তাপপ্রবাহের মধ্যেই সুন্দরবনের গহিনে পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের আমরবুনিয়া এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। জেলেরা গতকাল দুপুরে আগুনের কুণ্ডলী থেকে ধোঁয়া উড়তে দেখে বন বিভাগকে খবর দেন। পরে স্থানীয়রা মিলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালান। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের মোরেলগঞ্জ ও মোংলা ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিটও আমরবুনিয়ায় পৌঁছায়। তবে তার আগেই সন্ধ্যা নামায় কর্মীরা ফায়ার ফাইটিংয়ের মেশিন ও যন্ত্রপাতি নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছতে পারেননি। আগুন নির্বাপণের কাজ শুরু করতে তারা এখন ভোরের অপেক্ষা করছেন। সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) কাজী মোহাম্মদ নূরুল করিম বণিক বার্তাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনাস্থল থেকে ফেরা বনরক্ষী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আমরবুনিয়ার লতিফের ছিলা এলাকায় অনেক জায়গাজুড়েই আগুন ছড়িয়েছে। বনের বিভিন্ন গাছের ঝরাপাতার স্তূপের মধ্যে অর্ধশতাধিক জায়গায় আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। এ আগুনের ব্যাপ্তি হবে প্রায় দেড় কিলোমিটার।
বেল্লাল ফকির নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, লোকালয় থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে আগুন ধরেছে। তা ধীরে ধীরে ওপরে উঠছে। ঘটনাস্থলের আশপাশে পানি না থাকায় আগুন নেভাতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে।
সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মোংলা স্টেশনের কর্মকর্তা মোহাম্মদ কায়মুজ্জামান বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বনের ভেতর গাছের প্রচুর শুকনো পাতা রয়েছে, যার কারণে আগুনটা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। বর্তমানে ওই এলাকায় কালো ধোঁয়া দেখা যাচ্ছে। তবে আগুন যাতে নতুন এলাকায় ছড়িয়ে না পড়ে সে বিষয়ে খেয়াল রাখা হচ্ছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘যেখানে আগুন লেগেছে সেখান থেকে পানির দূরত্ব প্রায় দুই কিলোমিটার। ফলে আমরা রাত পর্যন্ত আগুন নির্বাপণের কাজ শুরু করতে পারিনি। রোববার সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে বনের মধ্যে প্রবেশ করে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করব।’
আগুন লাগার পরপরই স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে বন বিভাগ তা নেভানোর চেষ্টা চালায়। সে দলে ছিলেন বিভাগের কমিউনিটি প্যাট্রোলিং গ্রুপের (সিপিজি) সদস্য মণিময় মণ্ডল। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘বনভূমির বিভিন্ন স্থানে আগুন জ্বলছে। প্রচণ্ড তাপে ভেতরে প্রবেশ করা সম্ভব হয়নি। কাছাকাছি কয়েকটি জায়গার আগুন আমরা নেভাতে পারলেও এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। তবে নতুন এলাকায় যাতে ছড়িয়ে না পড়ে, সেজন্য বন বিভাগ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের সঙ্গে আমরাও শুকনো গাছ অপসারণ করেছি। বিভিন্ন স্থানে ছোট ফায়ার লাইন কেটে রেখেছি।’
গহিন বনে অনেক হিংস্র জীবজন্তু রয়েছে। সেই সঙ্গে সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় আগুন নেভানোর কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয় বলে জানিয়েছেন ডিএফও কাজী মোহাম্মদ নূরুল করিম। তিনি বলেন, ‘বনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা শোনার পরই বন বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা সেখানে ছুটে যায়। তবে সন্ধ্যা পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। সকাল থেকে আবারো কাজ শুরু হবে।’
বনের মধ্যে কীভাবে আগুন লেগেছে এমন প্রশ্নে কাজী মোহাম্মদ নূরুল করিম বলেন, ‘আগুন লাগার কারণ এখন পর্যন্ত আমরা জানতে পারিনি। এ বিষয়ে চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক রানা দেবকে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। এক সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হবে কমিটিকে। তা হাতে পেলেই মূলত বিস্তারিত জানা যাবে।’










