রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গণনিয়োগ দেওয়া মাত্র ৯ জনের জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) পেয়েছে শিক্ষামন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি। নিয়োগপ্রাপ্তদের বাকি ১২৮ জনের কোন বৈধ কাগজপত্র পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন তদন্ত কমিটির সদস্যরা। নিয়োগ সংক্রান্ত এমন কাগজপত্র হেফাজতে নিয়েছেন তারা।
তদন্ত কমিটির প্রধান ও ইউজিসি সদস্য অধ্যপক ড. আলমগীর হোসেন বলেন, শিক্ষামন্ত্রণালয় থেকে প্রশাসনিক কারণে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল নিয়োগ বন্ধ করে দেয়া হয়। তবে ৫ মে কাগজপত্র তৈরি করে ৬ মে সবাইকে ডেকে এনে নিয়োগ দেওয়া হয়। আমরা দীর্ঘক্ষণ ধরে উপাচার্যের সাক্ষাৎকার নিয়েছি। তিনি অনেক বিষয়ে উত্তর দিতে পারেন নি। অনিয়মের সর্বোচ্চ পর্যায়ের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
অধ্যাপক আলমগীর হোসেন বলেন, আমরা ১৩৭ জনের তালিকা পেয়েছি। এদের মধ্যে ৯ ব্যক্তির সিভি পেয়েছি, আর কারও কোনো কাগজপত্র বা নথি নেই। তার মানে পুরো প্রক্রিয়াটাতেই অস্বচ্ছ বিষয় কাজ করেছে।
তবে, নিয়োগ পাওয়াদের একজন তৌহিদ মোর্শেদ দাবি করেন, কয়েকজন বড় ভাইয়ের কাছে সিভি জমা দিয়েছেন তারা এবং একাধিকবার সিভি জমা দেওয়া হয়েছে। মাহফুজ আল আমিন নামের একজন বলেন, উপাচার্যের কাছে সিভিগুলো জমা দেওয়া হয়েছে। এখন নিয়োগকে বিতর্কিত করতে এমন বিষয় ছড়ানো হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
তদন্ত প্রতিবেদনের অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক আলমগীর হোসেন বলেন, প্রতিবেদনের কাজ এখনও শেষ হয়নি। আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছি। এরপর সকলের সাক্ষাৎকার নিয়েছি, এর আলোকে প্রতিবেদন করা হচ্ছে। সময়ের মধ্যেই প্রতিবেদন জমা দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। এরপর শিক্ষামন্ত্রণালয়ে সুপারিশ জানাবো। যারা ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা রাখেন তারা এব্যাপারে ব্যবস্থা বা সিদ্ধান্ত নিবেন।
অন্যদিকে নিজের ‘ইচ্ছামত’ নিয়োগ দিতে রেজিস্ট্রার অধ্যাপক আব্দুস সালামকে অনুপস্থিত দেখান বিদায়ী উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান। এরপর মৌখিক নির্দেশের এক দাপ্তরিক নোটে নিজ স্বাক্ষরে অনুমোদন দেন। নোটে লেখা হয় ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে রেজিস্ট্রার ও অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার অনুপস্থিত থাকায় বিভিন্ন পদে নিয়োগপত্রে স্বাক্ষরের জন্য সংস্থাপন শাখার অফিসার ইউনিটের উপ-রেজিস্ট্রার ইউসুফ আলীকে দায়িত্ব দেয়া যেতে পারে।’
নিয়োগ বৈধ করতে উপাচার্য এমন চাতুরতার আশ্রয় দিয়েছেন বলে দাবি করে রেজিস্ট্রার আবদুস সালাম বলেন, নোটে যে তথ্য দেয়া হয়েছে, তা মোটেও ‘সত্য ও সঠিক’ নয়। আমি ছুটিতে যাইনি, এমনকি পদত্যাগও করিনি। নোটটির একটি কপি তদন্ত কমিটির সদস্যরা নিয়ে গেছেন।
এর আগে দ্বিতীয় মেয়াদের শেষ সময়ে গত ৫ মে, ১৩৭ জনকে অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ দেন বিদায়ী উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম আব্দুস সোবহান। পরে নিয়োগ অবৈধ ঘোষণা করে ওই দিনই তদন্ত কমিটি গঠন করে শিক্ষামন্ত্রণালয়।










