পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি আজ সারা দেশ থেকে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) নেতাকর্মীদের সোয়াবি ইন্টারচেঞ্জে আসার আহ্বান জানানোর পর তার প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা পিটিআইকে খাইবার পাখতুনখাওয়ার বাইরে লংমার্চে না নেয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছেন। সন্ত্রাসবাদবিরোধী নীতি নিয়ে মতপার্থক্যের সঙ্গে খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জরুরি অবস্থা জারি অথবা গভর্নর শাসন জারির সম্ভাবনার বিষয়টিও যুক্ত করছেন তারা। খবর ডন ও জিও নিউজ।

আজ সমাবেশ থেকে পিটিআই তাদের লংমার্চের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণার পরিকল্পনা করছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন সোহেল আফ্রিদি।

সূত্র জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকার খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জরুরি অবস্থা বা গভর্নরের শাসন জারির বিষয়টি বিবেচনা করছে। পিটিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে দলটি ইসলামাবাদের উদ্দেশে লংমার্চ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এ নতুন বিষয় সামনে এল।

সূত্র জানিয়েছে, খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জরুরি পদক্ষেপ নেয়ার বিষয়টি কেন্দ্রীয় সরকার বিবেচনা করছে। এ নিয়ে ইসলামাবাদে উচ্চপর্যায়ের একটি বৈঠক হতে পারে। বৈঠকে প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাদের উপস্থিত থাকার কথা।

সূত্রের মতে, জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনও পর্যালোচনা করা হতে পারে। বিবেচনাধীন একটি প্রস্তাব হচ্ছে, সাবেক কেন্দ্রশাসিত উপজাতীয় এলাকাসহ ১২টি জেলায় জরুরি অবস্থা জারি করা। কেন্দ্রীয় সরকার প্রদেশের মূল ক্ষমতাগুলোও নিজেদের হাতে তুলে নিতে পারে।

সূত্র জানিয়েছে, খাইবার পাখতুনখাওয়ার পরিস্থিতি নিয়ে ওই বৈঠকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে, যেখানে সংবিধানের ২৩২-২৩৪ নম্বর অনুচ্ছেদ প্রয়োগের বিষয়টি বিবেচিত হতে পারে। তবে বিলাওয়ালের মতে, গভর্নরের শাসন হবে একদম শেষ পদক্ষেপ।

ডনের খবরে বলা হয়েছে, খাইবার পাখতুনখাওয়ার চরসদ্দারে গতকাল লংমার্চে অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন মুখ্যমন্ত্রী আফ্রিদি। সেখানে তিনি বলেন, ‘পেশোয়ার ও মালাকান্দ ডিভিশন থেকে গাড়িবহর ১৩ অক্টোবর সোয়াবি ইন্টারচেঞ্জে পৌঁছবে। একই দিন হাজারা ডিভিশনের জন্যও পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’

আফ্রিদির দপ্তর থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কোহাট ডিভিশন থেকেও গাড়িবহর সোয়াবি ইন্টারচেঞ্জে পৌঁছবে। আর বান্নু ও ডেরা ইসমাইল খান ডিভিশন থেকে আসা গাড়িবহর চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (সিপিইসি) সড়ক দিয়ে লংমার্চে যোগ দেবে।

মুখ্যমন্ত্রী জনগণকে ‘প্রাপ্য স্বাধীনতা (হককি আজাদি) ও সার্বভৌমত্বের’ লড়াইয়ে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। আফ্রিদি জানান, ২০২২ সালে ইমরান খানকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেয়ার পর কেন্দ্রীয় সরকার কী করেছে, তার বিস্তারিত তুলে ধরে তিনি গত কয়েক বছরের একটি চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরতে চান।

সোহেল আফ্রিদি বলেন, ‘সরকার পরিবর্তনের অভিযানের পর থেকে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সূচকগুলোয় নেতিবাচক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ সূচকে পাকিস্তান এখন শীর্ষে উঠে এসেছে। বন্ধ দরজার আড়ালে নেয়া সিদ্ধান্তের পরিণতি এখন দেশকে ভোগ করতে হচ্ছে।’

আফ্রিদির ভাষ্য অনুযায়ী, ‘২০০৪-২৬ সাল পর্যন্ত খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ১৪ হাজার অভিযান এবং ২২টি বড় সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে। তার পরও সন্ত্রাসবাদ নির্মূল করা যায়নি উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, ‘খাইবার পাখতুনখাওয়ার জনগণের পাশাপাশি পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর সদস্যরাও প্রতিদিন আত্মত্যাগ করছেন এবং শহীদ হচ্ছেন।’