চলতি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের কোনো ওপেনার ব্যর্থ হলেই কেবল সুযোগ মিলছিল ফখর জামানের। সেই খেলোয়াড়ের ব্যাটেই কিনা সেমিফাইনালের আশা বেঁচে থাকল পাকিস্তানের! বাংলাদেশের বিপক্ষে কলকাতায় ৭৪ বলে ৮১ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচসেরা হওয়ার পর গতকাল বেঙ্গালুরুতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৬৩ বলে সেঞ্চুরি করে ফখরই অভাবনীয় এক জয় এনে দেন পাকিস্তানকে। ৪০২ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে দু-দুবার বৃষ্টির বাধায় পড়া ম্যাচটি ডিএলএস মেথডে ২১ রানে জিতেছে বাবর আজমের দল।
এদিকে, গতকাল আহমেদাবাদে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৩৩ রানে হেরে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিশ্চিত হলো বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডের। ২৮৭ রান তাড়া করতে নেমে ৪৮.১ ওভারে ২৫৩ রানে গুটিয়ে যায় ইংলিশরা। সাত ম্যাচে এটি তাদের ষষ্ঠ হার। টেবিলের একেবারে তলানিতে অবস্থান করছে জস বাটলারের দল। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের হারিয়ে সাত ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে সেমিফাইনাল প্রায় নিশ্চিত করে ফেলল অজিরা।
গতকাল সবার চোখ ছিল বেঙ্গালুরুতে। চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে হাই স্কোরিং ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে চরমভাবে হতাশ করে পাকিস্তান। তাদের জয়ের নায়ক ফখর। এদিন দেশের হয়ে বিশ্বকাপে দ্রুততম সেঞ্চুরি করেন বামহাতি এ ব্যাটার। ১৯৮৭ সালে ফয়সালাবাদে শ্রীলংকার বিপক্ষে সেলিম মালিক ও ২০০৭ সালে কিংস্টনে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ইমরান নাজির ৯৫ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন। গতকাল এ দুজনকে টপকে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েন ফখর। তার ঝড়ো সেঞ্চুরিতে ভর করে ৪০২ রানের বিশাল টার্গেটের পেছনেও ছুটছিল পাকিস্তান। যদিও দুই দফায় বাগড়া দেয় বৃষ্টি। ২৫.৩ ওভারে ১ উইকেটে ২০০ রান তোলা পাকিস্তান ডিএলএস মেথডে ২১ রানের জয় তুলে নিয়ে সেমিফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রেখেছে।
টেবিলের শীর্ষ তিন পজিশনে রয়েছে যথাক্রমে ভারত (১৪), দক্ষিণ আফ্রিকা (১২) ও অস্ট্রেলিয়া (১০)। এর পরই নিউজিল্যান্ড (৮ ম্যাচে ৮), পাকিস্তান (৮ ম্যাচ ৮) ও আফগানিস্তান (৭ ম্যাচে ৮)।
১১ নভেম্বর নিজেদের শেষ ম্যাচে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে পাকিস্তান (নিট রানরেট +০.০৩৬)। তার দুদিন আগে নিউজিল্যান্ড (নিট রানরেট +০.৩৯৮) শেষ ম্যাচ খেলবে শ্রীলংকার বিপক্ষে। পরের দুই ম্যাচ যথাক্রমে আফগানিস্তান ও বাংলাদেশের সঙ্গে হওয়ায় অস্ট্রেলিয়ার সেমিফাইনালের টিকিট প্রায় নিশ্চিতই বলা যায়। দক্ষিণ আফ্রিকাও শেষ চার দেখছে। শেষ চারের চতুর্থ টিকিটের জন্য এখন লড়াই হবে নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে।
নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে টেবিলের লড়াই জমিয়ে দিল পাকিস্তান। গতকাল তাদের স্কোর ২১.৩ ওভারে ১৬০/১ হওয়ার পর বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। তখন পাকিস্তান ডিএলএস মেথডে ১০ রানে এগিয়ে ছিল। ডিএলএস মেথডে পাকিস্তানকে ৪১ ওভারে ৩৪২ রানের সংশোধিত টার্গেট দেয়া হয়। পরের ১১৭ বলে তাদের করতে হতো ১৮২ রান। ফখর ও বাবর ২৪ বলে ৪০ রান যোগ করার পর আবার বৃষ্টি হানা দিলে খেলা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। খেলা আর শুরু করা না গেলে ডিএলএস মেথডে ২১ রানে পাকিস্তানকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।
ফখর ৮১ বলে ৮ বাউন্ডারি ও ১১ ছক্কায় ১২৬ এবং বাবর ৬৩ বলে ৬ বাউন্ডারি ও ২ ছক্কায় ৬৬ রান করে অপরাজিত থাকেন। দুজন ১৪১ বলে ১৯৪ রানের পার্টনারশিপ গড়েন। ফখরের বীরত্বে বিফলেই গেল রাচিন রবীন্দ্রর অনবদ্য এক সেঞ্চুরি।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা নিউজিল্যান্ড চলতি বিশ্বকাপে রাচিনের তৃতীয় সেঞ্চুরি (৯৪ বলে ১০৮) ও চোট কাটিয়ে দলে ফেরা অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনের ৭৯ বলে ৯৫ রানের ইনিংসে ভর করে ৬ উইকেটে ৪০১ রানের সৌধ গড়ে। রাচিন ও উইলিয়ামসন দ্বিতীয় উইকেটে ১৪২ বলে ১৮০ রান যোগ করেন। এছাড়া গ্লেন ফিলিপস ২৫ বলে ৪১, মার্ক চ্যাপম্যান ২৭ বলে ৩৯, ডেভন কনওয়ে ৩৯ বলে ৩৫, ড্যারিল মিচেল ১৮ বলে ২৯ ও মিচেল স্যান্টনার ১৭ বলে ২৬ রান করেন। পাকিস্তানের হয়ে মোহাম্মদ ওয়াসিম ৬০ রানে তিনটি উইকেট নেন।
বিশ্বকাপে এটাই নিউজিল্যান্ডের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। চলতি আসরেও সব মিলিয়ে এটা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। সর্বোচ্চ ৪২৮ রান করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা।
এরপর অসম্ভবকে সম্ভব করার মিশনে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই আব্দুল্লাহ শফিককে হারায় পাকিস্তান (৬/১)। টিম সাউদির বলে উইলিয়ামসনকে ক্যাচ দেন তিনি। এরপর বাবর আজমকে নিয়ে ১৯৪ রানের দুর্দান্ত এক জুটিতে পাকিস্তানের জয়ের ভিত গড়ে দেন ফখর। চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে চার-ছক্কার টর্নেডো বইয়ে দেয়া ফখর জামানই হয়েছেন ম্যাচসেরা খেলোয়াড়।
অন্য ম্যাচে মার্নুস লাবুশেন (৭১), ক্যামেরন গ্রিন (৪৭) ও স্টিভ স্মিথের (৪৪) ব্যাটে ২৮৬ রানের পুঁজি পায় অজিরা। ক্রিস ওকস ৫৪ রানে সর্বোচ্চ চারটি উইকেট নেন। এরপর বেন স্টোকস (৬৪) ও ডেভিড মালানের (৫০) ফিফটিতেও জিততে পারেনি ইংল্যান্ড। অ্যাডাম জাম্পা ১০ ওভারে ২১ রানে তিন উইকেট নিয়ে হয়েছেন ম্যাচসেরা। তিনিই এখন চলতি আসরে সর্বোচ্চ ১৯ উইকেটের মালিক।










