ভারতীয় গতি বোলার জসপ্রীত বুমরাহর দারুণ এক ইয়র্কারে স্টাম্প গুঁড়িয়ে গেল ইংল্যান্ডের ১১ নম্বর ব্যাটার মার্ক উডের। এর মধ্য দিয়ে জস বাটলারের দলটি গুটিয়ে গেল মাত্র ১২৯ রানে। ২৩০ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ইংল্যান্ডের ৩০/০ থেকে হয়ে গেল ১২৯/১০! ছোট্ট পুঁজি নিয়েও ভারত জিতল ১০০ রানে।
লক্ষ্ণৌতে গতকালের লো-স্কোরিং ম্যাচ জিতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে (১০ পয়েন্ট) হটিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধার করল স্বাগতিক ভারত (১২ পয়েন্ট)। টানা ছয় জয়ে এবারের আসরে সেমিফাইনালের টিকিট কার্যত পাকা করে ফেলল রোহিত শর্মার দল। বিপরীতে, এ হারে ইংলিশদের দুর্দশা আরো বাড়ল। ১০ দলের সবার মধ্যে খারাপ নিট রানরেট নিয়ে টেবিলের একেবারে তলানিতে পড়ে থাকল বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।
ভারতের দুই পেসার বুমরাহ ও মোহাম্মদ শামির আগুনে বোলিংয়ের সামনে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে ইংল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপ। ৫২ রানের মধ্যে সাজঘরে ফেরেন চ্যাম্পিয়নদের অর্ধেক ব্যাটার। ডেভিড মালান ও জো রুটকে পঞ্চম ওভারের মধ্যে আউট করে ভারতকে দারুণ সূচনা এনে দেন ব্যতিক্রমী অ্যাকশনের পেসার বুমরাহ। এরপর ইংল্যান্ডের মিডল অর্ডার গুঁড়িয়েছেন শামি (৪/২২)। সঙ্গে দারুণ স্পিনে উইকেট উৎসব করেন কুলদীপ যাদব (২/২৪) ও রবীন্দ্র জাদেজা (১/১৬)। একেবারে শেষে মার্ক উডকে বোল্ড করে দলের জয় নিশ্চিত করেন বুমরাহ (৩/৩২)।
ইংল্যান্ডের আট ব্যাটার দুই অংক ছুঁয়েছেন, যদিও শুধুই লিয়াম লিভিংস্টোন ২০-এর বেশি রান (২৭) করেন। বেন স্টোকস, জো রুট ও মার্ক উড ‘ডাক’ মারেন।
এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে চলতি বিশ্বকাপে গতকালই প্রথম বড় পরীক্ষার মুখে পড়ে স্বাগতিক ভারত। লক্ষ্ণৌতে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পুরো ৫০ ওভার ব্যাটিং করেও ৮ উইকেটে মাত্র ২২৯ রান তুলতে সমর্থ হয় রোহিত শর্মার দল। স্বাগতিকরা ক্রিস ওকস ও ডেভিড উইলির আঘাতে ৪০ রানের মধ্যে হারায় শুভমান গিল, বিরাট কোহলি ও শ্রেয়াস আইয়ারকে। এরপর হাল ধরেন রোহিত ও লোকেশ রাহুল। ১১১ বলে ৯১ রানের জুটিতে স্থিতি আনেন দুজন।
যদিও দলীয় ১৬৪ রানের মধ্যে এ দুজনের বিদায়ে আবার এলোমেলো ভারত। লোকেশ ৫৮ বলে ৩৯ রান করে উইলির শিকার হন (১৩১/৪)। আর বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সাতটি সেঞ্চুরি করা রোহিত আরেক সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়েও আউট হন ৮৭ রানে (১৬৪/৫)। আদিল রশিদের ঘূর্ণিতে তিনি ক্যাচ দেন লিভিংস্টোনকে। ১০ চার ও তিন বাউন্ডারিতে ইনিংসটি সাজান ভারতীয় দলনায়ক।
রোহিতের বিদায়ের পর চার উইকেট হারিয়ে ৭৯ বলে মাত্র ৬৪ রান তুলতে সমর্থ হয় ভারত। বিগ হিটার সূর্যকুমার যাদব চেষ্টা করছিলেন, তবে ৪৭ বলে ৪৯ রানে শেষ হয় তার ইনিংসটি। ইংল্যান্ডের ডেভিড উইলি ৪৫ রানে তিনটি এবং ক্রিস ওকস ৩৩ রানে ও আদিল রশিদ ৩৫ রানে দুটি করে উইকেট নেন। এরপর ভারতের বোলাররা বিপর্যস্ত ইংলিশদের বিধ্বস্ত করেন।
এ জয়ে ভারতের সেমিফাইনাল প্রায় নিশ্চিত হয়ে গেল। আর ইংল্যান্ডের বিদায়ও প্রায় নিশ্চিত। যদিও গাণিতিকভাবে খানিকটা সুযোগ রয়েছে বলে এখনই বলা যাচ্ছে না যে ইংল্যান্ডের বিদায়।
ভারতের মাটিতে এটা ইংল্যান্ডের টানা চতুর্থ হার এবং সব মিলিয়ে পঞ্চম হারের নজির। বিশ্বকাপেও এই প্রথম পাঁচ ম্যাচ হারের তেতো স্বাদ পেল ইংলিশরা।
ওয়ানডে বিশ্বকাপে নয়বারের লড়াইয়ে সমতা আনল ভারত। দুই দলই জিতেছেন সমান চারটি করে ম্যাচ। একটি ম্যাচ টাই হয়।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ভারত: ৫০ ওভারে ২২৯/৯ (রোহিত ৮৭, সূর্যকুমার ৪৯, লোকেশ ৩৯; উইলি ৩/৪৫, ওকস ২/৩৩, রশিদ ২/৩৫)। ইংল্যান্ড: ৩৪.৫ ওভারে ১২৯/১০ (লিভিংস্টোন ২৭, মালান ১৬, উইলি ১৬; শামি ৪/২২, বুমরাহ ৩/৩২, কুলদীপ ২/২৪)। ফল: ভারত ১০০ রানে জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ: রোহিত শর্মা (ভারত)।










