পাঁচ ম্যাচের হারের বৃত্ত ভেঙে অবশেষে জয়ের স্বাদ পেল ইংল্যান্ড। গতকাল পুনেতে অনুষ্ঠিত অল ইউরোপিয়ান লড়াইয়ে নেদারল্যান্ডসকে ১৬০ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে পয়েন্ট টেবিলের তলানি থেকে ৭ নম্বরে উঠে গেছে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।
২০১৯ সালের বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক বেন স্টোকসের দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি ইংল্যান্ডকে এনে দেয় ৩৩৯ রানের পুঁজি। বড় টার্গেট তাড়া করতে নেমে ডাচরা ৭৬ বল বাকি থাকতে ১৭৯ রানে গুটিয়ে যায়। আগেই সেমিফাইনালের আশা শেষ হয়ে যাওয়া ইংলিশরা এ জয়ে ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলার আশা বাঁচিয়ে রাখল। আগামী শনিবার কলকাতায় পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে জস বাটলারের দল। ওই ম্যাচে জিতলে তো কথাই নেই, হারলেও তারা ৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষ আটের মধ্যে থাকবে, যদি শ্রীলংকা (৪ পয়েন্ট), বাংলাদেশ (৪ পয়েন্ট) ও নেদারল্যান্ডসের (৪ পয়েন্ট) মধ্যে অন্তত দুটি দল জয় পেয়ে তাদের টপকে না যায়।
৮৪ বলে ১০৮ রানের স্ট্রোকসমৃদ্ধ ইনিংস খেলে স্টোকসই ইংল্যান্ডকে এনে দেন লড়াইয়ের পুঁজি। এটা ওয়ানডেতে তার পঞ্চম সেঞ্চুরি ও বিশ্বকাপে প্রথম। এমন সময় তিনি সেঞ্চুরি করলেন যখন কিনা ইংলিশরা তলানিতে থেকে বিশ্বকাপ মিশন শেষ করার শঙ্কায় ছিল।
চারে নামা স্টোকস ৬ চার ও ৬ ছক্কায় ১০৮ রানের ইনিংস খেলেন। এছাড়া ডেভিড মালান ৭৪ বলে ৮৭ ও ক্রিস ওকস ৪৫ বলে ৫১ রান করে ইংল্যান্ডকে তিনশোর্ধ্ব সংগ্রহ এনে দেন। মালানের ৮৭ রানে ভর করে ইংলিশরা ১ উইকেটে ১৩৩ রান তুলে নিয়ে দারুণ ভিত পেয়ে যায়। যদিও এরপর দ্রুত আউট হয়ে যান মালান, জো রুট, জস বাটলার, হ্যারি ব্রুক ও মঈন আলী।
১৯২ রানে ষষ্ঠ উইকেট পতনের পর সপ্তম উইকেটে ওকসকে নিয়ে ৮১ বলে ১২৯ রান যোগ করেন স্টোকস। এ জুটিতে ভর করেই দলের সংগ্রহ তিনশ পেরিয়ে যায়। ৪২ রানে জীবন পাওয়া স্টোকস অবশেষে সেঞ্চুরি করেই মাঠ ছাড়েন। এর আগে উদ্বোধনী জুটিতে মালান ও জনি বেয়ারস্টো ৪২ বলে ৪৮ ও দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে মালান ও জো রুট ৮০ বলে ৮৫ রান তুলেছেন।
নেদারল্যান্ডসের বাস ডি লিডি ৭৪ রান দিয়ে তিনটি উইকেট তুলে নেন। এছাড়া আরিয়ান দত্ত ৬৭ রানে দুটি ও লোগান ফন বিক ৮৮ রানে দুটি উইকেট নেন।
বিশাল রান তাড়া করতে নেমে ডাচরা ১৩ রানে দুই উইকেট হারিয়ে ভীষণ চাপে পড়ে। ম্যাক্স ও’ডাউড ও কলিন অ্যাকারম্যান দ্রুতই ফেরেন সাজঘরে। এরপর ওয়েসলি বারেসি (৩৭), সাইব্র্যান্ড এঙ্গেলব্রেখট (৩৩), স্কট এডওয়ার্ডস (৩৮) ও তেজা নিদারামানু (৪১*) লড়াই করলেও দুইশ রানও করতে পারেনি নেদারল্যান্ডস। মঈন আলী ও আদিল রশিদের ঘূর্ণিতেই সর্বনাশ ঘটে ডাচদের। দুজন তুলে নেন ৬ উইকেট। এছাড়া পেসার ডেভিড উইলি দুটি ও ওকস একটি উইকেট নেন।
১৯৯৬ সালের বিশ্বকাপে প্রথম দেখা দুই দলের। পাকিস্তানের পেশোয়ারে ইউরোপের দুই দলের সেই ম্যাচে ইংলিশরা ৪৯ রানের জয় তুলে নেয়। এরপর বিশ্বকাপ ও এর বাইরে আরো ছয়বারের দেখায় কখনই হারেনি ইংলিশরা। দুই দলের লড়াইয়ের ফল এখন ৭-০।
গতকালের এ জয়ে স্টোকসকে বেশ তৃপ্ত দেখাল। তিনি বলেন, ‘আমার ইনিংসের চেয়েও বেশি খুশি জয়ে ফিরতে পেরে। এটা আমাদের জন্য কঠিন বিশ্বকাপ। উইকেটটা ব্যাটিংয়ের জন্য বেশ ভালো ছিল। চেয়েছিলাম যতটা বেশি সময় ব্যাট করা যায়, তখন শেষ দিকে দ্রুত রান তুলতে পেরেছি। আমি ও ওকস দারুণ এক পার্টনারশিপ গড়েছি। ওকস নিখাদ এক অলরাউন্ডার। গত দুই-তিন বছর সে অসাধারণ এক ক্রিকেটার ছিলেন, আজ সে আবারো তা প্রমাণ করল।’
নিউজিল্যান্ডের কাছে প্রথম ম্যাচেই বিধ্বস্ত হওয়ার পর বাংলাদেশকে হারায় ইংল্যান্ড। এরপর টানা পাঁচ ম্যাচে হারের লজ্জা পায় বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। অবশেষে জয়ের হাসি বাটলারদের মুখে। গতকাল জয় শেষে ইংলিশ দলনায়ক বলেন, ‘আমরা জিততে মরিয়া ছিলাম। আমরা অনেক আনন্দিত। হতাশাজনক টুর্নামেন্টে এমন একটি জয় অনেক কিছু। এখন কলকাতায় বড় একটি ম্যাচ সামনে।’
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ইংল্যান্ড: ৫০ ওভারে ৩৩৯/৯ (স্টোকস ১০৮, মালান ৮৭; ডি লিডি ৩/৭৪)। নেদারল্যান্ডস: ৩৭.২ ওভারে ১৭৯ (নিদারামানু ৪১*, এডওয়ার্ডস ৩৮, বারেসি ৩৭; মঈন ৩/৪২, রশিদ ৩/৫৪)। ফল: ইংল্যান্ড ১৬০ রানে জয়ী। প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ: বেন স্টোকস (ইংল্যান্ড)।










