প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় বিভিন্নভাবে জালিয়াতির অভিযোগে চার জেলায় ৬২ জনকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল পরীক্ষা চলাকালে তাদের আটক করা হয়। এর মধ্যে লালমনিরহাটে ১৩, কুড়িগ্রামে ১২, গাইবান্ধায় ৩৭ ও রংপুরে ১৯ জন রয়েছেন। পাশাপাশি কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটে ছয় পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
লালমনিরহাট প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার চৌধুরী জানান, লালমনিরহাট সরকারি কলেজ, সরকারি মজিদা খাতুন কলেজ, সরকারি বালক ও বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়, আদর্শ ডিগ্রি কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা চলাকালীন এসব পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে ১৬ পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়। এর মধ্যে অপরাধ বিবেচনা করে ১৩ পরীক্ষার্থীকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস মামলা করবে।
অন্যদিকে প্রক্সি দেয়ায় কুড়িগ্রামে ১২ পরীক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে। এছাড়াও বহিষ্কার করা হয়েছে আরো তিনজনকে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নবেজ উদ্দিন সরকার জানান, নাগেশ্বরী, রাজারহাট উলিপুর ও সদর উপজেলার ৪৫টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এসব কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ২৬ হাজার ৮০৫ জন। এর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ২০ হাজার ৭১ জন। অনুপস্থিত ৬ হাজার ৭৩৪ জন।
এছাড়া গাইবান্ধায় ৩৭ জনকে আটক করেছে র্যাব। এ সময় তাদের কাছ থেকে ২৪টি মাস্টার কার্ড, ২০টি ব্লুটুথ, ১৭টি মোবাইল, ব্যাংক চেক ও স্ট্যাম্প জব্দ করা হয়। গতকাল র্যাব-১৩ গাইবান্ধা ক্যাম্পের ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট (মিডিয়া) মাহমুদ বশির আহমেদ এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন ‘গতকাল সকাল ১০টার দিকে জেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা চলছিল। এ সময় একটি চক্র ইলেকট্রনিক ডিভাইস এবং মোবাইলের মাধ্যমে অসদুপায় অবলম্বন করছিলেন। আটক মারুফ, মুন্না, সোহাগ, নজরুল ও সোহেল বিভিন্ন পরীক্ষার্থীকে ১৪ থেকে ১৮ লাখ টাকায় চাকরি দেয়ার প্রলোভন দিয়ে আসছিলেন। এদের মধ্যে নজরুল পরীক্ষার্থী সংগ্রহ করতেন এবং সোহেল ডিভাইস সরবরাহ করতেন। আর মারুফ ও মুন্না বাইরে থেকে প্রশ্নপত্র সমাধান করে পরীক্ষার্থীদের কাছে সরবরাহ করেন।’
এদিকে রংপুর নগরীর বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্র ও এলাকা থেকে ১৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে বেশকিছু মোবাইল ফোন ও ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে। গতকাল দুপুর ১২টায় রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মনিরুজ্জামান সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘বিটু এক্স ডিভাইস ব্যবহার করে পরীক্ষার্থীর প্রশ্নপত্রের উত্তর দেয়ার চুক্তি করে প্রতারক চক্র। বৃহস্পতিবার রাতে এবং গতকাল সকালে নগরীর বিভিন্ন এলাকা ও পরীক্ষা কেন্দ্রে অভিযান চালিয়ে পুলিশ ১৯ জনকে আটক করেছে।’











