একুশে ফেব্রুয়ারিসহ টানা তিনদিনের সরকারি ছুটি ঘিরে ভ্রমণপিপাসুদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে পার্বত্য শহর রাঙ্গামাটি। পর্যটকদের সমাগমে স্থানীয় আবাসিক হোটেল-মোটেল বুকিং হয়েছে প্রায় শতভাগ। এতে হোটেল-মোটেল মালিক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে খাতসংশ্লিষ্টদের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে।

শুক্রবার সরেজমিনে রাঙ্গামাটি শহরের বিভিন্ন পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্রে লোকে লোকারণ্য লক্ষ করা গেছে।

বিভিন্ন জেলা থেকে আসা পর্যটকরা রাঙ্গামাটির ঝুলন্ত সেতু, পলওয়েল পার্ক, ডিসি বাংলো পার্ক, রাজবন বিহার, পেদাটিংটিং রেস্টুরেন্ট, জুমঘর, চাংপাং, গাঙ সাবারাঙ, বেরাইন্না, বড়গাঙ, আসামবস্তিসহ বিভিন্ন স্থানে তারা ঘুরে বেড়ানোর মধ্য দিয়ে প্রকৃতিকে উপভোগ করছেন।

এদিকে রাঙ্গামাটির সাজেক ভ্যালির রুইলুই পাড়া ও কংলাক পাড়াতেই দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকরা ভিড় জমিয়েছেন।

চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন বরিশালের সেলিম আহমেদ। রাঙ্গামাটি ঝুলন্ত সেতু এলাকায় তিনি জানান, আমরা নদীপাড়ের মানুষ হলেও কাপ্তাই হ্রদে কখনো ঘুরতে আসিনি। এবার কাপ্তাই হ্রদ ভ্রমণ করে মুগ্ধ হলাম।

জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্র ডিসি বাংলো এলাকায় অবস্থিত পলওয়েল পার্ক। এখানেই রয়েছে দেশে প্রথমবারের মতো স্থাপিত ‘লাভ পয়েন্ট’। পলওয়েল পার্কেই ঘুরতে আসা আকাশ-লীনা দম্পতি বলেন, রাঙ্গামাটির এই লাভ পয়েন্টের কথা আগে পত্র-পত্রিকায় পড়েছি। এবার নিজেরাও এসে দেখে গেলাম। ভালোই লেগেছে রাঙ্গামাটির বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র ও কাপ্তাই হ্রদে ঘুরে। তবে সুবলং ঝর্ণায় পানি না থাকায় ঝর্ণায় গিয়ে হতাশ হয়েই ফিরতে হলো।

রাঙ্গামাটি পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক সৃজন বিকাশ বড়ুয়া বণিক বার্তাকে জানান, পর্যটন খাতে করোনার যে সংকট ছিল; সেটি কেটে গেছে বলা যায়। রাঙ্গামাটিতে এখন পর্যটকদের ব্যাপক সমাগম দেখতে পাচ্ছি। তবে টানা তিনদিনের সরকারি ছুটি কেন্দ্র করে বাড়তি চাপ যাচ্ছে হোটেল-মোটেল ব্যবসায়ীদের ওপর। আমাদের পর্যটন কমপ্লেক্সের মোটেলও আগামী রোববার পর্যন্ত শতভাগ বুকিং রয়েছে। তেমনি আবাসিক হোটেলগুলোয় একই চিত্র। অনেকেই ঢাকাসহ বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যোগাযোগ করছেন। তবে আপাতত ক’দিনের জন্য নতুন করে বুকিং নিচ্ছি না। তিনি আরো বলেন, প্রতিদিন ঝুলন্ত সেতুতে কয়েক হাজার মানুষ প্রবেশ করছে; এতে সেতুতে প্রবেশের কুপণ বিক্রিও বেড়েছে।

রাঙ্গামাটির আবাসিক হোটেল মতি মহলের স্বত্বাধিকারী মো. শফিউল আজম জানিয়েছেন, শুক্রবার থেকে রোববার পর্যন্ত হোটেলে সম্পূর্ণ বুকিং রয়েছে। মূলত ২১ ফেব্রুয়ারির ছুটিসহ তিনদিনের সরকারি ছুটির কারণে পর্যটকরা বিভিন্ন জেলা থেকে আসছেন। এতে আমাদের এখানকার হোটেল-মোটেল ব্যবসায়ীদের মধ্যেও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে।

রাঙ্গামাটি পর্যটন বোটঘাটের ব্যবস্থাপক রমজান আলী জানান, সেপ্টেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি-মার্চ পর্যন্ত সময়কে পর্যটন মৌসুম ধরা হয়। এ সময়ের বাইরে পর্যটন খাতে কিছুটা মন্দা কাটে। এখন রাঙ্গামাটিতে পর্যটকের সমাগম হওয়ায় ট্যুরিস্টবোট ভাড়া হচ্ছে। গড়ে ৪০-৫০টি বোট প্রতিদিন ভাড়া করা হচ্ছে।

রাঙ্গামাটির ট্যুরিস্ট পুলিশ পরিদর্শক মো. মাকসুদ আহমেদ জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্যরা নিয়োজিত আছেন। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আমরা সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছি।

এদিকে মেঘের উপত্যকা রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ির সাজেক ভ্যালিতে অবস্থিত এভারেস্ট রিসোর্টের স্বত্বাধিকারী মো. মোসলেম উদ্দীন জানান, শুক্র-শনিবারে সাজেক পর্যটকদের বাড়তি সমাগম ঘটে। এ সপ্তাহে আরো একটি বাড়তি দিন যোগ হলো। আমার রিসোর্টে মোটামুটি ৯৫ শতাংশ বুকিং সম্পন্ন হয়েছে। সাজেকের অন্য কটেজ-রিসোর্টগুলোয়ও একই অবস্থা।

খাগড়াছড়ি শহর থেকে সাজেকগামী চাঁদের গাড়ির লাইনম্যান অরুণ কুমার দে জানান, প্রতিদিন খাগড়াছড়ি থেকে সাজেকের উদ্দেশে ৫০-৬০টি চাঁদের গাড়ি ছেড়ে যায়। এছাড়া অনেকেই দীঘিনালা থেকে চাঁদের গাড়িতে করে সাজেক যাচ্ছেন। আবার কেউ কেউ মোটরসাইকেলে চড়েও যাচ্ছেন।