সিংড়া-আত্রাই সড়কে চলাচলকারীদের সুবিধার কথা চিন্তা করে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে রাখাল বাজারে একটি যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের কয়েক মাস পর থেকে ওই যাত্রী ছাউনিটি দখল করে ধান রাখা শুরু করেন স্থ্থানীয় তাজপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মিনহাজ উদ্দিন সরদার। যাত্রী ছাউনিটি দখল করে গুদাম বানানোর কারণে এর সুফল পাচ্ছে না এলাবাসী। যদিও যাত্রী ছাউনি দখলে রাখার অভিযোগটি অস্বীকার করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান মিনহাজ উদ্দিন। তার দাবি, প্রতিপক্ষের লোকজন এটা নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে এলজিএসপি-২ এর অর্থায়নে দুই লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে ‘রাখালগাছা বাজার যাত্রী ছাউনি’ নির্মাণ করা হয়। কিন্তু নির্মাণের কয়েক মাস পরই ইউপি চেয়ারম্যান মিনহাজ উদ্দিন সেটির চারদিকে ইটের প্রাচীর তুলে দখল করে নেন। যাত্রী ছাউনিটি তার বাড়ির পাশে হওয়ায় গুদামঘর হিসেবে ব্যবহার করেন তিনি।

স্থানীয়রা জানায়, উপজেলা সদর থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে ৯ নং তাজপুর ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের রাখালগাছা গ্রাম। প্রায় একযুগ আগে ওই গ্রামে বাজার প্রতিষ্ঠা করা হয়। সেখানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশাপাশি মাদ্রাসা, কবরস্থান, ঈদগাহ মাঠ রয়েছে। এ বাজার দিয়ে সিংড়া ও আত্রাই থানার অর্ধলক্ষাধিক মানুষ নিয়মিত যাতায়াত করে।

যাতায়াতের সময় হঠাৎ বৃষ্টি বা রোদে বিশ্রাম নেয়ার জন্য যাত্রী ছাউনিটি নির্মাণ করা হয়। কিন্তু নির্মাণের পর থেকেই চেয়ারম্যানের কব্জায় চলে যাওয়ায় এর সুফল পাচ্ছে না সাধারণ মানুষ।

গতকাল সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, যাত্রী ছাউনিটি তালা দেয়া। ছাউনির মূল ফটকের উপরে ‘জাহানারা ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের সাইবোর্ড ঝুলছে। আশপাশে কোনো বাসিন্দাকে পাওয়া যায়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই গ্রামের একাধিক বাসিন্দা জানায়, ছাউনিটি প্রায় তিন বছর ধরে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মিনহাজ উদ্দিন দখল করে রেখেছেন। বর্তমানে তার বাড়ির কৃষক রুবেল হোসেন যাত্রী ছাউনিটি দেখভাল করেন।

এ বিষয়ে ৭ নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য হযরত আলী বলেন, যাত্রী ছাউনিটি উদ্বোধনের পর বাজারের জনসাধারণ সেখানে বসে গল্প-গুজব করতেন। রোদ-বৃষ্টিতে অনেকেই ছাউনিতে বিশ্রাম নিতেন। আবার মাঝে মধ্যে এখানেই গ্রামের সালিশ-দরবার করা হতো। কিন্তু সেটি এখন তালাবদ্ধ। কে তালা দিয়ে রেখেছে? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বল??