চলতি বিশ্বকাপেই শ্রীলংকার বিপক্ষে ৩৪৫ রান তাড়া করে জয় পায় পাকিস্তান এবং রান তাড়ায় সেটিই বিশ্বকাপের ইতিহাসে রেকর্ড। গতকাল ভারতের ধর্মশালায় এ রেকর্ড পড়ে হুমকির মুখে। অস্ট্রেলিয়ার ছুড়ে দেয়া ৩৮৯ রানও নিরাপদ মনে হচ্ছিল না উড়ন্ত নিউজিল্যান্ডের সামনে। শেষ অবধি পারেনি কিউইরা। তীরে এসে তরী ডুবল টম ল্যাথামের দলের। ৭৭১ রানের এ ট্রান্স-তাসমান ক্ল্যাসিকে তারা হার মানল মাত্র ৫ রানে! 

চোট কাটিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ষষ্ঠ ম্যাচে এসে গতকাল ধর্মশালায় খেলার সুযোগ পান ট্রাভিস হেড। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ফিরেই মাত্র ৫৯ বলে সেঞ্চুরি করলেন এ বামহাতি বিস্ফোরক ব্যাটার। এছাড়া ৬৫ বলে ৮১ রান করেন ডেভিড ওয়ার্নার। এ দুজনের ঝড়ে ২৩ ওভারেই ২০০ রান তুলে নেয় অজিরা। শেষ দিকে কিউইরা বোলিংয়ে নিয়ন্ত্রণ আনতে সমর্থ হলেও অজিরা ৪৯.২ ওভারে ৩৮৮ রান তুলে অলআউট হয়। 

অজিরা রানের সৌধ গড়লেও উত্তাপ কিন্তু সেখানেই শেষ হয়ে যায়নি। চারশর কাছাকাছি টার্গেট সামনে পেলেও প্রতিপক্ষকে মোটেও ছেড়ে কথা বলেনি কেন উইলিয়ামসবিহীন নিউজিল্যান্ড। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপের অভিষেক ম্যাচেই সেঞ্চুরি করা রাচিন রবীন্দ্র গতকাল ৮৯ বলে ৯ চার ও ৫ ছক্কায় ১১৬ রানের ইনিংস খেলে কিউইদের জয়ের স্বপ্ন জাগান। সঙ্গে ছিল ড্যারিল মিচেলের ফিফটি (৫১ বলে ৫৪)। শেষ দিকে জেমস নিশাম ৩৯ বলে ৫৮ রানের লড়াকু ইনিংস খেলে দলকে জয়ের কাছাকাছি নিয়ে যান। যদিও শেষ ওভারের নাটকীয়তায় হার মানেন তিনি।

জিততে ৬ বলে ১৯ রানের প্রয়োজন ছিল নিউজিল্যান্ডের। বল হাতে অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বস্ত নাম মিচেল স্টার্ক। ৫১ রানে নিশাম ও ৯ রানে অপরাজিত ট্রেন্ট বোল্ট। একটি ওয়াইডে পাঁচ রান ছাড়া এই ওভারে তেমন সুবিধা করতে পারছিলেন না নিশাম ও বোল্ট। তবু জয়ের কাছাকাছি পৌঁছে যান তারা। শেষ ২ বলে প্রয়োজন ৭ রান। পঞ্চম বলে দৌড়ে ২ রান নিতে গিয়ে রানআউট নিশাম! কিউইদের স্বপ্নের সমাধিও সেখানে হয়ে যায়। শেষ বলে ছক্কা লাগলেও স্টার্কের গোলা থেকে কোনো রানই নিতে পারলেন না নতুন ব্যাটার লোকি ফার্গুসন। ৫ রানের নাটকীয় জয় তুলে নিয়ে সেমিফাইনালের পথেও এক ধাপ এগিয়ে গেল অস্ট্রেলিয়া।

টানা দুই ম্যাচ হারলেও অজিরা এখন ৬ ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থান সংহত করল। সেই সঙ্গে বাড়ল তাদের নিট রানরেটও (০.৯৭০)। সমান ম্যাচে সমান পয়েন্ট নিয়ে তিনে নিউজিল্যান্ড (১.২৩২)। টেবিলের এক ও দুইয়ে যথাক্রমে দক্ষিণ আফ্রিকা (২.০৩২) ও ভারত (১.৩৫৩)। 

গতকাল ১৯তম খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপ অভিষেকেই সেঞ্চুরি করেন হেড। অকেশনাল স্পিনার গ্লেন ফিলিপসের শিকার হওয়ার আগে ৬৭ বলে ১০ চার ও ৭ ছক্কায় ১০৯ রান করেন তিনি। উদ্বোধনী জুটিতে ডেভিড ওয়ার্নারকে নিয়ে ১১৭ বলে ১৭৫ রান যোগ করেন হেড। ওয়ার্নারের ফিরতি ক্যাচ নিয়ে এ জুটি ভাঙেন ফিলিপস। পরে হেডকে করেন বোল্ড। অজি ঝড়ের মধ্যে অবিশ্বাস্য বোলিং করে চলা ফিলিপস এরপর শিকার করেন ১৭ বলে ১৮ রান করা স্টিভ স্মিথকে।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে করা হেডের ফিফটি চলতি বিশ্বকাপে যৌথভাবে দ্রুততম। ৭ অক্টোবর দিল্লিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২৫ বলে ফিফটি করেছিলেন শ্রীলংকার কুশল মেন্ডিস। 

চলতি বিশ্বকাপে দুটি সেঞ্চুরি করা ওয়ার্নার গতকাল ফিফটি করেছেন ২৮ বলে। ৬৫ বলে ৫টি চার ও ৬টি ছক্কায় ৮১ রানের ইনিংস খেলে সাজঘরের পথ ধরেন ওয়ার্নার। তবে তার আগে লণ্ডভণ্ড করে দিয়ে যান কিউই বোলিং লাইনআপ। এ দুই ওপেনার মিলে পাওয়ার প্লের ১০ ওভারেই তুলেছেন ১১৮ রান। উদ্বোধনী জুটিতে এতটাই ঝড় ওঠে যে প্রথম ৯ ওভারের মধ্যেই ফিফটি করেন ওয়ার্নার ও হেড!

প্রথম পাওয়ার প্লেতে অজিদের তোলা ১১৮ রান ওয়ানডেতে যৌথভাবে তৃতীয় সর্বোচ্চ। আর ওয়ানডে বিশ্বকাপে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ২০০৩ বিশ্বকাপে কানাডার বিপক্ষে প্রথম ১০ ওভারে ১১৯ রান তুলেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। 

অজিরা মাত্র ২৩ ওভারে ২০০ তুলে নিলেও পরে কিছু উইকেট হারালে রানের গতি শ্লথ হয়। শেষ ২৭ ওভার থেকে তারা ৮ উইকেট হারিয়ে ১৮৮ রান তুলতে পেরেছে। ম্যাক্সওয়েল (২৪ বলে ৪১), জস ইংলিশ (২৮ বলে ৩৮) ও কামিন্সের (১৪ বলে ৩৭) ঝড়ে সংগ্রহটা চারশ পেরিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। যদিও ৪৯তম ওভারে তিনটি উইকেট তুলে অজিদের চারশর আগে আটকান ট্রেন্ট বোল্ট। ফিলিপস ও বোল্ট উভয়ই তিনটি করে এবং মিচেল স্যান্টনার দুটি উইকেট নেন। 

বুধবার পুনেতে দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হবে নিউজিল্যান্ড। শনিবার আহমেদাবাদে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

অস্ট্রেলিয়া: ৫০ ওভারে ৩৮৮ (হেড ১০৯, ওয়ার্নার ৮১, ম্যাক্সওয়েল ৪১; ফিলিপস ৩/৩৭, বোল্ট ৩/৭৭)। নিউজিল্যান্ড: ৫০ ওভারে ৩৮৩/৯ (রাচিন ১১৬, নিশাম ৫৮, মিচেল ৫৪; জাম্পা ৩/৭৮, কামিন্স ২/৬৬, স্টার্ক ৭০)। ফল: অস্ট্রেলিয়া ৫ রানে জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ: ট্রাভিস হেড (অস্ট্রেলিয়া)।