বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ কর্মসূচির মধ্যেই দক্ষিণের ২১ রুটে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ করে দিয়ে পাল্টা বিক্ষোভ করেছেন পরিবহন শ্রমিকরা। এদিকে ব্যস্ততম মহাসড়ক অবরোধ ও হঠাৎ যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। দ্রুত এ সমস্যা সমাধান করে যান চলাচল স্বাভাবিক করার দাবি জানান তারা।

গভীর রাতে মেসে ঢুকে শিক্ষার্থীদের নির্যাতনকারীদের গ্রেফতারসহ তিন দফা দাবি বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে আদায় না হওয়ায় শুক্রবার বিকাল থেকে ফের বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ শুরু করেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা। গতকাল সকাল সাড়ে ৯টায় মহাসড়কের কর্ণকাঠী এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে গাছের গুড়ি ফেলে এবং আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা। তিন দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত মহাসড়ক অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেন তারা। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মামলায় শুক্রবার রাতে সন্দেহভাজন দুই শ্রমিককে পুলিশ গ্রেফতার করলেও তারা ওই হামলায় জড়িত নয় বলে দাবি শিক্ষার্থীদের। প্রকৃত হামলাকারীদের গ্রেফতার এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরসহ তিন দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান তমাল।

এদিকে শিক্ষার্থীদের অবরোধ শুরুর কিছুক্ষণ পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরসহ শিক্ষকদের একটি দল শিক্ষার্থীদের শান্ত করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। তবে জনদুর্ভোগ লাঘবে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে অবরোধ প্রত্যাহার করানোর চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রক্টর ড. সুব্রত কুমার দাস।

অন্যদিকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদের ওপর হামলার ঘটনায় মামলায় দুই পরিবহন শ্রমিক গ্রেফতারের প্রতিবাদে এবং তাদের মুক্তির দাবিতে বাস চলাচল বন্ধ রেখে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন শ্রমিকরা। গতকাল বেলা ১১টার দিকে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি রুটে চলাচলকালী রূপাতলী বাস টার্মিনাল চত্বরে এ বিক্ষোভ শুরু করেন শ্রমিকরা। এ সময় শ্রমিকরা সামনের সড়ক অবরোধ করে রাখায় ২১টি রুটের পাশাপাশি সেখান থেকে বরিশাল নগরীতেও কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারেনি।

বরিশাল-পটুয়াখালী মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাওছার হোসেন শিপন জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় রূপাতলী বাস টার্মিনালের কেউ জড়িত নয়। কারা এসব কাজ করেছে তাও আমরা জানি না। আমরা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছি। তবে ষড়যন্ত্রমূলক রূপাতলী বাস টার্মিনালের দুই শ্রমিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। আন্দোলনরত শ্রমিকরা জানান, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঝামেলা হয়েছে বিআরটিসির স্টাফদের সঙ্গে। কিন্তু পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেফতার না করে আমাদের শ্রমিকদের গ্রেফতার করেছে।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি নূরুল ইসলাম জানান, একদিকে শ্রমিকরা বিক্ষোভ করছেন, অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছেন। উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।