ধর্মশালায় গতকাল টেবিলের দুই শীর্ষ দলের লড়াইয়ে ড্যারিল মিচেলের রাজসিক সেঞ্চুরিতে ভর করে ২৭৩ রানের পুঁজি পায় নিউজিল্যান্ড। চলতি বিশ্বকাপে প্রথমবার সুযোগ পেয়েই ৫ উইকেট শিকার করে কিউইদের তিনশর নিচে আটকে দেন মোহাম্মদ শামি। বিশ্বকাপে প্রথম ভারতীয় হিসেবে দুবার ৫ উইকেট নিলেন এ ডানহাতি পেসার। যদিও পরে ধর্মশালার রাতকে আলোকিত করলেন বিরাট কোহলি। তার বীরত্বপূর্ণ ব্যাটিংয়ে (১০৪ বলে ৯৫) ভর করে ৪ উইকেটের কষ্টার্জিত জয় তুলে নেয় স্বাগতিকরা। এর মধ্য দিয়ে টানা পাঁচ জয়ে নিউজিল্যান্ডকে হটিয়ে টেবিলের শীর্ষস্থানে উঠে গেল রোহিত শর্মার দল।

২০১৫ ও ২০১৯ বিশ্বকাপের রানার্সআপ নিউজিল্যান্ড চলতি আসরে টানা চার জয়ের পর প্রথম হারের স্বাদ পেল। যদিও সামনে তাদের কঠিন কিছু ম্যাচ রয়েছে: অস্ট্রেলিয়া (২৮ অক্টোবর), দক্ষিণ আফ্রিকা (১ নভেম্বর) ও পাকিস্তান (৪ নভেম্বর)। ভারতের পরের ম্যাচ ২৯ অক্টোবর লক্ষ্ণৌতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে।

২৭৪ রানের টার্গেটে নেমে ৭৬ রানের মধ্যে ওপেনার রোহিত শর্মা (৪৬) ও শুভমান গিলকে (২৬) হারায় ভারত। দুজনই গতিদানব লোকি ফার্গুসনের শিকার। এদিন ২৬ রান করে হাশিম আমলার রেকর্ড ভেঙে দ্রুততম দুই হাজার রানের মাইলফলকে পৌঁছান গিল। 

শ্রেয়াস আইয়ার (২৯ বলে ৩৩) কোহলির সঙ্গে ৫২ রান তুলে দলকে খানিকটা চাপমুক্ত করার পর ট্রেন্ট বোল্টের শিকার হন (১২৮/৩)। এরপর লোকেশ রাহুলকে (৩৫ বলে ২৭) নিয়ে আরো ৫৪ রান তুলে দলকে মোটামুটি সংহত অবস্থানে নিয়ে যান কোহলি। স্পিনার মিচেল স্যান্টনারের বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন লোকেশ। হার্দিক পান্ডিয়ার চোটে একাদশে ঢোকা সূর্যকুমার যাদব (২ রান) দ্রুতই শিকার হন রানআউটের (১৯১/৫)। 

দুশর আগে পাঁচ উইকেট হারিয়ে ভারত খানিকটা চাপে পড়ে যায়। যদিও মিডল অর্ডারের আস্থার প্রতীক রবীন্দ্র জাদেজাকে নিয়ে ৮৩ বলে ৭৮ রান যোগ করে দলের জয় প্রায় সুনিশ্চিত করেন কোহলি। তিনি দলীয় ২৬৯ রানের সময় ম্যাট হেনরির শিকার হন। 

বাংলাদেশের বিপক্ষে ৪৮তম সেঞ্চুরি করা কোহলি গতকাল ৪৯তম সেঞ্চুরিতে ছুঁয়ে ফেলতে পারতেন শচীন টেন্ডুলকারকে। যদিও ৫ রানের আক্ষেপ নিয়ে আউট হন তিনি। সেঞ্চুরি পেতে তার প্রয়োজন ছিল ৫ রান, দলেরও জিততে প্রয়োজন ৫। উত্তেজনার মুহূর্তে হেনরির বলে ছক্কা মারতে গিয়ে মিড উইকেটে গ্লেন ফিলিপসকে ক্যাচ দেন তিনি। পরে শামি ও জাদেজা ৫ রান তুলে ভারতের জয় নিশ্চিত করেন।

এর আগে ধর্মশালার ছোট্ট বাউন্ডারি ও রাতের শিশিরের কথা মাথায় রেখে টস জিতে বোলিং নেন রোহিত শর্মা। এরপর ১৯ রানের মধ্যে ডেভন কনওয়ে ও উইল ইয়াংকে বিদায় করে তার সিদ্ধান্তের যথার্থতা প্রমাণ করেন ভারতের বোলাররা। শুরুতে দুর্দান্ত বোলিং করেন জশপ্রীত বুমরাহ ও মোহাম্মদ সিরাজ। চাপের মুখে দ্রুতই দুই উইকেট হারায় কিউইরা। সিরাজের বলে ফরোয়ার্ড স্কয়ার লেগে নিচু ক্যাচ দেন কনওয়ে (৯/১)। শ্রেয়াস আইয়ার অবিশ্বাস্যভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে এ ক্যাচটি নেন। শামি নবম ওভারে প্রথমবারের মতো আক্রমণে এসেই নিজের প্রথম বলে বোল্ড করেন উইল ইয়াংকে। ইনসাইড এজ হয়ে বল আঘাত হানে স্টাম্পে (১৯/২)। 

এরপর প্রায় ২৫ ওভারেরও দীর্ঘ সময় ভারতের জন্য হতাশা উপহার দেন রাচিন রবীন্দ্র ও ড্যারিল মিচেল। এ দুজন তৃতীয় উইকেটে ১৫২ বলে ১৫৯ রানের জুটিতে নিউজিল্যান্ডকে লড়াইয়ে ফেরান। রাচিনকে আম্পায়ার দু দুবার আউট দিলেও তিনি রিভিউ নিয়ে প্রতিবার বেঁচে যান। অবশেষে ৮৭ বলে ৬টি বাউন্ডারি ও ১ ছক্কায় ৭৫ রান করে মোহাম্মদ শামির শিকার হন তিনি। লং অনে তার ক্যাচ নেন শুভমান গিল (১৭৮/৩)। 

এরপর বাকিদের নিয়ে লড়ে বোর্ডে আরো প্রায় ১০০ রান যোগ করেন মিচেল। অধিনায়ক টম ল্যাথামকে নিয়ে ২০ বলে ২৭, গ্লিন ফিলিপসকে নিয়ে ৪৫ বলে ৩৮, মার্ক চ্যাপম্যানকে নিয়ে ১৬ বলে ১৪ ও লোকি ফার্গুসনকে নিয়ে ১২ বলে ১৩ রান যোগ করেন। এ পথে ১০০ বলে পূর্ণ করেন সেঞ্চুরি। এটা ওয়ানডেতে মিচেলের পঞ্চম সেঞ্চুরি। 

৫০তম ওভারে শামিকে পরপর ছক্কা ও চার মারেন মিচেল। পঞ্চম বলে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে ডিপ মিড উইকেটে বিরাট কোহলিকে ক্যাচ দেন তিনি। এ সময় তার নামের পাশে জ্বলজ্বল করছিল ১২৭ বলে ৯ চার ও ৫ ছক্কায় ১৩০ রান। শেষ বলে ট্রেন্ট বোল্ট হন রানআউট।

শেষ ছয় ওভারে ছয় উইকেট হারিয়েছে বলেই স্কোরটা তিনশ হয়নি নিউজিল্যান্ডের। শামি ৫৪ রানে নেন ৫ উইকেট। ওয়ানডেতে এ নিয়ে তৃতীয়বার ৫ উইকেট শিকার করলেন তিনি। 

গুরুত্বপূর্ণ এ ম্যাচে চোটের কারণে পান্ডিয়া ছিটকে যান। দলে জায়গা হারান শার্দূল ঠাকুরও। তাদের জায়গায় ভারতের একাদশে এসেছেন সূর্যকুমার যাদব ও মোহাম্মদ শামি। 

সংক্ষিপ্ত স্কোর

নিউজিল্যান্ড: ৫০ ওভারে ২৭৩ (মিচেল ১৩০, রাচিন ৭৫; শামি ৫/৫৪, কুলদীপ ২/৭৩)। ভারত: ৪৮ ওভারে ২৭৪/৬ (কোহলি ৯৫, রোহিত ৪৬, জাদেজা ৩৯*; ফার্গুসন ২/৬৩)। ফল: ভারত ৪ উইকেটে জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ: মোহাম্মদ শামি (ভারত)।