বগুড়ার শেরপুরে যাত্রীবাহী বাস ও পাথরবোঝাই ট্রাকের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষে উভয় গাড়ির চালক ও স্বামী-স্ত্রীসহ ছয়জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ যাত্রী। আহতদের উদ্ধার করে বগুড়ায় শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল সকাল ৬টার দিকে উপজেলার ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের পৌর শহরের কলেজরোড নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন দুর্ঘটনাকবলিত বাসের চালক শেরপুর পৌরশহরের গোসাইপাড়া এলাকার মনিন্দ্র নাথ সাহার ছেলে বাবলু সাহা ওরফে বাঘা (৫৫), একই বাসের হেলপার উপজেলার সীমাবাড়ী ইউনিয়নের ধনকুণ্ডি গ্রামের নজর আলীর ছেলে ইদ্রিস আলী (৪০), ট্রাকের চালক খুলনা সদর উপজেলার আমজাদ হোসেনের ছেলে সাদ্দাম হোসেন (২১), বগুড়া জেলার সদর উপজেলার হাজরাদিঘী গ্রামের তছলিম উদ্দীনের ছেলে ইয়াসিন আলী (৬৫), তার স্ত্রী হোসনে আরা ফিরোজা (৬০) ও একই উপজেলার দক্ষিণ নাটাইপাড়া গ্রামের মিন্টু সেখের ছেলে আকতার উদ্দিন (৪৫)।

এছাড়া ওই ঘটনায় আহতদের মধ্যে গুরুতর ইয়াকুব আলী (৪২), ইসতিয়াক হোসেন (১৮), শিশু ইমতিয়াজ হোসেন (৩), মর্জিনা বেগম (৪০), ফিরোজ আলী (৩৫), ছালমা বেগম (৩০), নাদিয়া আক্তার (৩৫), মৌসুমী আক্তার (৩২), পারভীন খাতুন (২৬), লাভলী আক্তারকে (৩৫) বগুড়ার শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের সবার বাড়ি পাবনা, সিরাজগঞ্জ ও বগুড়া জেলায়। আর বাকি আহতরা স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

বগুড়ার শেরপুর ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার রতন হোসেন জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বগুড়াগামী এসআর ট্রাভেলসের একটি যাত্রীবাহী বাস ওই স্থানে পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা পাথরবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ছয়জন যাত্রী নিহত হন। সেসঙ্গে আরো অন্তত ১৫ যাত্রী আহত হন। তাদের প্রথমে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। কিন্তু অবস্থার অবনতি ঘটলে তাত্ক্ষণিক বগুড়ায় শজিমেক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। দুর্ঘটনাকবলিত উভয় গাড়ি মহাসড়কের ওপর পড়ে থাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় মহাসড়কের দুই পাশে অসংখ্য দূরপাল্লার যানবাহন আটকা পড়ে তীব্র যানজটের সুষ্টি হয়। প্রায় ২ ঘণ্টা পর ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের যৌথ উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

বগুড়ার শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ বানিউল আলম বলেন, যাত্রীবাহী বাসটি বেপরোয়া গতিতে ওভারটেক করতে গেলে বিপরীতগামী ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল বন্ধ থাকলেও এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক। ওই ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান তিনি।