ত্রয়োদশ ওয়ানডে বিশ্বকাপে টানা দুই ম্যাচে জিতেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। শ্রীলংকা ও অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে কর্তৃত্ব করে জয় পাওয়া প্রোটিয়ারা আজ নামছে হ্যাটট্রিক জয়ের খোঁজে। ধর্মশালায় তেম্বা বাভুমাদের প্রতিপক্ষ নেদারল্যান্ডস। খেলা শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বেলা আড়াইটায়।
‘ছোট’ দল নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে প্রোটিয়াদের জয়টা কি খুব সহজ হবে? গত বছর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টি২০ বিশ্বকাপে বাভুমার দলকে ১৩ রানে হারায় ইউরোপের দলটি। সেই হারে প্রোটিয়ারা হতবাকই শুধু হয়নি, টুর্নামেন্ট থেকেও বিদায় নেয়। কাজেই আজ যখন ধর্মশালায় দুই দল ফের মুখোমুখি তখন নিশ্চিতভাবেই ডাচদের দুর্বল প্রতিপক্ষ ভাববে না প্রোটিয়ারা।
একই সঙ্গে খুব বেশি চাপেও নেই দক্ষিণ আফ্রিকা। এ বছরের শুরুর দিকে নিজেদের মাটিতে ওয়ানডে সিরিজে যথাক্রমে আট উইকেট ও ১৪৬ রানের বিশাল ব্যবধানে নেদারল্যান্ডসকে হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা।
প্রোটিয়াদের আশাবাদী করে তুলেছে বর্তমান ফর্ম। তারা পাঁচ ম্যাচের জয়রথে রয়েছে। এ পাঁচ ম্যাচেই তারা প্রথমে ব্যাট করে প্রতিবার তিনশর বেশি রান তুলেছে, দুবার ছিল চারশর বেশি এবং প্রতিবারই একশর বেশি রানে জিতেছে! এ পাঁচ জয়ের মধ্যে চারটিই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে।
চলতি আসরে প্রোটিয়া ব্যাটিং ইউনিটই সম্ভবত সবচেয়ে শক্তিশালী। ২০২৩ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ১০ জন ব্যাটার ৪০০ কিংবা তার বেশি রান করেছেন ৫০-এর বেশি গড়ে ও ১০০ স্ট্রাইক রেটে। এর মধ্যে চারজনই দক্ষিণ আফ্রিকার। এরা হলেন তেম্বা বাভুমা, এইডেন মার্করাম, ডেভিড মিলার ও হেইনরিখ ক্লাসেন। ৪৬ গড় ও ৯৭.৫২ স্ট্রাইক রেটে ৫৫২ রান করা কুইন্টন ডি ককও খুব পিছিয়ে নেই।
তাহলে দুর্বার এ প্রোটিয়াদের সামনে ডাচদের কোনো আশা আছে কি? চলতি আসরে প্রথম দুই ম্যাচেই তারা হেরে বসে আছে। যদিও পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে লড়াই করেছে তারা। উড়ন্ত প্রোটিয়াদের হারাতে এখন তারা শুধুই গত বছরের টি২০ জয় থেকে প্রেরণা খুঁজতে পারে। কিংবা আফগানদের ইংলিশ বধও তাদের জন্য প্রেরণার উৎস হতে পারে।
এদিকে, আজ জিতলেই ভারত ও নিউজিল্যান্ডকে টপকে পয়েন্ট টেবিলের এক নম্বরে উঠে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে। ভারত ও নিউজিল্যান্ড উভয় দলেরই সংগ্রহ সমান ৬ করে। শ্রেয়তর রানরেটে এগিয়ে থাকায় টেবিলের শীর্ষস্থানে স্বাগতিক ভারত। তাদের পরেই কিউইরা। দুই জয় থেকে ৪ পয়েন্ট পাওয়া প্রোটিয়ারা আজ জিতলে ৬ পয়েন্ট ও সবার চেয়ে ভালো রানরেট নিয়ে টেবিলের শীর্ষস্থানে উঠবে।
রেকর্ডের বিচারে ডাচরা কোনোভাবেই প্রোটিয়াদের জন্য বাধা হয়ে ওঠার কথা নয়। বিশ্বকাপ ও বিশ্বকাপের বাইরের লড়াই মিলে এখন পর্যন্ত ওয়ানডেতে সাতবার মুখোমুখি হয় দক্ষিণ আফ্রিকা ও নেদারল্যান্ডস। এর মধ্যে ছয়টিই জিতেছে প্রোটিয়ারা, একটি ফলহীন ছিল। ডাচদের কোনো জয় নেই।
১৯৯৬ সালের বিশ্বকাপে লাহোরে দেখা হয় প্রোটিয়া ও ডাচদের। ম্যাচে ডাচরা ১৬০ রানের বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়। পরের দেখা ১১ বছর পর, ২০০৭ বিশ্বকাপে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাঠে আরো বড় জয় পায় প্রোটিয়ারা। তাদের ৩৫৩ রানের জবাবে ডাচরা তুলেছিল ৯ উইকেটে ১৩২ রান। ২২১ রানের বিশাল জয় পায় গ্রায়েম স্মিথের দল। ২০১১ সালের বিশ্বকাপে ভারতের মোহালিতে আরো বিপর্যস্ত ডাচরা। এবার তারা হারল ২৩১ রানের বিশাল ব্যবধানে। ৩৫২ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নেমে ডাচরা গুটিয়ে যায় ১২০ রানে। ডি ভিলিয়ার্স ৯৮ বলে করেছিলেন ১৩৪ রান।
বিশ্বকাপের বাইরে আরো চারবার ওয়ানডেতে মুখোমুখি হয় প্রোটিয়া-ডাচ। একটি ম্যাচ বৃষ্টিতে ফলহীন থাকে, বাকি তিনটিতেই জিতেছে প্রোটিয়ারা। এ বছর মার্চ-এপ্রিলে বেনোনিতে আট উইকেটে ও জোহানেসবার্গে ১৪৬ রানের জয় পায় দক্ষিণ আফ্রিকা। ওয়ানডে ফরম্যাটে কখনই দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারাতে পারেনি ডাচরা। আজ কোনো অঘটন না হলে ইতিহাসের এ ধারা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনাই বেশি। কেননা বাভুমার দল রয়েছে অবিশ্বাস্য ফর্মে।
শ্রীলংকাকে ১০২ রানে ও অস্ট্রেলিয়াকে ১৩৪ রানে হারিয়ে প্রোটিয়ারা দেখিয়ে দিয়েছে, কতটা দুর্বার গতিতে ছুটছে তারা। কখনই বিশ্বকাপ জিততে না পারার দুঃখ বয়ে চলা প্রোটিয়ারা এবার নীরবে ছুটছে লক্ষ্যের দিকে।
নিজেদের বিস্ফোরক ব্যাটিং নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক বাভুমা বলেন, ‘আমাদের ব্র্যান্ড নিয়ে কথা হচ্ছে। আমি মনে করি, আমাদের ব্যাটার ও বোলাররা সুযোগগুলো লুফে নিতে তৈরি। আমাদের ছয়-সাত ব্যাটারের দিকে যদি তাকান তবে দেখবেন, তাদের সবার স্ট্রাইক রেটই খুবই উচ্চ। এটা স্রেফ ইচ্ছার ব্যাপার। বোলারদের ক্ষেত্রেও একই কথা। সবাই যার যার স্কিল ব্যবহার করছে আর পরিকল্পনাগুলো কাজে লাগাচ্ছে। বিশ্বকাপ বলে এখানে ভিন্ন কিছু নেই। আমরা একই গতিতে এগোতে চাই। আমরা নিজেদের কাজটিকে সমর্থনও করছি।’










