নতুন করে গম রফতানি বন্ধ রাখলেও ১২ মে পর্যন্ত হওয়া এলসির বিপরীতে গম রফতানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। এদিকে চাহিদা না থাকায় দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে গমের দাম কমেছে কেজিতে ৩ টাকা করে। কিছু দিন আগে প্রতি কেজি গমের দাম ৪১ থেকে ৪২ টাকায় উঠলেও বর্তমানে তা কমে ৩৮ থেকে ৩৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
গতকাল সোমবার রাতে ভারত সরকার এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে গম রফতানির অনুমতি দেয়ার বিষয়টি জানিয়েছে বলে ভারতীয় রফতানিকারকরা বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের জানিয়েছেন। এতে করে এসব এলসির বিপরীতে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলে আজ মঙ্গলবার বিকালে অথবা আগামীকাল বুধবার থেকে বন্দর দিয়ে গম আমদানি হতে পারে।
বিভিন্ন ফ্লাওয়ার মিলে গম সরবরাহকারী রবিউল ইসলাম বলেন, ভারত গম রফতানি বন্ধ করে দিলে যে গমের দাম ৩৪ টাকা ৫০ পয়সা ছিল সেই গমের দাম কয়েকদিনের ব্যবধানে বাড়তে বাড়তে ৪১ থেকে ৪২ টাকায় উঠে গিয়েছিল। এতে করে বিভিন্ন স্থানের ফ্লাওয়ার মিলগুলো গম কেনা নিয়ে চিন্তায় পড়ে যায়। তারপরেও বাড়তি দাম দিয়ে মিলাররা কিছু গম কিনেছিল। কিন্তু বর্তমানে তাদের সবার মিলেই পর্যাপ্ত গমের মজুদ রয়েছে যার কারণে এখন আর কেউ গম কিনতে চাইছেন না। ফলে এরই মধ্যে গমের দাম কমতে শুরু করেছে, নতুন করে গম আমদানি শুরু হলে দাম আরো কমতে পারে বলে তিনি জানান।
হিলি স্থলবন্দরের সিআ্যন্ডএফ এজেন্ট রাশেদুল ইসলাম বলেন, ভারত গম রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে গত ১৪ মে সকাল থেকে বন্দর দিয়ে গম আমদানি বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে ১২ তারিখ পর্যন্ত হওয়া পুরনো এলসির গম রফতানির আশ্বাস দিয়ে টেন্ডারকৃত গম রফতানি শুরু করলে আধাবেলা বন্ধের পর ফের গম আমদানি শুরু হয়।
তবে ১২ মে’র মধ্যে হওয়া যেসব এলসির সুইফট ভারতীয় ব্যাংকে গিয়েছে শুধুমাত্র সেসব এলসির গম রফতানি হবে বলে জানিয়েছেন ভারতীয় ব্যবসায়ীরা। কিন্তু যেসব এলসি ১২ মে’র মধ্যে হয়েছে আর সুইফট কপি ওই তারিখের পরে গিয়েছে সেগুলোর বিপরীতে গম রফতানিতে সরকার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে বলে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।
হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ভারত সরকারের হঠাৎ করে গম রফতানি বন্ধ করে দেয়ার প্রভাব পড়েছে গমের বাজারে। সেই সঙ্গে গমের এলসি খোলার সময় প্রতি ডলারের মূল্য ৮৪ টাকা হিসেবে এলসি খুলে গম আমদানি করার পরে বিল পরিশোধের সময় সেই ডলারের মূল্য পরিশোধ করতে হচ্ছে ৯৪ টাকা কেজি দরে। এর প্রভাবে বাজারে গমের দাম বৃদ্ধি পায়।
তিনি জানান, গমের আমদানি বন্ধ থাকলেও এবং ডলারের মূল্য বাড়লেও গমের ক্রেতা না থাকায় গম নিয়ে বিপাকে পড়তে হচ্ছে। বন্দর দিয়ে আমদানিকৃত গমের একমাত্র গ্রাহক ছিল দেশের বিভিন্ন স্থানের ফ্লাওয়ার মিলগুলো। কিন্তু বর্তমানে এসব ফ্লাওয়ার মিলগুলো গম ক্রয় করা বন্ধ রেখেছেন। ফলে বাজারে গমের ক্রেতা সংকট দেখা দিয়েছে। গমের বেচাকেনা না থাকায় এর প্রভাব পড়েছে গমের দামের উপর। আমদানিকারকরা খানিকটা কমদামে গম ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন।
হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, আগ বন্দর দিয়ে ৫০-৬০ ট্রাক করে গম আমদানি হলেও বর্তমানে গমের আমদানি অনেক কমে গেছে। গত বৃহস্পতিবার বন্দর দিয়ে মাত্র ২টি ট্রাকে ৭৪টন গম আমদানি হয়। গত শনি, রবিবার ও সোমবার বন্দর দিয়ে ভারত থেকে কোন গম আমদানি হয়নি। আজ বিকাল ৩টা পর্যন্ত বন্দর দিয়ে কোনো গম আমদানি হয়নি।










