সরকারিভাবে হজে পাঠানোর কথা বলে নাটোরে সক্রিয় হয়ে উঠেছে একটি প্রতারক চক্র। চক্রটি জেলার বিভিন্ন মাদ্রাসার মুহতামিম সুপার, মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনের কাছে ফোন করে হজের রেজিস্ট্রেশনের জন্য বিকাশে টাকা চেয়ে এ প্রতারণার চেষ্টা করছে। তবে চক্রটি সিংড়া ও গুরুদাসপুরে বেশি সক্রিয় বলে জানিয়েছে জেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশন (ইফা)।

জানা গেছে, প্রতারক চক্রের সদস্যরা গত বৃহস্পতিবার সিংড়ার বেশ কয়েকজন মুহতামিম সুপার, ইমাম ও মুয়াজ্জিনের কাছে ফোন দিয়ে জানায়, সরকারিভাবে হজে পাঠানোর জন্য তারা মনোনীত হয়েছেন। এর পরই তাদের কাছে রেজিস্ট্রেশনের জন্য বিকাশে টাকা চাওয়া হয়। গতকাল দুপুরে এ প্রতারক চক্রের ফোন পেয়েছিলেন সিংড়ার বারইহাটি মাদ্রাসার সুপার নজরুল ইসলাম। একটি মোবাইল নম্বর থেকে কল করে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক পরিচয় দিয়ে তাকে বলা হয়, সরকারিভাবে হজে যাওয়ার জন্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক তার নাম সুপারিশ করেছেন। তবে হজে যেতে চাইলে রেজিস্ট্রেশনের জন্য ওই নম্বরে তাকে ৫-৭ হাজার টাকা বিকাশ করতে হবে।

বিষয়টি সন্দেহ হলে নজরুল ইসলাম প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী মাওলানা রুহুল আমীনের কাছে ফোন দেন। পরে রুহুল আমীন এ প্রতারক চক্রের ফাঁদে পা না দিতে তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে একটি সচেতনতামূলক পোস্ট দেন।

এদিকে ওই একই মোবাইল নম্বর থেকে নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল কুদ্দুসের ব্যক্তিগত সহকারী মুহাম্মদ ইব্রাহিমের পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন মাদ্রাসার মুহতামিমের কাছেও ফোন দেয়া হয়। একইভাবে তাদের কাছেও সরকারিভাবে হজে যাওয়ার জন্য বিকাশে রেজিস্ট্রেশনের টাকা চাওয়া হয়। এ ঘটনায়

মুহাম্মদ ইব্রাহিমও তার ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি সচেতনতামূলক বার্তা পোস্ট করেন।

এ বিষয়ে নাটোর জেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক মনিরুল ইসলাম বলেন, একটি প্রতারক চক্র এ কাজ করছে। এর আগেও তারা এ ধরনের কাজ করেছে। আমরা বারবার বলে আসছি, কেউ এ চক্রের ফাঁদে পা দেবেন না। কেউ এদের প্রতারণার শিকার হলে আমরা দায় নেব না। তবে কারো কোনো তথ্য জানার দরকার হলে সরাসরি আমাদের অফিসে যোগাযোগ করবেন।

তবে জেলা পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। কেউ অভিযোগ দিলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।