কুয়াকাটায় স্থাপিত দেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবলের (সিমিউই-৫) সিঙ্গাপুর অংশে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় দেশে ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত হচ্ছে। শুক্রবার রাত ১২টার পর এ সমস্যা শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে দু-তিনদিন সময় লাগতে পারে। সরবরাহে ঘাটতি মেটাতে সিমিউই-৪ কেবলের মাধ্যমে চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবলস কর্তৃপক্ষ।

গ্রাহকরা ইন্টারনেট সেবায় ধীরগতির অভিযোগ করছেন বলে জানিয়েছেন ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইএসপিএবি) সভাপতি ইমদাদুল হক। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘‌গতকাল রাত থেকে গ্রাহকরা ফোন করে ধীরগতির ইন্টারনেটের বিষয়ে অভিযোগ করছেন। আমাদের সাবমেরিন কেবল সিমিউই-৫-এর সিঙ্গাপুর অংশে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে আমাদের ওপর। এটি শিগগিরই ঠিক হবে না। দুই থেকে তিনদিন, এমনকি আরো বেশি সময় লাগতে পারে।’

বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবলস পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মির্জা কামাল আহমেদ বণিক বার্তাকে জানান, সিমিউই-৫ দিয়ে দেশে ১ হাজার ৬০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইডথ সরবরাহ হয়। এটি এখন বন্ধ আছে। সিমিউই-৪ এ এখন কিছু ব্যান্ডউইডথ ব্যাকআপ আছে। সিমিউই-৪ (প্রথম সাবমেরিন কেবল) দিয়ে বিকল্প ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলছে।

তিনি আরো জানান, শুক্রবার রাত ১২টার দিকে দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবলটির সিঙ্গাপুর থেকে ৪৪০ কিলোমিটার পশ্চিম প্রান্তে হঠাৎ করে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এতে কেবলের মাধ্যমে কুয়াকাটা-সিঙ্গাপুর অভিমুখী সব ট্রাফিক বর্তমানে বন্ধ আছে। সিমিউই-৫ কনসোর্টিয়ামের মাধ্যমে কেবলটি মেরামত করে দ্রুত পুনঃসংযোগ করা হবে।

দেশের মোট ব্যান্ডউইডথ ব্যবহার এখন পাঁচ হাজার জিবিপিএস। দুই সাবমেরিন কেবলের বাইরে প্রায় ২ হাজার ৭০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইডথ আন্তর্জাতিক টেরেস্ট্রিয়াল কেবলের (আইটিসি) মাধ্যমে স্থলসীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে আমদানি করা হয়। ২০২৫ সালের মধ্যে তৃতীয় সাবমেরিন কেবল সিমিউই-৬ থেকে আরো ১৩ হাজার ২০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইডথ যুক্ত হবে।