দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার খট্টামাধবপাড়া ইউনিয়নে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দুস্থদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে দেয়া চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ১০ কেজি করে চাল বিতরণের কথা থাকলেও চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আট-নয় কেজি করে চাল দেয়ার অভিযোগ। চাল কম দেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন উপকারভোগীরা। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান।

এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার।

গতকাল সরেজমিন হিলির খট্টামাধবপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, পবিত্র ঈদুর ফিতর উপলক্ষে দুস্থদের মধ্যে ভিজিএফের চাল বিতরণ করা হচ্ছে। নিয়মানুযায়ী সেখানে দেখা মেলেনি কোনো ট্যাগ অফিসারের। দাঁড়িপাল্লার পরিবর্তে প্লাস্টিকের বালতিতে করে চাল ওজন করে দেয়া হচ্ছে।

চাল পাওয়া কয়েকজনের চাল পুনরায় ওজন করে এক-দুই কেজি করে কম পাওয়া যায়। পরে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে তাদের বালতির চাল ওজন করে ৯ কেজি ৬০০ গ্রাম করে পাওয়া যায়।

চাল পাওয়া সিরাজুল ইসলাম বলেন, গতকাল সকালে আমি ও আমার ভায়রার পাওয়া দুটি কার্ডের চাল ইউনিয়ন পরিষদে তুলতে আসি। পরে চাল তুলে বাইরে ওজন করে দেখি ১০ কেজির পরিবর্তে নয় কেজি করে ১৮ কেজি চাল দিয়েছে। তারা চাল ওজন না করে বালতিতে করে দিচ্ছে।

চাল পাওয়া ফরহাদুল ইসলাম বলেন, তারা তাদের ইচ্ছামতো বালতিতে করে চাল দিচ্ছে। চাল নিয়ে বাইরে ওজন করে দেখি আট কেজি হয়েছে। যেখানে চালের ওজন ১০ কেজি হওয়ার কথা ছিল।

খট্টামাধবপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান কাওসার রহমান বলেন, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে আমার ইউনিয়নে চার হাজার মানুষের মধ্যে বিতরণের জন্য ৪০ টন চাল বরাদ্দ পেয়েছি। সে অনুযায়ী চাল বিতরণ করা হচ্ছে। আমার এখানে চাল কম দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। যেহেতু চার হাজার মানুষকে চাল বিতরণ করা হচ্ছে, হয়তোবা ১০০-২০০ গ্রাম চাল কমবেশি থাকতে পারে।

হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূর-এ আলম বলেন, ঈদ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে প্রত্যেককে ১০ কেজি করে চাল দেয়া হবে এটাই নিয়ম। কেন চাল কম দেয়া হচ্ছে, তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।