দেশে মৌসুমি ফল উৎপাদনে পার্বত্য চট্টগ্রামের খ্যাতি দীর্ঘদিনের। আম, কাঁঠাল, লিচু, আনারস, কমলার পাশাপাশি কয়েক বছর ধরে পাহাড়ে চাষ হচ্ছে মাল্টা। চার বছরে পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে নতুন করে আরো ৩৪০ হেক্টর জমিতে মাল্টা চাষ বেড়েছে। এর বিপরীতে উৎপাদন বেড়েছে ৩ হাজার ১৭৪ টন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বেকার যুবক ও কৃষকদের পাহাড়ি অনাবাদি জমিতে মাল্টা চাষে উদ্বুদ্ধ করা গেলে পাহাড়ে মাল্টা চাষ আরো জনপ্রিয় হবে। এতে তারা কর্মসংস্থানের পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হবেন।

রাঙ্গামাটি সদর উপজেলার সাপছড়ি ইউনিয়নের বোধিপুর এলাকায় ২০১৬ সাল থেকে পরীক্ষামূলকভাবে মাল্টা চাষ শুরু করে ত্রিশরণ ফাউন্ডেশন নামে স্থানীয় একটি সামাজিক সংগঠন। প্রথম দিকে মাল্টা উৎপাদন কম হলেও এখন বেড়েছে। ত্রিশরণ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা জিনবোধি মহাথেরো বলেন, আমরা সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই এ সংস্থাটি প্রতিষ্ঠা করেছিলাম। ফাউন্ডেশনের আয়বর্ধক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে পাঁচ একর জমিতে বিভিন্ন ফলের আবাদ শুরু করেছি। এর মধ্যে মাল্টা চাষও ছিল। এখন মাল্টাসহ অন্যান্য ফল বিক্রির অর্থ দিয়েই ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার কাজে সহায়তা করা হচ্ছে।

খাগড়াছড়ির সদর উপজেলার মাল্টাচাষী সাহাব উদ্দিন জানান, তিনি চার একর জমিতে মাল্টা চাষ করেছেন। ৯০০ গাছের মধ্যে ৫০০টিতে ফল এসেছে। এতে সাড়ে পাঁচ টন মাল্টা উৎপাদন হয়েছে। মাল্টা চাষে পরিশ্রম অনেকাংশেই কম। জৈব সার আর নিয়মিত গাছে পানি দিতে পারলে ভালো ফলন পাওয়া যায়। রোগবালাই ও ঝরে পড়া কম এবং উৎপাদন ভালো হওয়ায় মাল্টা চাষ করে ভালো লাভ করা যায়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) রাঙ্গামাটি অঞ্চলের তথ্যমতে, গত চার বছরে পার্বত্য রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলায় ৩৪০ হেক্টর জমিতে মাল্টা চাষ বেড়েছে। একই সঙ্গে উৎপাদন বেড়েছে ৩ হাজার ১৭৪ টন। পাহাড়ি এ তিন জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি মাল্টা চাষ হয়েছে বান্দরবানে। বান্দরবানে চার বছরে ১ হাজার ৪২৭ হেক্টর জমিতে উৎপাদিত মাল্টার পরিমাণ ১৫ হাজার ৪৭৯ টন। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে খাগড়াছড়ি। এ জেলায় চার বছরে ১ হাজার ৩৬০ হেক্টর জমিতে মাল্টা উৎপাদন হয়েছে ৭ হাজার ২৫৫ টন। অন্যদিকে রাঙ্গামাটিতে ৬৪০ হেক্টর জমিতে উৎপাদন হয়েছে ২ হাজার ৭০১ টন।

খাগড়াছড়ি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মর্তুজ আলী বলেন, খাগড়াছড়ির পাহাড়ি এলাকার মাটি ও জলবায়ু মাল্টা চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় দিন দিন এ ফলের আবাদ বাড়ছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের মাল্টা চাষে চাষীদের উদ্বুদ্ধ করছি। ২০১৯-২০ অর্থবছরে খাগড়াছড়িতে বিগত কয়েক বছরের চেয়ে রেকর্ড পরিমাণ মাল্টা উৎপাদন হয়েছে। স্থানীয়ভাবে মাল্টা চাষ খাগড়াছড়ির মানুষের বিকল্প আয়ের উৎস হতে পারে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) রাঙ্গামাটি অঞ্চলের (রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান) অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ পবন কুমার চাকমা বণিক বার্তাকে জানান, পার্বত্য চট্টগ্রামের মাটি ও আবহাওয়া মাল্টা চাষাবাদের জন্য খুবই উপযোগী হওয়ায় দিন দিন এখানে মাল্টা চাষ বাড়ছে। তিন পার্বত্য জেলায়ই মাল্টা উৎপাদন হয়। এর মধ্যে বান্দরবানে বেশি। প্রথম দিকের চাষীরা সুমিষ্ট এ ফল চাষে সুফল পাওয়ায় তাদের দেখাদেখি অন্যরাও দিন দিন মাল্টা চাষে ঝুঁকছেন। পাহাড়ে বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ ছাড়াও অনেকেই শখের বশে বাড়ির আঙিনায়ও মাল্টা চাষ করছেন।