জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সার্ভারে ত্রুটি দেখা দেয়ায় দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে বিল অব এন্ট্রি সাবমিট করতে না পারায় আমদানীকৃত পণ্য খালাস বন্ধ রয়েছে। গতকাল সকাল থেকে সার্ভারের এ ত্রুটি দেখা দেয়। সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সার্ভার না আসায় কোনো কার্যক্রম শুরু হয়নি বলে কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে।  ফলে আমদানীকৃত পণ্য বিশেষ করে পেঁয়াজ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন আমদানিকারকরা।

হিলি স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট রাশেদ হোসেন জানান, গতকাল সকাল থেকে কাস্টমসের সার্ভারে ত্রুটি দেখা দেয়। কোনো সার্ভার নেই, যার কারণে আমরা আমদানীকৃত পণ্যের কোনো বিল অব এন্ট্রি সাবমিট করতে পারিনি। আমরা পণ্যের বিল অব এন্ট্রি নিয়ে ঘুরেছি, কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। এ বিষয়ে আমরা কাস্টমসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তারা আমাদের রাত ৮-৯টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেছেন।

হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী সেলিম হোসেন বলেন, দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণ ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত রেখেছেন আমদানিকারকরা। সেই ধারাবাহিকতায় গতকাল বন্দর দিয়ে বিভিন্ন আমদানিকারকের ৩৫ ট্রাক পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। কিন্তু কাস্টমসের  নাকি সার্ভার নেই, যার কারণে আমরা এসব পেঁয়াজ বন্দর থেকে খালাস করতে পারিনি। একে তো গরম পড়েছে, এর ওপর দীর্ঘক্ষণ ধরে আটকে থাকার কারণে পেঁয়াজের মান খারাপ হওয়া নিয়ে আমরা দুশ্চিন্তায় পড়েছি। এতে আমদানিকারকদের লোকসান গুনতে হবে। তাই অন্য কোনো ব্যবস্থা করে হলেও দ্রুত আমদানীকৃত এসব পেঁয়াজ ছাড়ের ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাচ্ছি।    

হিলি স্থল শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা এসএম নুরুল আলম খান বলেন, সার্ভারে কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকা থেকেই সমস্যা দেখা দিয়েছে। এতে শুধু হিলি স্থলবন্দর নয়, বুড়িমারী, বেনাপোল, বাংলাবান্ধা সব বন্দরেই একই সমস্যা দেখা দিয়েছে। সার্ভারে ত্রুটির কারণে সকাল থেকে বিল অব এন্ট্রি সাবমিট করা যাচ্ছে না। গতকাল যেসব পণ্য আমদানি হয়েছে, সেগুলো ছাড় করে দেয়ার জন্য আমরা অপেক্ষা করছি। রাত ৮-৯টার মধ্যে যদি সার্ভারের ত্রুটি কেটে যায় তাহলে যতক্ষণ পর্যন্ত শেষ না হয় ততক্ষণ এসব পণ্য ছাড় করা হবে। আর যদি না হয় তাহলে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে দ্রুত কাজ শুরু করে দেব। তবে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি, দ্রুত সার্ভারের ত্রুটি সারানোর চেষ্টা চলছে।