শিশুদের নিরাপত্তা, শিক্ষার্থীদের মানসিক ও সামাজিক সুস্থতা এবং বিদ্যালয়ে কার্যকর সেফগার্ডিং ব্যবস্থা জোরদারের লক্ষ্যে হেইলিবেরি ভালুকা ও কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্ট-এর যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে সেফগার্ডিং লিডারশীপ সামিট-২০২৬।
রোববার (১৬ সেপ্টেম্বর) লো মেরিডিয়ান ঢাকায় আয়োজিত এ সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, শিক্ষক ও সেফগার্ডিং পেশাজীবীরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
আয়োজকদের মতে, বর্তমান সময়ে একটি বিদ্যালয়ের সাফল্য শুধু একাডেমিক ফলাফলের ওপর নির্ভর করে না। একটি শিশুর জন্য নিরাপদ, সহায়ক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করাও বিদ্যালয়ের উৎকর্ষের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
সম্মেলনের শুরুতে বক্তব্য দেন কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্ট-এর কান্ট্রি লীড সারওয়াত রেজা। তিনি বলেন, স্কুল এক্সেলেন্স বা বিদ্যালয়ের উৎকর্ষতার ধারণাকে একাডেমিক ফলাফলের বাইরে নিয়ে গিয়ে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সুস্থতার সঙ্গে যুক্ত করা জরুরি।
সম্মেলনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
ববি হাজ্জাজ তার বক্তব্যে বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষার মান উন্নয়নে নিরলসভাবে ব্যাপক পরিসরে বিভিন্ন সুদুরপ্রসারি উদ্যোগ নিয়েছে। পড়াশুনার মান উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাঠাপমোগত মান উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সুস্থ্য পরিবেশ নিশ্চিতকরণে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাথে পার্টনারশীপে কাজ করতে অঙ্গীকারবদ্ধ বর্তমান সরকার।
হেইলিবারি ভালুকার ফাউন্ডিং হেড মাস্টার সাইমন ও’ গ্রেডি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বিদ্যালয় নেতাদের দৃশ্যমান, অনুসন্ধিৎসু, সাহসী, ধারাবাহিক, তথ্য-প্রমাণনির্ভর এবং শেখার মানসিকতাসম্পন্ন হওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন।
তার বক্তব্যে শিশুদের ওপর শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিকর শৃঙ্খলাবিধান, মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও শিক্ষাজীবন সম্পন্ন করার হার কমে যাওয়া, অভিযোগ না জানানোর প্রবণতা এবং কর্তৃত্বকে প্রশ্ন করার ক্ষেত্রে সাংস্কৃতিক প্রতিবন্ধকতার মতো বিষয় উঠে আসে।
সম্মেলনে শিশু সুরক্ষায় শুধু নীতিমালা তৈরি করাই যথেষ্ট নয় বলে উল্লেখ করেন আলোচকরা।
সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী প্রধান শিক্ষক বা প্রিন্সিপালদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে সেফগার্ডিং ব্যবস্থা আরো শক্তিশালী করার আহ্বান জানানো হয়। একই সাথে স্পষ্ট দায়িত্ব নির্ধারণ, উদ্বেগ প্রকাশের নিরাপদ পরিবেশ তৈরি, পেশাগত প্রশিক্ষণ বৃদ্ধি এবং শিশু সুরক্ষার ব্যবস্থাগুলো নিয়মিত পর্যালোচনার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়।
আয়োজকদের মতে, সেফগার্ডিং কোনো একটি নীতিমালা বা নির্দিষ্ট ব্যক্তির একক দায়িত্ব নয়। এটি কার্যকর করতে প্রয়োজন নেতৃত্ব, জবাবদিহিতা, তথ্য-প্রমাণ, পেশাগত উন্নয়ন এবং পুরো বিদ্যালয়জুড়ে সম্মিলিত দায়িত্ববোধ।










