রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদে কচুরিপানার জটে নৌপথে ট্যুরিস্ট বোটসহ ইঞ্জিনচালিত ছোট-বড় যাত্রী এবং পণ্যবাহী নৌকা চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
হ্রদে মাছ আহরণ করতেও দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন জেলেরা।
সাম্প্রতিক সময়ে পর্যটকরাও হ্রদে ঘুরে বেড়াতে এসে বিপাকে পড়ছেন।
তাই এ বিড়ম্বনা থেকে রেহাই পেতে জরুরিভাবে কচুরিপানা অপসারণসহ স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছরই বর্ষা মৌসুমে হ্রদে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কচুরিপানা বেড়ে যায়।
এ সময় নাকাল হতে হয় রাঙ্গামাটিবাসীকে।
জেলার ১০ উপজেলার মধ্যে সাত উপজেলাতেই নৌপথে জেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগের পথ।
এর মধ্যে বিলাইছড়ি, জুরাছড়ি, বরকল, লংগদু ও বাঘাইছড়ি উপজেলার সঙ্গে রাঙ্গামাটি জেলা শহরের যোগাযোগে নৌপথ ছাড়া বিকল্প কোনো পথ নেই।
তবে নানিয়ারচর ও কাপ্তাই উপজেলায় চলাচলের জন্য সড়কপথও রয়েছে।
৭৩০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের কাপ্তাই হ্রদ জেলার উপজেলাগুলো ঘিরে রেখেছে।
আবার এ কাপ্তাই হ্রদই উপজেলাগুলোর অনেক বাসিন্দার জীবন-জীবিকার অন্যতম মাধ্যম।
কিন্তু বর্তমানে বিলাইছড়ি-কাপ্তাই নৌ-রুট এবং সুবলং নৌ-রুটে কচুরিপানার জটলার কারণে বিলাইছড়ি, জুরাছড়ি, বরকল, লংগদু ও বাঘাইছড়ি উপজেলায় নৌপথে যাত্রী যাতায়াত ও পণ্য পরিবহণ বিঘ্নিত হচ্ছে।
গত মঙ্গলবার চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডু এলাকা থেকে কাপ্তাই হ্রদে বেড়াতে এসে বিপাকে পড়েন বেশ কয়েকজন পর্যটক।
বিকাল থেকে হ্রদের মধ্যে কচুরিপানার জটে আটকে পড়ে সন্ধ্যা ঘনিয়ে রাত হলেও রেহাই পাননি।
পরে রাতে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ‘৯৯৯’-এ কল দিলে পুলিশ তাদের সেখান থেকে উদ্ধার করে শহরে আনেন।
রাঙ্গামাটি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কার্যালয়ের স্টেশন অফিসার মো. বিল্লাল হোসেন জানান, দুদিনে আমাদের জরুরি কল পেয়ে সুবলং চ্যানেলে গিয়ে দুই দফায় ১৩-১৪টি বোট ও যাত্রীদের উদ্ধার করে আনতে হয়েছে।
এটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।
কারণ শহর থেকে এত দূরে গিয়ে রাতে কিংবা ঝড়বৃষ্টি হলে উদ্ধার করা কঠিন।
রাঙ্গামাটি পর্যটন ঘাটের ট্যুরিস্ট বোট ব্যবস্থাপক মো. রমজান আলী বলেন, প্রতি বছরই কাপ্তাই হ্রদে কম-বেশি কচুরিপানা বেড়ে যায়।
তবে এ বছর মাত্রাতিরিক্ত কচুরিপানা বাড়ার কারণে ছোট-ছোট ট্যুরিস্ট বোটগুলো চলাচল করতে পারছে না।
চার-পাঁচদিন ধরে সুবলং চ্যানেলে কচুরিপানা এত বেশি জট লেগেছে যে কোনোভাবেই বোট নিয়ে এগোনো যাচ্ছে না।
স্পিডবোট যোগে লংগদু উপজেলা থেকে রাঙ্গামাটি শহরে আসা আরমান খান জানান, সুবলংয়ের পরে কাইন্দারমুখ এলাকাতে কচুরিপানা অস্বাভাবিক বেড়েছে।
এতে ছোট আকারের ইঞ্জিনচালিত নৌকা ও ট্যুরিস্ট বোটের সমস্যা হচ্ছে বেশি।
বৃহত্তর কাপ্তাই হ্রদ মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. শুক্কুর বলেন, হঠাৎ করেই কাপ্তাই হ্রদে কচুরিপানা বেড়ে গেছে।
বৃষ্টিপাত ও উজানের পানি নামার কারণে হ্রদে এখন পানির পরিমাণও অনেক।
এখন বাতাসের কারণে কচুরিপানাগুলো এদিক-ওদিক ভেসে বেড়ায়।
এ কারণে সুবলংয়ের পথে কচুরিপানা জট লেগে নৌ-চলাচলে ব্যাহত হচ্ছে।
তিনি জানান, কচুরিপানার কারণে জেলেরাও ঠিকঠাক মাছ ধরতে পারছেন না।
বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) রাঙ্গামাটি বিপণনকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. তৌহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, সুবলংয়ের কাইন্দারমুখ, কাপ্তাই-বিলাইছড়ি রুট ও নানিয়ারচরের চেঙ্গী রুটে কচুরিপানার সমস্যা দেখা দিয়েছে।
বিশেষত এসব এলাকায় সেসব জেলে কাচকি জাল ফেলে মাছ ধরেন তাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
জানতে চাইলে কাপ্তাই হ্রদ ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা কমিটির সভাপতি এবং রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরাও ভাবছি। শিগগিরই পদক্ষেপ নেয়া হবে।










