বরিশালের ‘সাহেবের হাট’ চ্যানেলের বাঁকে বাঁকে জেগে উঠেছে চর। প্রায় ১০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এ চ্যানেলের কয়েকটি পয়েন্টে পলি জমে নাব্য সংকটের কারণে নৌযান চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

কীর্তনখোলা পয়েন্ট থেকে পূর্বে আড়িয়াল খাঁ নদের লাহারহাট পর্যন্ত এ চ্যানেলটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বরিশালের সঙ্গে মেহেন্দীগঞ্জ, ভোলা এবং পটুয়াখালীর নৌপথে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে এ রুট ব্যবহূত হয়।

বরিশাল-ভোলা রুটের যাত্রীবাহী লঞ্চ সঞ্চিতার সুকানী মোশারফ হোসেন মশু মিয়া বলেন, সাহেবের হাট নদী একসময় অনেক গভীর ছিল। এখন চর পড়ে সরু হয়ে গেছে। কীর্তনখোলা নদীর বিশ্বাসেরহাট পয়েন্ট দিয়ে চ্যানেলটিতে ঢুকতেই দুই তীরে চর জেগে মরে যাচ্ছে চ্যানেলটি। একই অবস্থা সাহেবেরহাট, টুঙ্গিবাড়িয়া মোড়, চরকেউটিয়া ও মিয়ারহাট পয়েন্টে।

টুঙ্গিবাড়িয়া-চরকেউটিয়া পয়েন্টে খেয়া নৌকার মাঝি শহিদুল ইসলাম বলেন, ভাটার সময় মিয়ারহাট, টুঙ্গিবাড়িয়া ও বুখাইনগর পয়েন্টে লঞ্চ ডুবোচরে আটকা পড়ে। বাঁশ দিয়ে পানি মেপে ভাটার সময় লঞ্চগুলো চলাচল করে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ জল পরিবহন সংস্থার (যাত্রী) সাবেক সভাপতি আজিজ উল হক আক্কাস বলেন, চ্যানেলটি বন্ধ হয়ে গেলে হিজলা, মেহেন্দীগঞ্জ এবং ভোলা ও পটুয়াখালীর আট উপজেলার সঙ্গে নৌপথের সহজ যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে দুর্ভোগ ও ব্যয় বাড়বে।

সংস্থার সদস্য রিয়াজ উল কবির বলেন, সাহেবেরহাট চ্যানেল দিয়ে প্রতিদিন অর্ধশত যাত্রীবাহী লঞ্চ ও পাঁচ শতাধিক পণ্যবাহী নৌযান চলাচল করত। সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হওয়ায় এখনো দিনে ২০-২৫টি যাত্রীবাহী এবং শতাধিক পণ্যবাহী নৌযান যাতায়াত করে।

এদিকে সাহেবেরহাট চ্যানেলটি বন্ধের উপক্রম হওয়ায় নৌযান চলাচল বাধাগ্রস্তসহ দীর্ঘমেয়াদি সংকটে পড়ছে এর দুই তীরের কৃষিনির্ভর অর্থনীতি। চ্যানেলটি সচল রাখতে বিআইডব্লিউটিএর দীর্ঘমেয়াদি কোনো কর্মপরিকল্পনা নেই।

এ প্রসঙ্গে বরিশাল নৌ বন্দর কর্মকর্তা আজমল হুদা মিঠু সরকার বলেন, নৌযান মালিকরা চ্যানেলটি খননের জন্য কোনো আবেদন করেনি। তবে কয়েক বছর আগে চ্যানেলটির বিভিন্ন অংশ খনন করা হয়েছিল।

বিআইডব্লিউটিএ নৌ সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগের বরিশাল জোনের উপপরিচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, ২০১৭ সালে সাহেবেরহাট চ্যানেলটি খনন করা হয়েছিল। পুনরায় খননের জন্য সংস্থার ড্রেজিং শাখায় আলোচনা চলছে।

এ ব্যাপারে বরিশাল নদী-খাল বাঁচাও আন্দোলনের সদস্য সচিব কাজী এনায়েত হোসেন শিবলু বলেন, সাহেবেরহাট চ্যানেলটি বন্ধ হলে বড় নদীগুলোর প্রবাহও সংকটে পড়বে। নৌযান চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়াসহ কৃষিক্ষেত্রে বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়বে। এ অবস্থার উত্তরণ ঘটাতে দ্রুত সাহেবেরহাট চ্যানেল খনন করার দাবি জানান তিনি।