বরিশালে মাদক দিয়ে ফাঁসানোর পর এক ছাত্রকে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। শনিবার রাত ১২টার দিকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান রেজাউল। তিনি নগরীর সাগরদি এলাকার মাংস বিক্রেতা মো. ইউনুচ মিয়ার ছেলে। তিনি বরিশাল আইন মহাবিদ্যালয় থেকে এলএলবি পরীক্ষা দিয়ে ফলের অপেক্ষা করছিলেন।

গত ২৯ ডিসেম্বর রাত ৯টার দিকে ডিবি পুলিশ আটক করে রেজাউল করিমকে। পরের দিন পাঠানো হয় কারাগারে। চারদিন পর তার মৃত্যুর খবর জানানো হয় পরিবারকে। আটকের চারদিন পর ওই তরুণের মৃত্যুর কথা পরিবারকে জানায় মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। পুলিশের ভাষ্য, টয়লেটে পড়ে গিয়ে পায়ে রক্তক্ষরণে মৃত্যু হয়েছে তরুণের। তবে স্বজনরা বলছেন, তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

তার ফুপা তারেক মিয়া জানান, গত ২৯ ডিসেম্বর রাত ৯টার দিকে পুলিশ ধরে নিয়ে যায় রেজাউলকে। তার কাছে দুজন মাদক বিক্রেতার নাম জানতে চান ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) মহিউদ্দিন মাহি। সেখানে স্থানীয় লোকজন ও কয়েকজন স্বজনও উপস্থিত ছিলেন। রেজা কিছু জানেন না বললে মহিউদ্দিন নিজের গাড়ির কাছে ফিরে যান। সেখান থেকে আবার এসে রেজার পকেটে হাত দেন। এরপর তার কাছে নেশাজাতীয় ইনজেকশন পাওয়া গেছে বলে পুলিশ ধরে নিয়ে যায়।

তিনি অভিযোগ করেন, রেজাউলকে ধরে নিয়ে প্রথমে নেয়া হয় বরিশাল কোতোয়ালি থানায়। পরের দিন তাকে আদালতে তোলার পর পাঠানো হয় বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পাঠানো হয় হাসপাতালে।

বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার প্রশান্ত কুমার বণিক বলেন, গত ৩০ ডিসেম্বর এ আসামিকে রিসিভ করি। কারাগারে আসা কাগজে রেজার অসুস্থতার কথা উল্লেখ ছিল। তবে তার নিম্নাংশে রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। এ কারণে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতালে রেজাউলকে দেখেছেন স্থানীয় বাসিন্দা সুজন। তিনি বলেন, সারা শরীরে জখমের চিহ্ন ছিল। রক্ত জমাট বেঁধে গিয়েছিল। বিশেষ করে দুই পায়ে স্পষ্ট জমাট রক্তের চিহ্নও দেখেছি। এগুলো নিঃসন্দেহে প্রমাণ করে যে, নির্যাতনেই রেজাউলের মৃত্যু হয়েছে।

রেজার বাবা ইউনুস মুন্সী বলেন, এসআই মহিউদ্দিন আমার ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে নিয়ে যান। তখন রেজা দিব্যি সুস্থ ছিল। পরে জানতে পারি তাকে নাকি গাঁজাসহ আটক করা হয়েছে। এরপর রাত ৯টার দিকে পুলিশ ফোনে জানায়, রেজা বাথরুমে পড়ে গিয়ে তার ব্লিডিং হচ্ছে, হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। কিন্তু ওর সঙ্গে আমাকে দেখা করতে দেয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এসআই মহিউদ্দিন মাহি নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এ অভিযোগ মিথ্যা। তার বিরুদ্ধে আগেও মাদক মামলা ছিল।