পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় সরকারের কাজের ঘাটতি ও ভুল ধরিয়ে দিয়ে তা সংশোধনে সহযোগিতা করতে তরুণদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. সাইমুম পারভেজ। তিনি বলেছেন, পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়; তরুণ, নাগরিক সমাজ ও অন্যান্য অংশীজনকে সঙ্গে নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
লোকাল কনফারেন্স অব ইয়ুথ বাংলাদেশ ২০২৬-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। সম্মেলনে তরুণদের উদ্দেশ্যে ড. সাইমুম পারভেজ বলেন, তারা যেন সরকারের সমালোচনা করেন, ভুলগুলো ধরিয়ে দেন এবং সরকারের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ তৈরি করেন।
জলবায়ু সংকট মোকাবেলায় জাতীয় উদ্যোগের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এ ধরনের সম্মেলন ও প্ল্যাটফর্ম তরুণদের একত্রিত হওয়ার সুযোগ তৈরি করে। পরিবেশ রক্ষায় সবার মধ্যে নিজ নিজ দায়িত্ববোধ তৈরি হলে কার্যকর ও টেকসই উদ্যোগ নেয়া সম্ভব হবে।
আসন্ন কপ৩১-এ তরুণদের অংশগ্রহণের বিষয়ে তিনি জানান, বাংলাদেশের প্যাভিলিয়ন, অবস্থানপত্র ও আলোচনার বিষয় নির্ধারণে তরুণদের যুক্ত করার চেষ্টা করছে সরকার। তাদের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রচলিত ধারার বাইরে চিন্তা করার সক্ষমতা নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সম্মেলনে তরুণদের দেয়া প্রস্তাবের সঙ্গে সরকারের পরিবেশবিষয়ক পরিকল্পনার সামঞ্জস্য রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন ড. সাইমুম পারভেজ। বিশেষ করে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি ও বৃক্ষরোপণের বিষয়গুলো তুলে ধরে তিনি বলেন, তরুণদের প্রত্যাশা ও সরকারের উদ্যোগের এ সমন্বয় ভবিষ্যতেও বজায় রাখতে চান তারা।
পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্য নিয়ে ড. সাইমুম পারভেজ জানান, কর্মসূচিটি এখনো গবেষণা ও পরিকল্পনার পর্যায়ে রয়েছে। কোন এলাকায় কোন প্রজাতির গাছ উপযোগী, তা বিবেচনায় নিয়ে স্থানীয় ও দেশীয় প্রজাতিকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি দুই কোটি ম্যানগ্রোভ গাছ রোপণের একটি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। চলতি বছর থেকেই এর কাজ শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে।
শুধু চারা রোপণ নয়, গাছের পরিচর্যা ও দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। বৃক্ষরোপণ ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম অ্যাপের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, গাছের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বের ৮০ শতাংশ নারীদের হাতে দেয়ার আগ্রহ রয়েছে।
পরিবেশ সুরক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিয়ে ড. সাইমুম পারভেজ বলেন, সরকার, তরুণ, নাগরিক সমাজ ও অন্যান্য অংশীজনের অংশীদারত্বের মাধ্যমেই কার্যকর পরিবর্তন আনা সম্ভব। পরিবেশের ক্ষতি করে বা বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়ায়—এমন কোনো পদক্ষেপ সরকার নিতে চায় না।










