যশোর
২৫০ শয্যা হাসপাতালে মিলছে চর্ম রোগের আধুনিক চিকিৎসা সেবা। গত চার মাসে
এ হাসপাতালে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির সাহায্যে শতাধিক চর্ম রোগীর অপারশেন করা হয়েছে। আর চিকিৎসা নিয়েছেন
প্রায় ১২ হাজার রোগী।
এ বিভাগে পরীক্ষা করা হচ্ছে চামড়ার বায়োপসি। দেয়া হচ্ছে ত্বকের উঁচু ও নিচু স্থানে
ইনজেকশন। দরিদ্র রোগীরা ব্যয়বহুল এ চিকিৎসাসেবা বিনামূল্যে
পাচ্ছেন। শিগগিরই চালু হবে ইলেকট্রো সার্জারি ও কার্গোসার্জারি।
চিকিৎসকরা বলছেন, দেশের আড়াইশ শয্যা হাসপাতাগুলোর মধ্যে যশোরেই প্রথম চর্ম রোগের আধুনিক চিকিৎসা করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় জনবল আর আধুনিক যন্ত্র পেলে তারা আরো উন্নত সেবা দিতে পারবেন এ অঞ্চলের রোগীদের।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পর এই প্রথম চর্ম রোগের আধুনিক মানের চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু হয়েছে গত জানুয়ারি মাসে। এ চার মাসে প্রায় ১২ হাজার রোগী চর্ম রোগের চিকিৎসা নিয়েছেন। আর অপারেশন করেছেন ৬০ জন রোগী। যারা সম্পূর্ণ বিনামূল্য চিকিৎসা পেয়েছেন। এসব রোগের চিকিৎসা ব্যয় বাইরের হাসপাতালে ব্যয়বহুল।
হাসপাতালের চর্ম রোগের চিকিৎসক গোলাম মোর্ত্তজা বলেন, ‘খুলনা বিভাগ তথা দেশের ২৫০ শয্যা হাসপাতালের মধ্যে প্রথম চর্ম রোগের আধুনিক চিকিৎসা কার্যক্রম আমরা শুরু করেছি। প্রতি শনিবার অপারেশন করা হয়। শুরু করা হয়েছে চামড়া কেটে পরীক্ষার ব্যবস্থা। দেয়া হচ্ছে চুল পড়া রোগের চিকিৎসার পাশাপাশি মুখের চামড়ার ক্ষত স্থানের বাইরে ও ভেতরে ইনজেকশন। এসব চিকিৎসা বাইরের ক্লিনিক বা হাসপাতাল থেকে নিতে হলে একজন রোগীর কমপক্ষে ৩-১০ হাজার টাকা লাগত। স্কিনের বায়োপসি করতে ৭ হাজার, চামড়ার নিচে ইনজেকশন দিতে ৩ হাজার, নখের সার্জারি করতে ৫ হাজার এবং তিল, আঁচলি ও চামড়ার টিউমার অপারেশন করতে প্রয়োজন হয় ১০ হাজার টাকা। সেটি যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে আমরা বিনামূল্য সেবা দিচ্ছি। শিগগিরই চালু করা হবে ইলেকট্রনিক ও ক্রায়োসার্জারি চিকিৎসা।’
ডা. গোলাম মোর্ত্তজা আরো বলেন, ‘আমাদের এখানে পাঁচজন চিকিৎসকের জায়গায় তিনজন, ১০ জন কর্মচারীর জায়গায় পাঁচজন নিয়ে কাজ করছি। এসব জনবল পূর্ণ হলে এবং আধুনিক যন্ত্রপাতি এলে রোগীরা আরো ভালো মানের চর্ম রোগের চিকিৎসা পাবেন।’
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হারুণ অর রশিদ বলেন, ‘আমাদের হাসপাতালে চর্ম ও যৌন রোগের আধুনিক চিকিৎসা সেবা চালু হয়েছে। বিশেষ করে চর্ম রোগের চিকিৎসায় মানুষের সাড়া ফেলেছে এই হাসপাতাল। প্রতি মাসে কমপক্ষে তিন হাজার রোগী এখান থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করছেন। শিগগিরই আরো কিছু অত্যাধুনিক মেশিন চলে আসবে। তখন আধুনিক পদ্ধতির ইলেকট্রনিক ও ক্রায়োসার্জারি চিকিৎসা শুরু হবে।’










