দেশে মাংস উৎপাদন বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, মাংস আমদানির সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী হবে। দেশের চাহিদা মেটাতে স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব।

আজ রোববার (১ ডিসেম্বর) সাভারে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) প্রাঙ্গণে বার্ষিক গবেষণা পর্যালোচনা কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা বলেন, বহু বিদেশী সংস্থা আমাদের কম দামে মাংস আমদানির প্রস্তাব দেয়। এর ফলে সরকার অনেক সময় চাপে পড়ে। তবে মাংস আমদানির পরিবর্তে দেশে উৎপাদন বাড়ানোই টেকসই সমাধান। কেবল কোরবানিকেন্দ্রিক মাংসের বাজার বিবেচনা না করে সারা বছরের চাহিদার দিকে নজর দিতে হবে।

তিনি আরো বলেন, মাংসের দাম কেন বাড়ে, তা খুঁজে বের করতে বিএলআরআইকে কার্যকরী উদ্যোগ নিতে হবে। দেশীয় জাতের উন্নয়নের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর নির্দেশনাও দেন তিনি।

উপদেষ্টা ঝুঁকিপূর্ণ প্রাণী প্রজাতি রক্ষায় প্রয়োজন হলে রেড অ্যালার্ট জারির আহ্বান জানান। তিনি বলেন, কোন এলাকায় কোন প্রজাতির প্রাণিসম্পদ বেশি পাওয়া যায়, তার একটি ম্যাপ তৈরি করা জরুরি। বিএলআরআইকে এ বিষয়ে উদ্যোগী হতে হবে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় গবেষণা চালানোর ওপর জোর দিয়ে ফরিদা আখতার বলেন, দেশীয় প্রাণিসম্পদ জলবায়ুর পরিবর্তনের সঙ্গে কতটা মানিয়ে নিতে পারছে, তা নিয়ে গবেষণা প্রয়োজন। মৌসুমভেদে প্রাণিজ আমিষের চাহিদা এবং উৎপাদনশীলতার পরিবর্তন নিয়েও গবেষণা করলে বাজারের স্থিতিশীলতা রক্ষা করা সম্ভব হবে।

এ সময় তিনি বিএলআরআইয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরকারের প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএলআরআইয়ের মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ টি এম মোস্তফা কামাল এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. মোহাম্মদ রেয়াজুল হক।

কর্মশালায় সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিজ্ঞানী, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং খামারিরা উপস্থিত ছিলেন।