আড়িয়াল খাঁ নদীতে সেতু না থাকায় জেলা সদরের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন বরিশালের তিন থানার মানুষ। সেতু না থাকায় প্রতিনিয়ত ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে ওইসব এলাকার বাসিন্দাদের। দিনে ছোট নৌকায় করে নদী পার হওয়া গেলেও রাতে একদম বিচ্ছিন্ন জনপদে পরিণত হয় এ তিন থানা।
স্থানীয় সংসদ সদস্য পংকজ নাথ বলেছেন, শায়েস্তাবাদে সেতু নির্মাণ হলে জেলা সদরের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন উপজেলাগুলো যুক্ত হবে। ফলে শিক্ষা, চিকিৎসা এবং অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে তিন উপজেলার কয়েক লাখ বাসিন্দা।
সরেজমিন দেখা গেছে, বরিশাল সদর থেকে মাত্র সাত কিলোমিটার দূরে শায়েস্তাবাদ আড়িয়াল খাঁ নদী। এ নদীর খেয়া পার হয়ে প্রতিদিন হিজলা, মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা, কাজিরহাট থানার হাজার হাজার মানুষ বরিশাল শহরে আসছে। এর সঙ্গে শায়েস্তাবাদ ইউনিয়নের একাংশে বাসিন্দারাও রয়েছে। প্রতিদিন এ খেয়াঘাটে এসে তাদের দুর্ভোগে পড়তে হয়।
বরিশাল সদর উপজেলার শায়েস্তাবাদ ইউনিয়নের চূড়ামন খেয়াঘাটে ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. মোস্তফা জানান, সদর উপজেলার বাসিন্দা হয়েও বিচ্ছিন্ন হয়ে আছি। সন্ধ্যার পর আর কোনোভাবে জেলা সদরে আসা সম্ভব হয় না। একটি ব্রিজ না থাকার কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার দরির চর ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. মহসিন আলম বলেন, যদি এ নদীতে একটি সেতু হয়, তাহলে আমরা আর দ্বীপ উপজেলার বাসিন্দা থাকব না। দিনে দু-তিনবার জেলা সদরে আসা-যাওয়া করা সম্ভব হবে। সেতু না থাকায় ৪৫ কিলোমিটার ঘুরে গাড়িতে বরিশাল যেতে হয়। সেখানে মীরগঞ্জ খেয়া পার হতে অনেক সময় লাগে। মীরগঞ্জ পৌঁছানোর আগে এ খেয়া পার হয়ে বরিশালে পৌঁছানো যায়। তাই মেহেন্দীগঞ্জ, হিজলা কাজিরহাটের বাসিন্দারা মীরগঞ্জ না গিয়ে শায়েস্তাবাদের এ খেয়া পার হয়ে বরিশালে আসা-যাওয়া করে। তাছাড়া শায়েস্তাবাদ হয়ে বরিশাল পৌঁছাতে মাত্র ৮-১০ কিলোমিটার পথ। সময় লাগে মাত্র ৩০ মিনিট।
শায়েস্তাবাদ ইউনিয়নের সাত হাজার বিঘা এলাকার বাসিন্দা মো. মিজানুর রহমান বলেন, ওই দিক দিয়ে (মীরগঞ্জ) গেলে ৩০০-৪০০ টাকা খরচ হয়। সময়ও বেশি লাগে। আর এদিক দিয়ে শায়েস্তাবাদ খেয়া পার হয়ে গেলে ৬০-৭০ টাকায় বরিশাল পৌঁছানো যায়। তাই আমরা এ পথ ব্যবহার করি।
শায়েস্তাবাদ ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, রাতে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন জনপদে পরিণত হয় শায়েস্তাবাদের রামকাঠি, চূড়ামন, পানবাড়িয়া, হায়াৎসার, কদমতলা, ভাসানচর, কাজিরহাট, হিজলা, মেহেন্দীগঞ্জের পুরো এলাকা। রাতে কেউ অসুস্থ হলে বরিশালে নিয়ে আসা সম্ভব হয় না। বিভাগীয় শহরের পাশে থেকেও আমরা বিচ্ছিন্ন জনপদের বাসিন্দা হয়ে গেছি।
শায়েস্তাবাদ ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. আজিজুর রহমান বলেন, ২০১৪ সালে শায়েস্তাবাদ আড়িয়াল খাঁ নদীতে সেতু নির্মাণের দাবিতে পাঁচ হাজার মানুষের স্বাক্ষরসহ মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি দেয়া হয়েছিল। সংসদ সদস্য পংকজ নাথ এবং তখনকার বরিশালের সংসদ সদস্য শওকত হোসেন হিরণের ডিওসহ ওই স্মারকলিপি দেয়া হয়।
বরিশাল সদর উপজেলা চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, শায়েস্তাবাদে একটি সেতু নির্মাণ হলে মেহেন্দীগঞ্জ, হিজলা, কাজিরহাট থানাসহ মুলাদী উপজেলার একাংশের মানুষের বিভাগীয় সদরের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হবে। এর আগেও আমরা একটা উদ্যোগ নিয়েছিলাম। কিন্তু বাস্তবায়ন হয়নি। বরিশাল সদর আসনের সংসদ সদস্য এবং পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীও বিষয়টি জানেন।
এ ব্যাপারে হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য পংকজ নাথ বলেন, সড়ক যোগাযোগ সহজ না হওয়ায় মেহেন্দীগঞ্জ-হিজলা ও কাজিরহাট এলাকার হাজার হাজার শিক্ষার্থী উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণের জন্য বিভাগীয় ও জেলা সদর বরিশালে আসতে পারছে না। তিন উপজেলায় কয়েক লাখ মানুষের জন্য একটি সেতু সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে। বরিশালের সঙ্গে ওই তিন উপজেলার যোগাযোগের জন্য কদমতলী নদীতে শেখ হাসিনা সেতুর কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। এখন আড়িয়াল খাঁ নদীতে একটি সেতু হলে তিন উপজেলার বাসিন্দাদের দুর্ভোগ কমে আসবে। সেভাবেই ডিপিপি তৈরি হচ্ছে। আপাতত শায়েস্তাবাদে একটি ফেরি সার্ভিস চালুরও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও বরিশাল সদর আসনের সংসদ সদস্য কর্নেল (অব.) জাহিদ
ফারুক শামিম বলেন, সদর উপজেলার শায়েস্তাবাদের সেতুর দাবি যৌক্তিক। ওই এলাকা পরিদর্শন করে অবশ্যই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করব।










