রেল ব্যবস্থার বর্তমান বাস্তবচিত্র তুলে ধরে রেলপথমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল রেলওয়ে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে রেল ব্যবস্থার সংস্কারকাজে হাত দিয়েছিলেন। কিন্তু ১৯৭৫ সালে তাকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে রেলের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। ১৯৭৩ সালে রেলের জনবল ছিল ৬৮ হাজার, এখন সেখানে কমে হয়েছে ২৫ হাজার।

মন্ত্রী গতকাল রাজশাহী রেলভবন ও রেলস্টেশনের বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন।

বর্তমান সরকার রেল ব্যবস্থাকে আগের অবস্থায় ফেরাতে চায়। জনবল নিয়োগ ও রেল ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করা নিয়ে রেলপথমন্ত্রী বলেন, রেল ব্যবস্থাকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করে গড়ে তোলা হবে। বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়েতে লোকবল সংকট রয়েছে। রেলসেবা ত্বরান্বিত করতে খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে ১০-১৫ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। বিগত সময়ে রেলসেবা ভেঙে পড়েছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রেলসেবাকে সেই ভগ্নদশা থেকে উদ্ধার করে রেলওয়েকে একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন। বাংলাদেশ রেলওয়েকে সম্পূর্ণ আধুনিক করার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে সরকার।

রাজশাহীতে বহুতল রেলভবন নির্মাণ করা হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, রাজশাহী থেকে আব্দুলপুর পর্যন্ত ডাবল লাইন এবং সব রেল ব্যবস্থাকে ব্রড গেজ লাইনে রূপান্তর করার কাজ চলছে। প্রতিটি জেলার সঙ্গে রেললাইনের সংযোগ থাকবে। ঈশ্বরদী-জয়দেবপুর পর্যন্ত ডাবল লাইন করা হবে। উত্তরাঞ্চল থেকে কাঁচামাল যাতে অল্প সময়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে সহজে বাজারজাত করা যায় সে পরিকল্পনাও সরকারের আছে।

মন্ত্রী জানান, উত্তরাঞ্চলে ইপিজেড গড়ে তোলার জন্য উপযুক্ত জায়গা স্থির করার কাজ চলছে। সরকারের নেপাল-ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে রেলযোগাযোগ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে।

পরিদর্শনকালে রেলওয়ের সচিব মো. সেলিম রেজা, মহাপরিচালক ডিএন মজুমদার, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পশ্চিম) অজয় কুমার পোদ্দারি এবং রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার মো. আব্দুল করিমসহ রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ছাড়া একটা দেশ এগিয়ে যেতে পারে না। কেবল সড়কের ওপর নির্ভর করে একটা দেশের পরিপূর্ণ উন্নয়ন সম্ভব নয়। এরই অংশ হিসেবে রেলওয়ের উন্নয়নের কাজে হাত দিয়েছে সরকার।

গতকাল বিকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর রেলস্টেশন পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন।

এর আগে মন্ত্রী রাজশাহী থেকে বিশেষ ট্রেনযোগে রহনপুর রেলস্টেশনে এসে পৌঁছলে জেলা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা মন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য ডা. সামিল উদ্দিন আহম্মেদ শিমুল, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওদুদ, সহসভাপতি মুহা. জিয়াউর রহমান, রহনপুর পৌর মেয়র মতিউর রহমান খান প্রমুখ।