বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে তিনদিনের ভারি বর্ষণে বরিশালের শীতকালীন আগাম সবজির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কৃষি অধিদপ্তরের দেয়া তথ্যমতে, এবারের বৃষ্টিতে বরিশালে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শীতকালীন আগাম সবজি।
জেলার ১০ উপজেলায় ৫০০ হেক্টর জমিতে আগাম শীতকালীন সবজি আবাদ করা হয়। এর মধ্যে টানা বর্ষণে জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে ৩৭৫ হেক্টর জমির সবজি। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে বরিশাল সদর উপজেলা ও বাবুগঞ্জ উপজেলা।
বরিশালে আবাদকৃত আগাম শীতকালীন সবজির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, লালশাক, মুলা, পালংশাক, টমেটো, বেগুন, শিম, শসা, ধনেপাতা ইত্যাদি। তিনদিনের ভারি বৃষ্টিতে বাঁধাকপি, ফুলকপি, মরিচের চারা নষ্ট হয়েছে বলে কৃষি অধিদপ্তরের বরিশাল জেলা অফিস সূত্র মাঠপর্যায়ের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানিয়েছে।
জেলায় সবচেয়ে বেশি সবজির চাষ হয় নগরীসংলগ্ন বাবুগঞ্জ উপজেলায়। এ উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন জানান, তার উপজেলায় ৭০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজির আগাম চাষ হয়েছিল। এর মধ্যে ৫২ হেক্টর জমি বৃষ্টিতে আক্রান্ত হয়েছে। অতিরিক্ত বৃষ্টিতে সবজির জমিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। গতকাল পর্যন্ত পানি পুরোপুরি অপসারিত হয়নি।
বরিশাল সদর উপজেলাসংলগ্ন ঝালকাঠির কীর্তিপাশা ইউনিয়নের রমনাথপুর গ্রামের সবজিচাষী মাহামুদ হোসেন হেমায়েত বলেন, তার তিন হেক্টর জমির সবজি বৃষ্টিতে ডুবে গেছে। আগাম সবজিতে ভালো দাম পাওয়ার আশা ছিল। কিন্তু এবার সে আশা পূরণ হবে না।
মুলাদী উপজেলা কৃষি সমিতির সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম বলেন, তার সংগঠনের আটজন সদস্য লালশাক চাষ করেছিলেন। সব মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। পালংশাক এবং টমেটোও শেষ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, আমন ধানের শীষ বের হওয়ার পর্যায়ে। কিন্তু সেগুলোও বৃষ্টিতে নুয়ে পড়েছে।
মুলাদী উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা কামরুজ্জামান জানান, তার উপজেলায় শীতকালীন আগাম সবজির ক্ষতি হয়েছে সবচেয়ে বেশি। উপজেলায় ৪০ হেক্টর জমিতে লালশাক, টমেটো, বেগুন, ধনিয়া রোপণ করা হয়েছিল। এর শতভাগই পানিতে নিমজ্জিত।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বরিশাল জেলার উপপরিচালক মো. তাওফিকুল আলম জানান, ভারি বর্ষণে বরিশালে আগাম শীতকালীন সবজি মারাত্মকভাবে ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে লালশাক, মুলা, পালংশাক, টমেটো, বেগুন, শসা, ধনেপাতা নষ্ট হয়েছে। এসব শাকসবজির মৌসুম কেবল শুরু হয়েছে। শুরুতেই বিপর্যয়ের মুখে পড়ল।










