রাজধানীর লালবাগে সুদের ৩ লাখ টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে শেখ ওয়াসিম রনি (৪৩) নামে এক আবাসন ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যার পর মরদেহ লুকাতে মাটিচাপা ও সিমেন্ট ঢালাই দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। নিখোঁজের তিনদিন পর একটি পাঁচতলা ভবনের নিচতলার বারান্দার পাশের মাটি খুঁড়ে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
আজ শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ জানায়, গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টা থেকে শুরু হওয়া অভিযানে শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে লালবাগের ৯ নম্বর বিসি দাস স্ট্রিটের ২৬ নম্বর রোডের ৯ নম্বর বাসার নিচতলা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে মোহাম্মদ মাসুম নামে এক ইমিটেশন জুয়েলারি ব্যবসায়ীকে আটক করেছে লালবাগ থানা পুলিশ। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশের পাশাপাশি সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ও ডিবি পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও আলামত সংগ্রহ করেন বলেও বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।
পুলিশ ও নিহতের স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, নিহত শেখ ওয়াসিম রনি এবং অভিযুক্ত মাসুম পূর্বপরিচিত ও বন্ধু ছিলেন। রনি ডেভেলপার ব্যবসার পাশাপাশি সুদের কারবার করতেন। আট মাস আগে মাসুম তার কাছ থেকে তিন লাখ টাকা নেন, যার বিনিময়ে প্রতি মাসে ৩৫ হাজার টাকা সুদ দেয়ার কথা ছিল। তবে নিয়মিত টাকা পরিশোধ না করায় তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।
গত মঙ্গলবার দুপুরে পাওনা টাকা ও জামানতের চেক আনতে মাসুমের পাইকারি কারখানায় যান রনি। সেখানে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। মাসুমের ঘুষিতে রনি অচেতন হয়ে মাটিতে পড়ে গেলে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এরপর মরদেহ আড়াল করতে কারখানার নিচতলার বারান্দার পাশে গর্ত করে রনিকে মাটিচাপা দেয়া হয় এবং তার ওপর সিমেন্টের ঢালাই দিয়ে দেয়া হয়।
নিহতের স্ত্রীর ভাই মুরাদ হোসেন জানান, ৮ সেপ্টেম্বর দুপুরের পর থেকেই রনির মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। আত্মীয়স্বজনসহ সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে লালবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি ও নিখোঁজের অভিযোগ করা হয়। নিখোঁজের বিষয়ে মাসুমের বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নিলে তার স্ত্রী জানান, রনি বাসায় এলেও কিছুক্ষণ পর চলে গেছেন। পরবর্তীতে পুলিশের তদন্তে মূল তথ্য বেরিয়ে আসে।
মুরাদ হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমার বোনের স্বামীকে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত মাসুম রনিকে মেরে মাটির নিচে চাপা দিয়ে ওপরে সিমেন্ট দিয়ে ঢালাই করে দিয়েছিল। মানুষ কতটা নৃশংস হলে এমন কাজ করতে পারে। আমরা এ হত্যাকাণ্ডের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।
নিহতের দুলাভাই নাসির উদ্দিন (নাছু) জানান, নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই তাকে পাগলের মতো খুঁজছিলাম। পরিবারের সবাই কান্নাকাটি করার সময় আমি সবাইকে সান্ত্বনা দিয়েছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এভাবে তার মরদেহ পাওয়ার খবর শুনব, তা ভাবতেও পারিনি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে লালবাগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) তালেবুর রহমান বলেন, নিখোঁজের অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ তদন্ত শুরু করে। প্রাপ্ত তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযুক্তের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বারান্দার মাটি খুঁড়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে এবং এর পেছনে আরো কেউ জড়িত রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়া, থানায় মামলা দায়েরসহ পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।










