সিলেটের ‘লাল শাপলা বিল’ একটি সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দ্র। জেলার জৈন্তাপুর উপজেলার নিজপাট ও জৈন্তাপুর ইউনিয়নের কেন্দ্রী, হরফকাটা ও ইয়াম বিলে প্রচুর লাল শাপলা ফুল ফোটে। দৃষ্টিনন্দন এ বিল সিলেট জেলা প্রশাসনের ব্র্যান্ডিং পর্যটন স্পট। দীর্ঘদিন এ পর্যটন কেন্দ্রের উন্নয়ন ও সংরক্ষণের দাবি জানিয়ে আসছিলেন পর্যটনপ্রেমীরা। এবার উন্নয়নের উদ্যোগ নেয়া হলেও প্রধান আকর্ষণ বিলের লাল শাপলা হুমকির মুখে পড়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বিলের সুরক্ষা বাঁধ করতে গিয়ে পানি সেচ করে মাছ ধরছে বিল সংরক্ষণ কমিটি। এ নিয়ে তীব্র সমালোচনারও সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দেশের সীমান্তবর্তী খাসিয়া জৈন্তিয়া পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত কেন্দ্রী, হরফকাটা ও ইয়াম বিল এক সময় ইজারা দিত জেলা প্রশাসন। কিন্তু লাল শাপলা বিলের ছবি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার হওয়ায় তা পর্যটক আকৃষ্ট করে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন লাল শাপলা বিলের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। দিন দিন বাড়তে থাকে পর্যটকের আগমন। লাল শাপলা সংরক্ষণে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন পাঁচ বছর ধরে ইজারা বন্ধ করে দেয়। বিলগুলোয় প্রচুর পরিমাণে লাল শাপলা ফুল ফোটে। পাঁচ বছর ইজারা না দেয়ায় ও মাছ ধরা নিষিদ্ধ করায় বিলে প্রচুর পরিমাণে বিভিন্ন প্রজাতির মাছও বৃদ্ধি পায়।

সম্প্রতি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদ এমপির বিশেষ বরাদ্দের আওতায় ৬ লাখ ৯০০ টাকা ব্যয়ে জৈন্তাপুর উপজেলার লাল শাপলা বিলের বাঁধ নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। দৃষ্টিনন্দন কেন্দ্রী বিলের একাংশের সৌন্দর্য ধরে রাখতে এ বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে।

জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কামাল আহমদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে কাজ চলছে। কেন্দ্রী বিলের পশ্চিম অংশে ১২ ফুট প্রশস্ত একটি বাঁধ নির্মাণ হচ্ছে। বাঁধ নির্মাণ হলে লাল শাপলার জন্য কেন্দ্রী বিলের একাংশ সুরক্ষা হবে। প্রতি বছর আগস্ট-মার্চ পর্যন্ত লাল শাপলা দেখতে পাবেন পর্যটকরা। বাঁধ নির্মাণকাজ শেষ হলে পর্যটকরা নৌকার পাশাপাশি হেঁটে বিলটির সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন।

এ বিলের তদারকির জন্য শাপলা বিল সংরক্ষণ কমিটিও করে দেয় উপজেলা প্রশাসন। সেই সংরক্ষণ কমিটির বিরুদ্ধেই এবার পানি কমিয়ে মাছ বিক্রি ও শাপলা ধ্বংসের অভিযোগ উঠেছে। এরই মধ্যে এ কমিটির সদস্যরা কয়েক লাখ টাকার মাছ বিক্রি করেছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

জৈন্তাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলাম জানান, মাছ বিক্রির বিষয়টি তার নজরে এসেছে। পানি সেচে মাছ ধরার বিষয়টি শুনে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ভারপ্রাপ্ত) ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।

লাল শাপলা বিল সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি শাহিনুর রহমান দাবি করেন, উপজেলা প্রশাসনকে খাস কালেকশন বাবদ ১ লাখ টাকা দিয়েছেন। এর জন্য তারা মাছ ধরছেন। বিলের ক্ষতি হয় এমন কিছু তারা করছেন না।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম বলেন, শাপলা বিল পর্যটন স্পট হিসেবে সিলেট জেলা ব্র্যান্ডিং করে। পানি সেচ করে মাছ লুট করে যারা বিলের পরিবেশ ও প্রতিবেশ নষ্ট করছে তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়া জরুরি।

জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল আহমদ দাবি করেন, তিনি বাঁধ নির্মাণে এক হাত পানি কমিয়েছেন। খাস কালেকশনের মাধ্যমে মাছ ধরা হচ্ছে বলে শুনেছি। মাছ ধরার বৈধতার বিষয়ে বিস্তারিত তার জানা নেই।

লাল শাপলা বিল খাস কালেকশনের জন্য দেয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিপামণি দেবী। তিনি জানান, যদি কেউ মাছ ধরে তবে তিনি ব্যবস্থা নেবেন।