি ছিল এ নদী। কিন্তু অবৈধ দখল ও যত্রতত্র বর্জ্য ফেলার কারণে বুড়িগঙ্গার অস্তিত্ব আজ বিপন্ন। এ নদীকে বাঁচাতে না পারলে আমাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। হয়তো একদিনে বুড়িগঙ্গার সব সমস্যার সমাধান হবে না, তবে এ কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা নদী তীরের বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের কাছে এ সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দিতে চাই।’

​ডিএসসিসি প্রশাসক জানান, বুড়িগঙ্গা, ধলেশ্বরী, শীতলক্ষ্যা, বালু ও তুরাগ নদীকে নৌ-চলাচলের উপযোগী করার জন্য বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। নদীগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে এরই মধ্যে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

​বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরের পরিকল্পনা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘বর্জ্য রিসাইক্লিং করে দ্রুত বিদ্যুৎ, গ্যাস, কম্পোস্ট সার ও ডিজেল উৎপাদনের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আশা করা যায়, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই আমরা এর প্রাথমিক ধাপে পৌঁছতে পারব। বর্জ্য সম্পদে পরিণত হলে তা আর যেখানে-সেখানে পড়ে থাকবে না।’

​ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে সচেতনতার ওপর জোর দিয়ে প্রশাসক বলেন, ‘৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে মানুষের অসাবধানতার কারণেই ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ে।’ ডাবের খোসা, এসি কিংবা ছাদ ও ড্রেনে যেন তিনদিনের বেশি পানি না জমে, সেদিকে সবাইকে খেয়াল রাখার অনুরোধ জানান তিনি। একই সঙ্গে জনগণের দুর্ভোগ সৃষ্টি করে এমন কর্মসূচি না দিয়ে পরিচ্ছন্ন শহর গঠনে সহায়তার আহ্বান জানান।

​উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বুড়িগঙ্গার তীরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বর্জ্য সংগ্রহ করে ডিএসসিসির অস্থায়ী ভাসমান বাজারে জমা দেয়ার বিনিময়ে উপহার হিসেবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য দেয়া হয়। একটি লঞ্চকে সাজিয়ে এ সাময়িক ভাসমান বাজার তৈরি করা হয়েছে।

​অনুষ্ঠানে ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান, ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খয়বর রহমান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মাহাবুবুর রহমান তালুকদারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।