করোনাভাইরাস মহামারীর সময় শিশু পাচার, শিশুর প্রতি যৌন ও শারীরিক নির্যাতন বৃদ্ধি পেয়েছে। একইসঙ্গে বাল্যবিবাহ ও মানসিক সহিংসতার শিকার হয়েছে শিশুরা। এ পরিস্থিতি ভবিষ্যত প্রজন্ম ও সমাজের ওপর খুবই নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বাসযোগ্য পৃথিবী বিনির্মাণে শিশুদের ওপর সকল প্রকার সহিংসতা বন্ধের দাবি জানিয়েছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা উদয়ন বাংলাদেশ ও ইনসিডিন বাংলাদেশ।

আজ শুক্রবার দুপুরে কোভিড-১৯ মহামারী চালাকালীন শিশু পাচার ও শিশুর প্রতি যৌন শোষণ প্রতিরোধ এবং সুরক্ষায় স্থানীয় সরকারের কমিটির প্রসাশনিক ব্যবস্থার  প্রয়োগ ও চ্যালেঞ্জ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ২০২১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী দেশের জনগোষ্ঠির শতকরা ৪৫ জন শিশু। সে হিসেবে দেশে শিশুর সংখ্যা আনুমানিক ৬ কোটি ৩০ লাখ। এরমধ্যে শতকরা ২৭ ভাগ শহরে ও ৭৩ ভাগ গ্রামে বাস করে। প্রতিদিন অসংখ্য শিশু পরিবারে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, কর্মক্ষেত্রসহ সমাজের বিভিন্ন স্থানে দৈহিক ও মানসিক সহিংসতার শিকার হয়। বল্যবিবাহ ও পাচারের মতো ভয়াবহ পরিণতিও ভোগ করতে হয় অনেক শিশুকে।

বক্তারা বলেন, ২০১১ সালের প্রণীত শিশু নীতিমালায় তাদের মৌলিক মানবাধিকারের বিষয়টি অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণভাবে দেখা হয়েছে। সরকারি নীতি ও আইন থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশে বাল্যবিবাহ, শিশু-শ্রম, যৌন নির্যাতন, শিশু পাচার একটি সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। এই অবস্থার প্রতিকারে সরকারসহ সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান বক্তারা।

এছাড়া শিশু নির্যাতন ও শিশুর প্রতি সহিংসতা রোধে গনমাধ্যমকর্মীসহ সাধারণ মানুষের করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় সংবাদ সম্মেলনে। পাশাপাশি জরুরি সেবার হটলাইন ৯৯৯, ১০৯, ১০৯৮ নম্বরের ব্যবহার সম্পর্কে শিশুদের সচেতন করতে অনুরোধ জানান বক্তারা।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা উদয়ন বাংলাদেশ এবং ইনসিডিন বাংলাদেশের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ইনসিডিন বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. রফিকুল ইসলাম খান আলম। এসময় উদয়ন বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক শেখ আসাদুজ্জামান, বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সভাপতি নীহার রঞ্জন সাহা, অ্যাডভোকেট মিলন কুমার ব্যানার্জী, উদয়ন বাংলাদেশের পরিচালক ইশরাত জাহান,  সাবেক শিক্ষক মূখার্জী রবিন্দ্রনাথ, শিক্ষিকা তহমিনা বেগম মিনু, উদয়নের প্রোগাম সমন্বয়কারী রুমকী আক্তার, ফাতেমা আক্তার মুক্তি,মোশারফ হোসেন, বিল্লাল হোসেনসহ বাগেরহাটে কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।