গতকাল রাজধানীর কলাবাগানের শেলটেক টাওয়ারের ডা. তৌফিক এম সিরাজ লাউঞ্জে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ৬০ বিজয়ী শিক্ষার্থীকে পুরস্কৃত করা হয়।
প্রথম আলো ট্রাস্টের চেয়ারম্যান রূপালী চৌধুরী বলেন, ‘মাদকবিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে স্টিকার ও পোস্টার ডিজাইন প্রতিযোগিতাটি ছিল নতুন ধরনের উদ্যোগ।’ ভবিষ্যতে এ উদ্যোগ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে দেয়ার প্রত্যাশা জানান তিনি। মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে অভিভাবক, শিক্ষক ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
প্রতিযোগিতাটি আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে প্রথম আলো ট্রাস্টের মাদকবিরোধী কার্যক্রমের আওতায় আয়োজন করা হয়। এতে স্টিকার ও পোস্টার দুটি ক্যাটাগরিতে তিনটি করে মোট ছয়টি বিভাগে শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণী, ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণী এবং একাদশ থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের জন্য ছিল আলাদা বিভাগ। গত ১৯ জুন থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত সারা দেশ থেকে প্রায় ২ হাজার ৫১৭ জন শিক্ষার্থী প্রতিযোগিতায় তাদের সৃজনশীল ডিজাইন জমা দেয়। অভিজ্ঞ বিচারকমণ্ডলীর বিশ্লেষণের পর প্রতিটি বিভাগের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী এবং সাতজন বিশেষ পুরস্কারপ্রাপ্তসহ মোট ৬০ জনকে বিজয়ী হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।
বিচারক অধ্যাপক ডা. মোহিত কামাল বলেন, অনেক ভালো চিত্রকর্ম বাদ দিতে গিয়ে তিনি কষ্ট পেয়েছেন। যারা পুরস্কার পায়নি, তাদের হতাশ না হয়ে আবার চেষ্টা করার আহ্বান জানান তিনি।
বিজয়ী শিক্ষার্থী মাহজাবিন জান্নাত বলেন, ‘পুরস্কার পাওয়ার অনুভূতি ও প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার অভিজ্ঞতা খুবই ভালো। পড়ালেখার পাশাপাশি এমন আয়োজনে অংশ নিতে পেরে তাদের খুব ভালো লেগেছে।’ ভবিষ্যতে এমন আয়োজন আরো করার প্রত্যাশা জানান তিনি।
অভিভাবক অনন্ত কুমার মালো বলেন, ‘শিশুদের মানসিক বিকাশ ও মাদক থেকে দূরে রাখতে এমন প্রতিযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
প্রথম পুরস্কার হিসেবে বিজয়ীদের দেয়া হয়েছে ল্যাপটপ। দ্বিতীয় ও তৃতীয় পুরস্কার হিসেবে রয়েছে স্মার্টফোন। এছাড়া বিশেষ পুরস্কারপ্রাপ্তদের দেয়া হয়েছে ক্রেস্ট, মেডেল, সনদ ও বিজয়ীদের আঁকা ছবির ফ্রেম।
অনুষ্ঠানে প্রথম আলো ট্রাস্টের চেয়ারম্যান রূপালী চৌধুরী, কোষাধ্যক্ষ জাহিদা ইস্পাহানী, ম্যানেজিং ট্রাস্টি ও প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান, ট্রাস্টি তাজিন আহমেদ ও কথাসাহিত্যিক আনিসুল হকসহ বিচারক প্যানেলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রথম আলো ট্রাস্টের ট্রাস্টি আনিসুল হক বলেন, ‘মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হলে প্রত্যেককে ব্যক্তিগতভাবে মাদক থেকে দূরে থাকতে হবে।’










