উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে চলা আন্দোলন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা। শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ ঘোষণা দেয়া হয়। এর আগে শুক্রবার শাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে যান শিক্ষামন্ত্রী। সে সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি। শিক্ষার্থীরা মন্ত্রীর সামনে আট দফা দাবি ও ১৩টি সুপারিশ রাখেন।
সব দাবি মেনে নেয়ার আশ্বাস দিলেও শিক্ষার্থীদের মূল দাবি উপাচার্যের পদত্যাগ বা অপসারণের বিষয়টি আচার্য রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদকে জানাবেন বলে সে সময় জানান শিক্ষামন্ত্রী। আন্দোলন প্রত্যাহার করা হলেও শিক্ষার্থীদের আশা, তাদের মূল দাবিসহ অন্য সব দাবি শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাস অনুযায়ী বাস্তবায়ন হবে। সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীদের পক্ষে বক্তব্য দেন মোহাইমিনুল বাশার রাজ। এ সময় বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রক্টর ইশরাত ইসমাইল, শফিউল ইসলাম ও মাজহার মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।
মোহাইমিনুল বলেন, শুক্রবার শিক্ষামন্ত্রী ও শিক্ষা উপমন্ত্রী আমাদের আমন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছিলেন। তাদের সঙ্গে আমাদের দাবি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। মন্ত্রী আমাদের সব দাবি আন্তরিকতার সঙ্গে শুনেছেন। শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে যে দুটি মামলা হয়েছে, তা অতিদ্রুত প্রত্যাহার করে নেয়া হবে বলে তিনি আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। আহত শিক্ষার্থীদের যথাযথ চিকিৎসা, শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোনের সিম ও মোবাইল ব্যাংকিং কয়েকদিনের মধ্যে সচলের আশ্বাসও দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।
এ সময় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে দেশ-বিদেশের যেসব মানুষ পাশে ছিলেন, যারা দোয়া করেছেন, আন্দোলন করেছেন, রাস্তায় নেমেছেন তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এ শিক্ষার্থী। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের জন্য গণমাধ্যমকেও আন্তরিক ধন্যবাদ জানান তিনি।
এর আগে গতকাল শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে বিবৃতি দেন শাবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। বিশ্ববিদ্যালয়টির রেজিস্ট্রার ইশফাকুল হোসেন বণিক বার্তাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
উপাচার্যের বিবৃতিতে বলা হয়, গত ১৬ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারীসহ যারা আহত হয়েছেন, তাদের সবার প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা ও সহমর্মিতা প্রকাশ করছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ অভিভাবক হিসেবে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য আমি আন্তরিকভাবে গভীর দুঃখ প্রকাশ করছি।
বিবৃতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুন্দর ও স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখার জন্য অনুরোধ জানান অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠানটিকে বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করা সম্ভব হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক অবস্থা দ্রুত ফিরিয়ে আনতে শিক্ষামন্ত্রীর নেতৃত্বে শিক্ষা উপমন্ত্রীসহ সরকারের সর্বস্তরের দায়িত্বশীল ব্যক্তি, কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাসহ সিলেটের সুশীল সমাজের সবাইকে এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান উপাচার্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যা নিরসনে যে গণমাধ্যমকর্মীরা দায়িত্বশীল ভূমিকা রেখেছেন তাদেরও ধন্যবাদ জানান তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগে গত ১৩ জানুয়ারি আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। ১৬ জানুয়ারি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। পাশাপাশি ব্যবহার করা হয় কাঁদানে গ্যাসের শেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও রাবার বুলেট। এর জের ধরে সে আন্দোলন উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ দাবির আন্দোলনে রূপ নেয়। এক পর্যায়ে ১৯ জানুয়ারি দুপুরে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে আমরণ অনশন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। টানা আটদিন পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক, লেখক ও শিক্ষাবিদ মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও তার স্ত্রী ড. ইয়াসমিন হক ২৬ জানুয়ারি শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙান। তবে অনশন ভাঙলেও বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে অহিংস আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছিলেন শিক্ষার্থীরা। গতকাল সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সে আন্দোলনই প্রত্যাহার করে নেয়া হলো।










